যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বন্দিবিনিময় চুক্তি মানছে না ভারত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি থাকলেও কার্যত সেটি মানছে না ভারত। দেশটির সরকার মূলত ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট (থ্রি ডি পদ্ধতি) অনুসরণ করছে। বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। গত কয়েকদিনে বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টার কারণে সীমান্ত এলাকায় একাধারে আতঙ্ক ও অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লষকরা ভারতের এমন আচরণকে গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস হিসাবে দেখছেন।
তারা বলছেন, বন্দি বিনিময় চুক্তি না মেনে এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার উপক্ষো করে সীমান্তে ঘটা করে পুশইনের চেষ্টা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ হতে পারে। ভূরাজনৈতিকভাবে ভারত কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চাইছে কিনা তা নিয়েও সংশয় আছে তাদের। ইতোমধ্যেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ কোনোভাবেই পুশইন মেনে নেওয়া হবে না জানিয়েছেন। কূটনীতিক শিষ্টাচার ও চুক্তি অনুযায়ী যথায়থ নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া শেষে সিদ্ধান্তে আসতে বলেও মন্তব্য করেছেন।
ঢাকা-দিল্লির আগামীর সম্পর্কে তিস্তা চুক্তি, গঙ্গা পানি চুক্তি, বাণিজ্য ভারসাম্য, ভিসা ইস্যু, ইন্দোপ্যাসিফিকের কৌশলগত অবস্থানের চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এ অবস্থায় সীমান্তে পুশইনের মতো অস্থিরতা তৈরি করে ভারত অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে দেশের নানা মহলে।
রাশিয়ায় সফররত প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইন কোনোভাবেই মানা হবে না। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক যত নিয়ম ও আইন আছে তার সবটাই অনুসরণ করবে। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। ইতোমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সূত্র জানায়, ভারতে অবৈধভাবে কোনো বাংলাদেশি অবস্থান করলে বা কোনো অপরাধ তার দ্বারা সংঘটিত হলে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নানা প্রক্রিয়া ও ধাপ আছে। তাকে গ্রেফতার করে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দেশে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নাগরিকত্ব যাচাই এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসন করতে হয়। ভারতের আদালত অবৈধ নাগরিকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। এরপর দেশটির পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই ব্যক্তির নাম, বংশতালিকা এবং পারিবারিক বিবরণ সংগ্রহ করে। পরবর্তী সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়।
এরপর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রশাসন তদন্ত করে দেখে যে, উক্ত ব্যক্তি আসলেই বাংলাদেশের নাগরিক কিনা। তদন্তে ব্যক্তি বাংলাদেশি প্রমাণিত হলে ভারতে অবহিত হাইকমিশন বা কনস্যুলেট অফিস থেকে তার জন্য স্থায়ী ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়। নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি ও বিএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে একটি নির্ধারিত ল্যান্ডপোর্ট বা সীমান্ত চেক পোস্টের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এসব কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সীমান্তে পুশইনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দিল্লিকে ১৩ বার চিঠি দিয়েছে ঢাকা। তারপরও থেমে নেই পুশইনের চেষ্টা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কেন এভাবে ভারত প্রতিদিন পুশইন করার জন্য শত শত মানুষকে সীমান্তে এনে জড়ো করছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পুশইনের জন্য আনা সবাই আবার মুসলিম।