সংসদে কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি করলেন মনিরুল হক চৌধুরী

সংসদে কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি করলেন মনিরুল হক চৌধুরী

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় সংসদে কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে দাবি উত্থাপন করলেন কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ, মহানগর) আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। সোমবার বিকালে সংসদে নোটিশ আকারে উত্থাপিত প্রশ্নে তিনি এ দাবি করেন। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ বিমানবন্দর স্থাপিত হয়েছিল জনগণের সম্পত্তির উপর। পরবর্তী পর্যায়ে ৪৭-এ দেশভাগের পর বিমানবন্দর চালু ছিল। জনগণের সম্পত্তির উপর বিমানবন্দর স্থাপিত হলেও জনগণকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। দেশ স্বাধীনের পর বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিমানবন্দরের সম্পত্তির একটি অংশ ইপিজেডকে দিয়ে দেয়। কিন্তু নির্দেশ ছিল বিমানবন্দরটি চালু রাখার। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু রাখার পক্ষে মূল কারণ হলো, কুমিল্লা এখন শীর্ষ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জেলা। এ জেলার মোট জনসংখ্যা ৬৫ লাখ। মোট জনসংখ্যার ১৩% লোক প্রবাসী। তারা যদি সরাসরি কুমিল্লা বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াত করতে পারে, তাহলে জনগণের সুবিধা ও বিমান কর্তৃপক্ষ লাভবান হবে। এই বিমানবন্দরে বর্তমানে যে রাডার টাওয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে, এগুলো ব্যবহার করে ৮০টি বিমান চলাচল করে। যা থেকে এই বিমানবন্দর মাসিক ২ কোটি টাকা আয় করে। বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দর সংলগ্ন স্থাপিত হয়েছে কুমিল্লা ইপিজেড। এই ইপিজেডের বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফ্যাক্টরি ভিজিটে আসা-যাওয়ার জন্য একটা অন্যতম সুবিধাজনক মাধ্যম হলো এ বিমানবন্দর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায়ই যানজটে নাকাল হয়ে পড়ে। তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসতে পারে না। এতে করে ইপিজেডের ক্ষতি হয়। এই বিমানবন্দর চালু থাকলে ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা ইপিজেডের সেবা গ্রহণ করতে পারবে। এতে নতুন ফ্যাক্টরি হবে, কর্মসংস্থানও বাড়বে।

স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, এই বিমানবন্দর চালু হলে স্বাস্থ্য সেবার জন্য এ অঞ্চলের মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত-সিঙ্গাপুরে সহজেই স্বাস্থ্যসেবা নিতে যেতে পারবে। কুমিল্লায় রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান সেগুলো দেখার জন্য পর্যটকরা এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে সহজে যাতায়াত করতে পারবে। এতে এতদ অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। মনিরুল হক বলেন, আমি অনুরোধ জানাবো বিমান মন্ত্রীকে, বিগত সময়ে ধানক্ষেতেও বিমানবন্দর হয়েছে স্বাধীনতার পর। কিন্তু এই বিমানবন্দরটি চালু হয়নি। এতে মনে হয় কুমিল্লার প্রতি অবজ্ঞা, অবহেলা এবং বৈষম্য। আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার তারেক রহমানের সরকার দেশের জনগণের নির্বাচিত সরকার। এই বিমানবন্দরটি চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ বিমানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন