সেই চোট সারাতে নাসার দ্বারস্থ হয়েছেন নেইমার। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাকে সম্পূর্ণ ফিট করে তুলতে এই অভিনব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। চোট থেকে সেরে উঠার জন্য নেইমারকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নকশা করা অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিল দেয়া হয়েছে। বিশেষ এই ট্রেডমিলে একটি ইনফ্ল্যাটেবল চেম্বার থাকে, যা কোমরের অংশকে ঘিরে ধরে খেলোয়াড়ের শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
এর ফলে পায়ের ওপর ভর বা চাপ অনেকটাই কমে যায়। চিকিৎসকরা নেইমারের অবস্থা বুঝে এই ওজন কম-বেশি করছেন, যার ফলে পেশিতে নতুন কোনো আঘাতের ঝুঁকি ছাড়া নেইমার হাঁটা এবং দৌড়ানোর অনুশীলন করতে পারছেন।
২৭শে মে ক্যাম্পে যোগ দেয়ার পর থেকে নেইমারকে কঠিন পর্যবেক্ষনের মধ্যে রেখেছে ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশন। চোট কাটিয়ে উঠতে দিনে তিন বেলা কঠোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ফিজিওথেরাপি, স্ট্রেন্থ ওয়ার্ক এবং জিম সেশন। ব্রাজিলের ঘরোয়া লীগে কোরিতিবার বিপক্ষে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় গ্রেড-টু পর্যায়ের এই চোটে পড়েছিলেন নেইমার।
নেইমারের পেশির সর্বশেষ অবস্থা জানতে এমআরআই স্ক্যান করানো হবে। সিবিএফ-এর মেডিকেল টিম যদি এই স্ক্যান রিপোর্টে সন্তুষ্ট হয়, তবে আজ থেকেই মাঠে ট্র্যানজিশন ও রানিং কাজ শুরু করতে পারবেন নেইমার। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না। প্রথমে একা একা হালকা অনুশীলন দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়ানো হবে এবং সবশেষে দলের সাথে বল নিয়ে মূল অনুশীলনে যোগ দেবেন তিনি। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে বিশ্বকাপের আগের প্রীতি ম্যাচগুলোতে নেইমারকে খেলানো হচ্ছে না।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আশাবাদী, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে নেইমারকে দলে পাওয়া যাবে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুসারে, আগামী ১৩ই জুন মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শুরুর ম্যাচেই মাঠে নামতে পারেন তিনি। আর পুর্নবাসন প্রক্রিয়া যদি কিছুটা ধীরগতির হয়, তবে গ্রুপ পর্বের হাইতি বা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তার মাঠে নামা প্রায় নিশ্চিত।