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ে গবেষক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, ভারত পুশইন করছে সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আমরা যা দেখছি না তা হলো এর পেছনে হয়তো কোনো বিশেষ ধরনের উদ্দেশ্য বা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা আছে। ভারত হয়তো এর মধ্য দিয়ে তার অন্য কোনো স্বার্থের কথা, ইচ্ছা বা পছন্দের কথা জানাতে চাইছে। সাধারণত কূটনীতিতে যখন বৈঠক হয় তখন অনেক কথা সাবলীলভাবে বলা হয়। আবার অনেক সময় বৈঠক না করেও ভিন্ন স্টাইলে আরেকটা বোঝাতে চায়। এ ঘটনায় মনে হচ্ছে, ভারত ভিন্ন কোনো বার্তা দিচ্ছে। ঢাকাকে কোনো বিশেষ কাজ হয়তো করতে বলছে বা করতে নিষেধ করছে। সেটি হয়তো তাদের মতো করে সরকার রেসপন্স করছে না, সেজন্য পুশইন করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তবে পুশইন একটি অমানবিক বিষয়। ভারত এর আগেও পুশইন করেছে। আওয়ামী লীগের সময়ে সেটা বন্ধ ছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে আবার পুশইন শুরু করেছে। এটি বিজেপির মুসলিমবিরোধী কর্মসূচি। আগেও ছিল, এখন ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে বলে মনে হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের প্রাক্কালে বাংলাদেশ বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব ছড়িয়ে দিতে একটি মহল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য এসেছে। ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে প্রতিনিয়িত এমন কথাও চাউর আছে।
ব্রি. জে. মো. বায়েজিদ সরোয়ার (অব.) বলেন, ১৯৯২ সালে ভারত প্রথম পুশইন পরিচালনা করে। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর উভয় দেশের সরকারই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘পুশইনকাণ্ড’ দুর্ভাগ্যজনক। বিএনপি সরকার গঙ্গার পানিচুক্তি, তিস্তার পানিবণ্টনসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন ঘটনার আগে দরকষাকষির ক্ষেত্রে চাপ তৈরির জন্য পুশইনের ঘটনা বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, আরেকটি হতে পারে এ বিষয়ে বাংলাদেশের মনোভাব ও সহ্য ক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। যেভাবেই হোক পুশইনে বাধা দিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে ব্যাপক হারে পুশইন হতে পারে। এর আগে মিয়ানমার সীমান্তে আমাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আছে। পুশইনের সঙ্গে ভারতের বিজেপি সরকারের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষয়ও জড়িত। এর পেছনে আরও গভীর কোনো বিষয় আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা দরকার, গভীর পর্যবেক্ষণ করাও প্রয়োজন।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিক প্রবেশ করলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। প্রবেশকারী ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি নাগরিক হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো ধরনের পুশইন হয়নি। প্রতিটি ঘটনা বিজিবি রুখে দিয়েছে।
প্রথম আলো
‘করের চাপ বাড়বে, থাকবে কিছু ছাড়ও’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আদায়ে বেশ বড়সড় ঘাটতি হচ্ছে। তাই প্রতিবারের মতো আগামী বাজেটেও শুল্ক-কর আদায়ে মরিয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কারণ, বাজেটের বাড়তি খরচের জোগান দিতে হবে তাদের। একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন বাস্তবায়ন শুরু হবে ১ জুলাই। অন্যদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার এক লাখ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে এক লাখ কোটি টাকা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে এনবিআর বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুল্ক-কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কিছু ক্ষেত্রে বাড়তে পারে।
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। আবার ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে।
ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোক্তাদের জন্য নানা খাতে করছাড়ও রাখা হতে পারে আগামী বাজেটে। তবে খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতার ওপর অগ্রিম কর বসতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্ক-কর কমবে। মূল্যস্তর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলে সিগারেটের দাম বাড়তে পারে।
এ ছাড়া নিয়মনীতিগুলো ব্যবসাবান্ধব করতে ‘ডি-রেগুলেশন’ নিয়ে বাজেট বক্তৃতায় একটি অনুচ্ছেদ রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। সেখানে ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়নের মেয়াদ পাঁচ বছর করা হতে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, অর্থনীতি সচল রাখতে আগামী বাজেটে শুল্ক-কর প্রস্তাবগুলো ব্যবসাবান্ধব হওয়া উচিত। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সমাজের নিম্নস্তরে থাকা সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে হবে। বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে চাঙা হয়, সে জন্য একদিকে শুল্ক-করে ছাড় দিতে হবে, অন্যদিকে কর দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা দরকার।
