দেখতে দেখতে কেটে গেছে ছয়টি দশক। ১৯৬৬ সালের পর ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপের ট্রফিটা আর ঘরে তোলা হয়নি ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ডের। প্রতি আসরেই ‘ইটস কামিং হোম’ স্লোগানে মুখর থাকে ইংলিশ সমর্থকরা। তবে শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয় শূন্য হাতেই। তবে এবার আর খালি হাতে ফিরতে চান না থ্রি লায়ন্স অধিনায়ক হ্যারি কেইন। নিজের সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্মের ওপর ভর করে দীর্ঘ ৬০ বছরের সেই শিরোপা খরা কাটানোর মোক্ষম সুযোগ দেখছেন এই বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার।
ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে সর্বশেষ মৌসুমে অবিশ্বাস্য এক সময় পার করেছেন ৩২ বছর বয়সী কেইন। বায়ার্নের জার্সিতে ৫১ ম্যাচে করেছেন ৬১ গোল, যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগের যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। এছাড়া জাতীয় দলের জার্সিতেও এই মৌসুমে ৬ ম্যাচে তার ঝুলিতে আছে সমান ৬ গোল। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৫৭ ম্যাচে ৬৭ গোলের এক রাজকীয় সুখস্মৃতি নিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ মঞ্চে নামছেন ইংল্যান্ডের রেকর্ড গোলদাতা (৭৯)।
আইটিভি স্পোর্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কেইন বলেন, ‘আমি এখন যে ফর্মে আছি এবং এই মৌসুমে যেভাবে খেলেছি, তাতে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য সম্ভবত আমার পুরো ক্যারিয়ারে এটিই সেরা সুযোগ। ৬০ বছর ধরে আমরা ইংল্যান্ডের জার্সিতে কিছু জিতিনি। তবে বারবার আমরা সাফল্যের দরজায় কড়া নেড়েছি। এবার সেই রেখা অতিক্রম করার সময় এসেছে।’
২০১৮ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা কেইন আরও বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টই ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট হতে পারে, ফুটবলে কিছুই বলা যায় না। আমি অনেকদিন খেলতে চাই।’ অতীতে ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং গত দু’টি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি ইংলিশদের। তবে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার চাকা ঘোরানোর পালা।
আগামী ১৭ই জুন রাতে লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ইংল্যান্ডের বিশ্বজয়ের নতুন মিশন। ‘এল’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ঘানা ও পানামা।
