সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহরে মব সৃষ্টি করে ও পরিকল্পিত গণধোলাইয়ের নাটক সাজিয়ে ৮০ বছর বয়সী মৌলভীবাজারের বড়লেখার উপজেলার সুজানগর গ্রামের আবদুস শুক্কুর বকুলকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী রুশনা বেগম। গতকাল সিলেট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে রুশনা বেগম বলেন, গত ৫ই জুন রাতে শাহজালাল উপশহরের এবিসি পয়েন্ট এলাকায় ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ তুলে একদল লোক তার স্বামী ও মো. খায়রুল ইসলাম বাবলা নামের অপর একজনকে অবরুদ্ধ করে মারধর ও হেনস্তা করে। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়।
পরদিন ৬ই জুন বিমানবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে রুশনা বেগম দাবি করেন, তার স্বামী আবদুস শুক্কুর বকুল একজন ৮০ বছর বয়সী শারীরিকভাবে অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তি। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিকভাবে হেয় ও হয়রানি করার জন্য একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা সাজিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার সন্তানরা প্রবাসে থাকায় তার স্বামী প্রায় একাই বাসায় থাকতেন। এ সুযোগে শাহজালাল উপশহরের ব্লক-বি এলাকার মুহিবুর রহমান নামের এক যুবক ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল এবং টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতো। দাবি পূরণ না করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্ভাব্য ঝুঁকির আশঙ্কায় আবদুস শুক্কুর বকুল গত ৩রা জুন শাহপরান (রহ.) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২৯) করেন। ওই জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, উপশহর এলাকার আব্দুল মুমিনের পুত্র মুহিবুর রহমান তার কাছে ইয়াবা সেবনের জন্য টাকা দাবি করেন এবং টাকা না পেয়ে তাকে হুমকি দেন। রুশনা বেগমের দাবি, ওই জিডির প্রতিশোধ নিতেই দুইদিনের মাথায় ৫ই জুনের ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র প্রবাসে থাকা ছেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায় ও ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে এ ষড়যন্ত্র করেছে।’