মোহাম্মদ আবদুল মজিদের মতে, এনবিআর নিজেই বাজেটের শুল্ক-কর প্রস্তাবগুলো তৈরি করে। যখন এসব প্রস্তাব তৈরি করা হয়, তখন বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য সামনে রেখে শুল্ক-করের হার কমানো বা বাড়ানো হয়। ছোটখাটো বিভিন্ন খাতে উৎসে কর বসিয়ে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের কর্মকর্তাদের যে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা আছে, তা থেকে সরে আসতে হবে।
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকায় উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। পরের দুই বছর করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা থাকবে—এমন ঘোষণাও থাকবে। ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমার একটি রূপরেখা দেওয়া হতে পারে বাজেট বক্তৃতায়।
সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতা, তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা, গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা, গেজেটভুক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর আহত জুলাই যোদ্ধা করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমাও বাড়বে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা-পিতা বা আইনানুগ অভিভাবকের প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমাও বাড়বে।
আগামী অর্থবছর থেকে বছরজুড়েই রিটার্ন দেওয়া যাবে, বাজেটে এমন ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। তাতে বছরের শুরুতে রিটার্ন দিলে থাকবে করছাড়ের সুবিধা। আর দেরিতে রিটার্ন দিলে তার জন্য ৫ হাজার টাকা বা প্রদেয় করের ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপের বিধান থাকতে পারে।
কালের কণ্ঠ
‘পণ্যের দাম কমার পাল্লাই ভারী’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিনিয়োগ-কর্মসংস্থানহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতির কঠিন সময় পার করছে দেশের মানুষ। ঠিক এ রকম সংকটকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা রাত পোহালেই।
প্রধানমন্ত্রী চান অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে জিনিসপত্রের দাম না বাড়ুক। মানুষ লাগামহীন উচ্চমূল্য থেকে মুক্তি পাক। তাঁর এই চাওয়া থেকেই তৈরি হয়েছে এবারের বাজেট। ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এমনভাবে শুল্ক-করের হার বিন্যাস করেছে যে পণ্যের দাম কমার পাল্লাই ভারী।
কিন্তু সংস্থাটির সার্বিক কর আরোপ চলতি অর্থবছর থেকেও প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বেশি। ফলে বেশির ভাগ পণ্যে শুল্ক ছাড় দিয়েও কিভাবে বেশি রাজস্ব আদায় করবে এনবিআর—এমন প্রশ্নের জন্ম দিতে প্রশ্নের জন্ম দিতে যাচ্ছে সংস্থাটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি অনেকটা গোলকধাঁধার মতো। কারণ বিপুল পণ্যে করছাড়।
জানা গেছে, কোনো সুস্পষ্ট ‘রোডম্যাপ’ ছাড়াই আসছে বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। আর এটিই বুমেরাং হতে পারে বাজেট বাস্তবায়নে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের আগাম তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ ও জনতুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছাড় দিয়েছে। এবারের বাজেটে গতানুগতিক ধারা ভেঙে দাম কমার তালিকাই দীর্ঘ।
এতে বাস্তবে কতটুকু দাম কমবে, সেটি অবশ্য প্রশ্নসাপেক্ষ। তার পরও এই কমানোর প্রচেষ্টাকে বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যেটা দেখি, বাজেট মানেই আতঙ্ক। দাম বাড়ার একটা হিড়িক পড়ে যাওয়া। দাম না বাড়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে এটা একটা বড় দিক হবে। তবে সিগারেট, সিকোটিন ও মদের মতো স্বাস্থহানি ঘটায় এমন পণ্যের দাম বাড়া উচিত। নিত্যপণ্যের দাম না বাড়লে মানুষ স্বস্তি পাবে। সরকারেরও নির্বাচনের সময় বাজারে দাম সহনীয় মাত্রায় রাখার অঙ্গীকার ছিল। এটা করতে পারলে সরকার মানুষের কাছে বাহবা পাবে। আর রাজনীতিবিদদের কথার প্রতি মানুষ আশ্বস্ত হবে।’
