রাশিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মস্কোর সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জবাবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি তার সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে মস্কো সফররত ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সের্গেই ল্যাভরভের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরো পরিসর নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে।
বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান রাশিয়ায় আটকে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে রুশ সরকারের সহায়তা কামনা করেন। এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন ল্যাভরভ।
বৈঠকে দুই মন্ত্রী শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, গবেষণা ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটন, পরিবহন এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করেন। এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ ও গভীর করার বিষয়ে তারা একমত হন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য রাশিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত (ডিএফকিউএফ) প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানান। তিনি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে রুশ বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বানও জানান। বিশেষ করে হালকা ও ভারী প্রকৌশল, খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত উৎপাদন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের (ইইসি) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে রাশিয়ার সমর্থন চান ড. খলিলুর রহমান। এছাড়া ব্রিকস ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রেও রাশিয়ার সমর্থন কামনা করেন। এ বিষয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন বলে জানানো হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করায় রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট চালু করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
জনশক্তি খাতের সহযোগিতাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। দুই মন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ঝুলে থাকা বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর জোর দেন। এর মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি (রিডমিশন অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং মানবসম্পদ চুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আশ্রিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে রাশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রোহিঙ্গা সমস্যার একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে রাশিয়া সহায়তা করতে আগ্রহী বলে জানান ল্যাভরভ।
এ সময় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। ড. খলিলুর রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। দুই নেতা ২০২৭ সালে বাংলাদেশ-রাশিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে যৌথ উদ্যোগে কর্মসূচি পালনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সের্গেই ল্যাভরভ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় বাংলাদেশের প্রার্থিতায় রাশিয়ার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মস্কোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ড. খলিলুর রহমান তার রুশ সমকক্ষকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
খলিল–ল্যাভরভ বৈঠক
রাশিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে সহায়তা চাইল বাংলাদেশ
কূটনৈতিক রিপোর্টার
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
৯ জুন (মঙ্গলবার), ২০২৬, ১২ঃ২৬ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
