১৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের মাটিতে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল। দ্বিপক্ষীয় এই ওয়ানডে সিরিজকে ঘিরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তুমুল উত্তেজনা। অজিদের বিপক্ষে এই লড়াইকে কঠিন পরীক্ষা মানলেও ভালো শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
গতকাল মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই, আমরা সবাই অনেক এক্সাইটেড যে আফটার লং টাইম আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ খেলছি এবং এজ এ ক্যাপ্টেন হিসেবে আমিও অনেক এক্সাইটেড। আমার কাছে মনে হয় এটা আমাদের জন্য একটা ভালো একটা চ্যালেঞ্জ শুরু হতে যাচ্ছে এবং আমার কাছে মনে হয় যদি আমরা ভালো স্টার্টটা করতে পারি তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে। কারণ প্রত্যেকটা চ্যালেঞ্জই আমাদের জন্য অনেক ইম্পরট্যান্ট।’ ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা , ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও কিউইদের হারিয়ে টানা ৪ টি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ড রয়েছে টাইগারদের। এবার ৫ নম্বর সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী মিরাজের দল।
বিগত বছরগুলোর প্রথাগত স্পিন স্বর্গের ধারণা বদলে মিরপুরের উইকেট এখন পেসারদের পক্ষে কথা বলছে। চলতি বছরের ৬ টি ওয়ানডে ম্যাচের ৫ টিতেই মিরপুরে পেসাররা ২২.৬০ গড়ে ৬৯ টি উইকেট শিকার করেছেন, যেখানে স্পিনারদের ঝুলিতে গেছে ৩৫.৫০ গড়ে মাত্র ২৬ উইকেট। এই কন্ডিশন বিবেচনা করে দীর্ঘ বিরতির পর ওয়ানডে দলে ফিরছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ঘরোয়া লীগে দুর্দান্ত পারফর্ম করা এই অলরাউন্ডার প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, ‘ও ডমিস্টিক এ অনেক বছর ধরে পারফর্ম করছে এবং খুব ভালো ক্রিকেটও খেলছে, শেপেও আছে। আমার কাছে মনে হয় দিস ইজ দা রাইট টাইম যে ওকে নেওয়া হয়েছে এবং আমাদের যে জায়গাটা আমরা চিন্তা করেছি, সেই জায়গাটা যদি ও ভালো করতে পারে টিমের জন্য অনেক বেটার হবে।’ অপরদিকে, ট্র্যাভিস হেড এবং নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শকে ছাড়াই বাংলাদেশে এসেছে সফরকারী দল। ইনফর্ম ব্যাটসম্যানদের অনুপস্থিতিতে অজি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জশ ইংলিশ। তাদের এই অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও অনভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ধারাল পেস আক্রমণ নিশ্চিতভাবেই এক বড় পরীক্ষা নেবে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে টাইগার পেসারদের দাপট এখন বিশ্বমানের।
টাইগারদের এই পেস বিপ্লবের অন্যতম কাণ্ডারি তরুণ স্পিডস্টার নাহিদ রানা, যিনি বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা সাম্প্রতিক ৬ টি ওয়ানডে ম্যাচে মাত্র ১৭.৪৩ গড়ে ১৬ টি উইকেট নিয়ে রানা বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা জানিয়েছেন। তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতার পাশে তরুণ রানার গতি অজি শিবিরে কাঁপন ধরাতে প্রস্তুত।
বিশেষ করে চরম অফ-ফর্মে থাকা মার্নাস লাবুশেনকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। তার শেষ ১৩ টি ওয়ানডে ইনিংসে মাত্র ১২.৪৬ গড়ে রান করেছেন, যেখানে তার সর্বোচ্চ স্কোর ৪৭। পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজেও তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ০, ৫ ও ১৯ রান। অধিনায়ক মার্শের অনুপস্থিতিতে লাবুশেনকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে, তবে মিরপুরের গতিময় উইকেটে রানার তোপের মুখে তিনি কতটা টিকতে পারবেন তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে। বিপরীতে সফরকারীদের বোলিং লাইনে জাভিয়ের বার্টলেট ও বেন ডোয়ারশুইস বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। তারা দুজনেই বলের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও কার্যকরী অবদান রাখতে সক্ষম, যা অজি দলের ব্যাটিং গভীরতা অনেক বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে।
এই ম্যাচে বেশ কিছু মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন উভয় দলের ক্রিকেটাররা। অজি লেগ-স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা আর মাত্র ৩ টি উইকেট নিলেই ৭ম অস্ট্রেলীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের মালিক হবেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশি তারকা নাজমুল হোসেন শান্তর প্রয়োজন আর মাত্র ৮৬ রান, যা তাকে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০০ রানের এক অনবদ্য মাইলফলকে পৌঁছে দেবে। তবে মিরপুরের আকাশ জুড়ে বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় ডিএলএস পদ্ধতি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। ২ দলের শেষ ওয়ানডে লড়াইয়ে অজি অলরাউন্ডার মার্শের অপরাজিত ১৭৭ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে ৩০৭ রান তাড়া করে জিতেছিল অজিরা। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। ক্রিকেটের এই অভিজাত ফরম্যাটে অজিদের বিপক্ষে মাত্র ১ বার জয়ের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ। তাছাড়া শেরবাংলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো দলের ওয়ানডে ইনিংসের সংগ্রহ ৩০০ রান পার করতে পারেনি, যা মূলত এই পিচে ২ দলের বোলারদের দাপটের কথাই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।