জানা গেছে, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য সংগতি রেখে বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা আদায়ের চাপ। বিগত অর্থবছরের অর্জন ও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ এখন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি। দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগে খরা থাকায় বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বাড়ছে। ফলে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার একটা চাহিদা আছে। সেটা মাথায় রেখে সম্ভবত সরকার বিভিন্ন রকমের শুল্ক-কর ছাড়ের ঘোষণা দিচ্ছে; যদিও শুধু শুল্ক-কর ছাড়ই বিনিয়োগ বাড়ানোর একমাত্র নির্ণায়ক নয়। সেই সঙ্গে ব্যাংকের সুদের হার, জ্বালানি সরবরাহ, জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখা, লাইসেন্স ও নিবন্ধন পাওয়ার বিষয়গুলো সহজ করে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। এই বিষয়গুলোও একই সঙ্গে জরুরি।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘পুশইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণহানি, গুলির ঘটনা নিয়ে সমালোচনা দীর্ঘদিনের। এরপরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা। প্রাণহানির ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। তবে সম্প্রতি পুশইন (ঠেলে পাঠানো) সীমান্তে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনও বেআইনিভাবে পুশইনের চেষ্টার সমালোচনা করছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই গত সোমবার থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে চার দিনের সীমান্ত সম্মেলন। দুই বাহিনীর মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের এই আলোচনায় পুশইন-পুশব্যাক ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন চলাকালেও পুশইনের চেষ্টা থেমে নেই। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিজিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, চলমান সীমান্ত সম্মেলনে পুশইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় বাংলাদেশের তরফে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এবারের আলোচ্যসূচির প্রধান বিষয় পুশইন ইস্যু।
গত ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামের রৌমারী, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সীমান্তে অন্তত ১০টি এলাকা দিয়ে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। এসব পয়েন্ট দিয়ে তারা শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর আবার পুশইনের চেষ্টা শুরু করে বিএসএফ। এই দফায় ৩০ মে যশোর সীমান্ত হয়ে প্রথম ১৩ জনকে এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এর পর থেকে গত ১০ দিনে সীমান্তের ৩৬টি পয়েন্টে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবি বলছে, শক্ত নজরদারি ও প্রতিরোধের কারণে একজনকেও ঠেলে পাঠানো সম্ভব হয়নি। ঠেলে পাঠানো মোকাবিলায় অনেক স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থানে ছিল। ২০২৬ সালে কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করতে পারেনি।
বিজিবির একাধিক সূত্র বলছে, পুশইনের ঘটনায় বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন থেকে একাধিক প্রতিবাদলিপি বিএসএফকে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া চলমান সীমান্ত সম্মেলনে পুশইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের প্রস্তাবনার বিষয়টি বিজিবির পক্ষ থেকে আলোচনায় আছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারণার অন্যতম বিষয় ছিল কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করা। বিজেপি সেখানে জয়লাভের পর পুশইনের বিষয়টি নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে– এটি তারা দেখাতে চায়।
এমদাদুল ইসলাম আরও বলেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যখন আমরা আশ্রয় দিয়েছিলাম, তখন তাদের পুশব্যাকের চেষ্টা করা হয়নি। কারণ, আমরা সব সময় রোহিঙ্গা সংকটকে কূটনৈতিকভাবে সমাধান বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছি। এ ছাড়া ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করার মতো অবস্থায় আমরা ছিলাম না।
ইত্তেফাক
‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মূল প্রভাব জ্বালানি, সার ও মূল্যস্ফীতিতে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ‘তাত্ক্ষণিক’ ও ‘সম্ভাব্য’ উভয় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এখন পর্যন্ত এ প্রভাব প্রধানত জ্বালানি, সার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বেশি দৃশ্যমান। তবে খাতভিত্তিক প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ভরযোগ্যভাবে নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার তথ্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তরে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে তেল, গ্যাস, বিদ্যুত্ ও সার খাতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত শুধু এ চার খাতে প্রায় ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে।
