মোহামেডানের হারে জমলো শিরোপার লড়াই

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লীগের (ডিপিএল) দশম রাউন্ডে জাতীয় দলের একাধিক তারকাকে পায়নি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। নিয়মিত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়, পেসার তাসকিন আহমেদ ছিলেন না। তাদের অনুপস্থিতিতে বেঞ্চ থেকে সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটাররা জ¦লে উঠতে পারেননি। গতকাল ঢাকা লেপার্ডসের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে মোহামেডান। তাদের হারে জমে উঠেছে শিরোপার লড়াই। দশম রাউন্ড শেষে তিন দলের পয়েন্টই সমান ১৬। নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষে মোহামেডান। দুইয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। তিনে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ফলে শেষ রাউন্ডের ফলের ওপর নির্ভর করছে কার হাতে উঠবে এবারের ডিপিএল শিরোপা। শেষ রাউন্ডে মোহামেডানকে হারালে শিরোপা জিতবে আবাহনী। মোহামেডান জিতলে তাকিয়ে থাকতে হবে প্রাইম ব্যাংক-ঢাকা লেপার্ডস ম্যাচের ফলের দিকে। সেই ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক জিতে গেলে হেড টু হেড বিবেচনায় শিরোপা জিতবে তারা। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে নিয়মিত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের অনুপস্থিতিতে ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে মোহামেডানের দায়িত্ব সামলান অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম। শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২২৫ রান করে মোহামেডান। টপঅর্ডারের কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন মুশফিক। লেপার্ডসের হয়ে পেসার শেখ পারভেজ জীবন ৩ ও আল ফরহাদ ২ উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে দলীয় ৩৯ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় লেপার্ডস। ব্যক্তিগত ৯ রানে ওপেনার সৈকত আলীকে ফেরান স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তিনে নেমে ৭৭ বলে ৯৩ রানে অপরাজিত থাকেন মুমিনুল হক। আরেক ওপেনার জাওয়াদ আবরার করেন ৬৬ রান। ৩৪ ওভার ৩ বল খেলে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে মোহাম্মদ মিঠুনের দল।

লো স্কোরিং থ্রিলার জিতলো আবাহনী
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে আবাহনী লিমিটেডকে আগে ব্যাট করতে পাঠায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। আগে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে যায় আবাহনী। ৬৮ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় দলটি। পঞ্চম উইকেটে এস এম মেহেরব হোসেন ও মাহদিুল ইসলাম অঙ্কন ৮৭ রানের জুটি গড়েন। মেহেরব ৪০ রানে ফিরে গেলেও ফিফটি তুলে নেন অঙ্কন। তার ১১২ বলে ৬৬ রানের ইনিংসে ভর করে ৪৮ ওভার ৩ বলে ২১১ রান তুলে আবাহনী। লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় গাজী গ্রুপ। ১৩৬ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। তবে শেষ উইকেটে লড়াই জমিয়ে তোলেন মোহাম্মদ রুবেল ও আজিজুল হাকিম রনি। দুজনে মিলে গড়েন ৭৩ রানের জুটি। রনি ৩৪ বলে ৪১ রানে সাজঘরে ফিরলে ২০৯ রানে অলআউট হয় গাজী গ্রুপ। ১২ রানে ম্যাচটি জিতে শিরোপা ধরে রাখার আশা বাঁচিয়ে রাখে আবাহনী।

জয় প্রাইম ব্যাংকের
পিকেএসপির দুই নম্বর মাঠে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে ১৮ রানে হারায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট হয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন আবু হায়দার রনি। বসুন্ধরার হয়ে ৪ উইকেট নেন স্পিনার সানজামুল ইসলাম। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৪২ রানে অলআউট হয় বসুন্ধরা। বল হাতে উজ¦ল পারফরম্যান্সের পর ব্যাট হাতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন সানজামুল। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে টিপু সুলতান ৪ ও আবু হায়দার রনি নেন ৩ উইকেট।

সোহানের দ্রুততম সেঞ্চুরিতে জিতলো লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ
ইউল্যাব মাঠে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান। ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেন ডানহাতি এ ব্যাটার। ৮ চার ও ১৩ ছক্কায় ৫৮ বলে করেছেন ১৩০ রান। এর আগের রেকর্ডটিও ছিল সোহানের। ২০২৩ সালে ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। সোহানের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩২২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জ। জবাব দিতে নেমে ওপেনার সাদিকুর রহমান সেঞ্চুরি করলেও বাকীদের ব্যর্থতায় লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি সিটি ক্লাব। ৭৮ রানে হেরে যায় দলটি। ১০ ম্যাচে ৪ জয়ে টেবিলের নয় নম্বরে আছে সিটি ক্লাব।

দ্বিতীয় জয় পেলো রূপগঞ্জ টাইগার্স

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আরেক ম্যাচে অগ্রনী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ২ উইকেটে হারিয়ে এবারের লীগে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় রূপগঞ্জ টাইগার্স। প্রথমে ব্যাট করে ২৬৫ রান করে অগ্রনী ব্যাংক। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে ১০ রান দরকার ছিল রূপগঞ্জের। দুই ছক্কা মেরে সেই সমীকরণ মিলিয়ে ফেলেন আরিফ আহমেদ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন