বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ও এখতিয়ারবহির্ভুত বলে ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। তবে ট্রাম্প এই ঘোষণাকে শুধু লজ্জাজনক বলে সমালোচনা করেই থামেননি। তিনি পাল্টা আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন। বিচারকদের রায়ে তিনি হতাশ এমনটাও জানিয়েছেন।
এহেন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে- আদালতের নির্দেশ যা এলো তাতে কি এত দিনের শুল্ক বাবদ আয়ের টাকা ট্রাম্প প্রশাসনকে ফেরত দিতে হবে?
তবে বিষয়টিকে এতটা সহজ বলে মনে করছেন না মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের উপর আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। আদালত সেটিকে অবৈধ বলেছে। ফলে টাকা ফেরত পাওয়ার রাস্তাও দীর্ঘ হতে পারে।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক থেকে ১৩.৩৫ হাজার কোটি ডলার আয় করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন আদালতের তরফে ট্রাম্পের শুল্ককে এখতিয়ারবহির্ভূত বলা হলেও টাকা আদায়ের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞেরা আরও বলছেন, ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কবাবদ টাকা ফেরত পেতে চাইলে তাদের মামলা করতে হবে।
জানা গেছে, ইতিমধ্যেই এমন প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর হাজারের বেশি সংস্থা টাকা ফেরতের জন্য আইনি লড়াই শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আগামী পাঁচ বছর ধরে আমাদের সকলকে কোর্টের চক্কর কেটে বেড়াতে হবে।’’
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১২২ নম্বর ধারার অধীনে আরোপিত স্বাভাবিক শুল্কের উপরে ১০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শুল্ক তিনি আরোপ করছেন। এবং এটি আরও বাড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারার কথা উল্লেখ করলেও এটি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বেশি দিন টিকবে না। সর্বোচ্চ ১৫০ দিন এই শুল্ক কার্যকর হতে পারে। তারপরও এটি রাখতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে।