মন্ত্রী জানান, চার খাতের মধ্যে তেলে প্রায় ১০ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা, গ্যাসে ১১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, বিদ্যুতে ১৯ হাজার ৮২১ কোটি টাকা এবং সারে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তা সত্ত্বেও সরকার সাধারণ জনগণ, কৃষি ও উত্পাদন খাতকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
আমির খসরু মাহমুদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় ও উত্পাদন ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিদ্যুত্, পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতের ব্যয় বাড়াতে পারে, যা পরোক্ষভাবে বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয়প্রবাহের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সরকার এ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি আমদানির উত্স বহুমুখীকরণ, স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এবং বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। খাতভিত্তিক ক্ষতির নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
খেলাপি ঋণ, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ
সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ রবিউল বাশারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার এবং প্রভাবশালী মহলের অনিয়মিত ঋণ গ্রহণজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা দিয়েছে। যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে অসমর্থ ঋণগ্রহীতাদের ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে বিআরপিডি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, যেসব ব্যাংকে শ্রেণীকৃত ঋণের হার বেশি, সেসব ব্যাংকের জন্য শ্রেণীকৃত ঋণ নিষ্পত্তি কৌশল (রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি) সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) আইনে সংজ্ঞায়িত ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরপিডি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ঐ নীতিমালার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে গৃহীতব্য ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘রাজনৈতিক অস্থিরতায় ঘি ঢালছে নিষিদ্ধ আ’লীগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে কার্যত রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। খুন হত্যা ধর্ষণ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে সেখানে যখন তখন লাশ পড়ছে, খুন হচ্ছে, ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কাজ করছে। এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগীরা অর্থনৈতিক সেক্টরকেও অস্থিতিশীল করতে তৎপরতা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং জগতের আইকন ইসলামী ব্যাংককে ধসিয়ে দিতে কৌশলে ফ্যাসিস্ট সরকারের লুটেরাগোষ্ঠী কলকাঠি নাড়ছে।
অপরদিকে পান থেকে চুন খসলেই ফ্যাসিস্ট আমলের এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী গোষ্ঠী সেগুলো ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে চটকদার ফটোকার্ড তৈরি করে কিংবা সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণে কন্টেন্ট ক্রিয়েট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিয়ে হাইপ তুলছে। আবার কখনো কখনো মিথ্যা তথ্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করার জন্য নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কট্টোর সমর্থক ও নেতাকর্মীরা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নজিরবিহীন পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও একের পর এক ইস্যু তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোরনীতির কারণে তাদের সেই তৎপরতা ওই সময় বেশিদূর এগোতে পারেনি। গেল ১২ ফেব্রুয়ারি পতিত আওয়ামী লীগবিহীন অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করে। আর পতিত দলটি রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত করার জন্য লোকবল সঙ্কটে এখন সোশ্যাল মিডিয়াকে বেছে নিয়েছে। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ভুয়া ফটোকার্ড ও বিতর্কিত কন্টেন্ট তৈরি করে নামে বেনামে গুজব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু কিছু ঘটনাও রঙ চঙ লাগিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিয়ে হাইপ তোলা হচ্ছে। এসব কন্টেন্ট দেখে রাজনৈতিক অঙ্গন প্রায়শ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করতে পতিত দলটি আলোচনায় থাকার কৌশলের পথ বেছে নিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের দেশে ও বিদেশে অবস্থান করা পলাতক নেতাকর্মীরা অন্তত দেড় হাজার থেকে দুই হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করছে। দেশের অভ্যন্তরে খুন, হত্যা ধর্ষণ কিংবা মব ভায়োলেন্সের মতো কোনো ঘটনা ঘটার আগেই ওইসব ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো আগে থেকেই সক্রিয় থাকে। ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে গুজব ছড়িয়ে ঘটনাকে ভিন্নমাত্রা দেয়ার জন্য একটি হাইপ তুলে দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যাসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা গণমাধ্যমসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। বায়ান্ন নিউজ নামে একটি পেজ থেকে গত ২০ মে ‘অব্যাহত জবাই, ধর্ষণ! ২ দিনে ৪ সংখ্যালঘুসহ প্রায় ১ ডজন মানুষ জবাই! ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে জবাই! কি হচ্ছে দেশে? কি ঘটতে যাচ্ছে?’ এই শিরোনামে একটি ফটোকার্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়া হয়। ২৮ মে ‘ঢাকায় ৩০ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া দম্পতিসহ ১৩ লাশ’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে দেখা যায়।
বণিক বার্তা
‘প্রভাব পড়বে কৃষি, শিল্প কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য পরিবহন ব্যয়ে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের নৌপথে বিভিন্ন সেবার শুল্কহার বাড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। আগামী ১ জুলাই থেকে এ নতুন ট্যারিফ কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে নৌপথে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়বে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে সর্বশেষ শুল্কহার বাড়ানো হয়েছিল। সম্প্রতি নৌপথ থেকে মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে শুল্কবৃদ্ধির প্রস্তাব আসে। প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ১৯৫৮ (১৯৫৮ সালের ৭৫ নম্বর অধ্যাদেশ)-এর ১৯ (৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক আদায়যোগ্য ভাড়া, টোল, কর, ফি, অন্যান্য চার্জ পুনর্নির্ধারণ করে নতুন ট্যারিফ তফসিল চূড়ান্ত করে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে গত ১২ মে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়।
২০১৯ ও ২০২৬ সালের ট্যারিফ তফসিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, নৌপথে পণ্য পরিবহন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চার্জে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিআইডব্লিউটিএ। নৌযান, বন্দর, ঘাট, পণ্য ওঠানামা, বার্থি, মুরিং ও নৌপথ ব্যবহারের চার্জ বৃদ্ধির নতুন হার কার্যকর হলে নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব পড়তে পারে নির্মাণসামগ্রী, কৃষি, শিল্প কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য পরিবহন ব্যয়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম দুই দফায় বৃদ্ধিতে নৌ-পরিবহনে ভাড়া বেড়েছে। এখন ঘাট-পয়েন্ট পর্যায়ে পণ্য খালাসে শুল্কহার বাড়ানোর ফলে ইজারাগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের ওপর বাড়তি অর্থ যুক্ত করবে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ট্যারিফ কার্যকর হলে বিভিন্ন সেবায় গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ শুল্ক বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা। তবে কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কহার তুলনামূলক বেশি বেড়ে যাওয়ায় দেশের কৃষি ও ভোগ্যপণ্য খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
দেশীয় কার্গো, বাল্কহেড, ফেরি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি নৌযানের কনজারভেন্সি চার্জ ২০১৯ সালে প্রতি গ্রস টনে বার্ষিক শুল্ক ছিল ৪০ টাকা। নতুন নিয়মে একই ধরনের দেশীয় কার্গো/বাল্কহেড/ফ্ল্যাট/ফেরি শ্রেণীর চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি গ্রস টনে ১০০ টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধির হার ১৫০ শতাংশ। বিদেশী পতাকাবাহী পণ্যবাহী নৌযানের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালে চার্জ ছিল প্রতি গ্রস টনে ২১০ টাকা, নতুন ট্যারিফ কাঠামোয় তা ৮০০ টাকা। এক্ষেত্রে শুল্ক বেড়েছে প্রায় ২৮১ শতাংশ। নৌযানের পাইলটেজ ফি প্রতি বিট ৫০০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। পাইলটেজ ফি বৃদ্ধিতে চট্টগ্রাম থেকে চরগজারিয়া/আজাদ বাজার পর্যন্ত নৌপথকে চার বিট হিসেবে গণনা করায় ওই রুটে ব্যয় আরো বাড়বে। এতে পণ্যবাহী বড় নৌযান ও বাল্ক কার্গো পরিবহনের খরচ ট্রিপপ্রতি অনেকটা বেড়ে যাবে।
নতুন বর্ধিত শুল্কহারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বার্থিং চার্জ। ২০১৯ সালে পণ্যবাহী নৌযানের জন্য টনভিত্তিক একাধিক স্তর ছিল। ওই সময়ে ৫০ টন পর্যন্ত নৌযানের জন্য ১২৫ টাকা, ৫১-১০০ টনে ১৫০, ১০১-২৫০ টনে ১৭৫, ২৫১-৫০০ টনে ২০০, ৫০১-৭৫০ টনে ২৪০, ৭৫১-১,০০০ টনে ৩১৫, ১,০০১-১,৫০০ টনে ৪০০, ১,৫০১-২,০০০ টনে ৫৭৫, ২,০০১-২,৫০০ টনে ৮৫০, ২,৫০১-৩,০০০ টনে ১ হাজার ১২৫ এবং তিন হাজার টনের ঊর্ধ্বে ১ হাজার ৬৮০ টাকা ছিল। কার্যকর হতে যাওয়া নতুন শুল্কহারে ৫০০ টন পর্যন্ত ৩০০ টাকা, ৫০১-১,০০০ টনে ৫০০, ১,০০১-২,৫০০ টনে ১ হাজার এবং ২ হাজার ৫০০ টনের ঊর্ধ্বে চার্জ ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফলে মাঝারি আকারের নৌযানে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়বে সবচেয়ে বেশি। মাঝারি পণ্যবাহী নৌযানের শুল্কহার ১০৮ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘৯৬% অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না শিশুদের শরীরে’। খবরে বলা হয়, বিভিন্ন জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠা নিয়ে একের পর এক খবরের মধ্যে চিকিৎসকদের উদ্বিগ্ন করেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের এক গবেষণা। এতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালটির শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) প্রথম সারির প্রায় সব অ্যান্টিবায়োটিকই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
রামেক হাসপাতালের পিআইসিইউতে পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুদের শরীরে ৯৬ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিকই কাজ করছে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা বলছেন, তাঁদের হাতে কার্যত ‘শেষ অস্ত্র’ হিসেবে আছে মাত্র দুটি অ্যান্টিবায়োটিক।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাস ধরে পরিচালিত হয় এ গবেষণা। এতে পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ৪৯টি শিশুর শরীর থেকে জীবাণু সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৩০টি জীবাণু গ্রাম-নেগেটিভ ও ১৯টি গ্রাম-পজিটিভ। সবশেষ এপ্রিল মাসে সংগৃহীত প্রতিটি গ্রাম-নেগেটিভ জীবাণু ছয়টি প্রথম সারির অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এ অবস্থায় সেখানকার চিকিৎসকদের হাতে বাকি রয়েছে মাত্র দুটি অস্ত্র—টাইজেসাইক্লিন ও কলিস্টিন।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সহগবেষক হিসেবে ছিলেন ডা. ওয়াহিদা খাতুন, ডা. নাসরিন সুলতানা, ডা. সুলতানা আক্তার, ডা. শামীমা নাসরিন ও ডা. সিরাজুম মুনির। গবেষণাটি জার্নাল অব টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিককালে পিআইসিইউতে থাকা শিশুদের শরীরে একের পর এক অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগেও কোনো সুফল না পেয়ে গবেষণাটি করার সিদ্ধান্ত নেন ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
গবেষণায় দেখা গেছে, পিআইসিইউতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটাচ্ছে অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি কমপ্লেক্স নামের জীবাণু। এটি মোট সংগৃহীত জীবাণুর ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ বা ১২টি। এর পরের অবস্থানে আছে ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ (৮টি) এবং স্ট্যাফাইলোকক্কাস হিমোলিটিকাস ১২ দশমিক ২ শতাংশ (৬টি)।
আক্রান্ত শিশুদের শরীরে অন্যান্য জীবাণুর মধ্যে ই. কোলাই ৬ দশমিক ১ শতাংশ, সুডোমোনাস অ্যারুজিনোসা ৪ দশমিক ১ শতাংশ, সেরাশিয়া মারসেসেন্স ৪ দশমিক ১ শতাংশ, স্ফিংগোমোনাস পসিমোবিলিস ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং এলিজাবেথকিংগিয়া মেনিনগোসেপ্টিকা ২ শতাংশ পাওয়া গেছে।
দেশ রূপান্তর
‘বাজেটে করহার না বাড়িয়ে আওতা বাড়াবে সরকার’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে করহার না বাড়িয়ে কর আহরণের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে। শুধু নতুন অর্থবছর নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত ৫ বছর বিদ্যমান করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে। এমনকি এ সময়ের মধ্যে তুলনামূলক বেশি করের আওতায় থাকা খাতের করহার পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানা যাচ্ছে।
তবে রাজস্ব আয় বাড়াতে দেশের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের জালের আওতায় আনা হচ্ছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সরকার ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও কৃষিপণ্যে কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উৎসে কর হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামীকাল ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বাজেট বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরবেন। বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের তুলনায় বাজেটে সবার সুখ-দুঃখের কথা বিবেচনা করা হয়েছে।
জানা গেছে, নতুন অর্থবছরে সরকারের ব্যয়ের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বিশাল এ ব্যয়ের বিপরীতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে আয়ের ঘাটতি থাকবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোট টাকা। এ ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ব্যাংক ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ করতে হবে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, করের হার বৃদ্ধি নয় বরং করের ভিত্তি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য সরকার খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করবে। খুচরা বিক্রেতাদের নিকট থেকে সংগৃহীত এ এগ্রিম করের পরিমাণ হবে যৎসামান্য, যা প্রতি হাজারে ২ টাকা। তবে সংগৃহীত এ আয়কর করদাতার প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় হবে। এর মাধ্যমে করভিত্তি সম্প্রসারণ হবে বলে সরকার আশা করছে।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকার শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব, নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট ও বোর্ড কর্তৃক গেজেট দ্বারা টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা হতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত, অন্য যেকোনো ব্যক্তির, ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ দাখিল করার বিধান প্রস্তাব করা হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘সীমান্তে আতঙ্ক, দিল্লিতে বৈঠক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের লাগাতার পুশইন চেষ্টায় সীমান্তে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), অন্যদিকে সীমান্তে নিয়মিতই পুশইনের চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। গতকালও জামালপুর ও কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া রবিবার গভীর রাতে পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশইন করা ১০ জনকে ৬৯ ঘণ্টা পর ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ। পুশইনের অপতৎপরতা ঠেকাতে সীমান্তে বাড়তি বিজিবি মোতায়েন করেছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌথ পাহারায় নেমেছে বিজিবি ও গ্রামবাসী।
পুশইনসহ সীমান্তের নানা জটিলতা নিয়ে দিল্লিতে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। গতকাল দিল্লির লোদি রোডের বিএসএফ সদর দপ্তরে শুরু হওয়া বিজিবি-বিএসএফ ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের এ বৈঠক চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। বৈঠকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পানি মন্ত্রণালয় ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সেক্টর কমান্ডাররা অংশ নিচ্ছেন।
বৈঠক প্রসঙ্গে গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের জন্য সবার অপেক্ষা করা উচিত। যেসব অবৈধ অভিবাসী নো ম্যানস্ ল্যান্ডে (সীমান্তের শূন্যরেখায়) আটক রয়েছেন সেই বিষয়ে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না। বাংলাদেশিসহ সব অবৈধ অভিবাসীর বিরুদ্ধে ভারতীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২ হাজার ৮৬০ জন অবৈধ অভিবাসীর তালিকা বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা পাঁচ বছর পুরোনো। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই তালিকা তারা (বাংলাদেশ) চিহ্নিত করেনি। যদি বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে জটিলতা দেখা দেবে।
এদিকে গতকালও দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। শুধু জামালপুর ও কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ। বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে জামালপুর ৩৫-ব্যাটালিয়ন বিজিবির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত সজাগ এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ রুখতে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
