পাবনার ঈশ্বরদীতে মায়ের চোখের সামনেই সড়কে ঝরে গেল আট বছরের শিশু আলিফ হোসেনের প্রাণ। আর তাকে বাঁচাতে গিয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান বাকীবিল্লাহ (৩৫) নামের এক যুবক। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির মা। গত রোববার রাত ৯টার দিকে দাশুড়িয়া-লালনশাহ্ সেতু মহাসড়কের কোলেরকান্দি বটতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের কোলাদি গ্রামের জাহিদ হোসেনের ছেলে আলিফ হোসেন (৮) এবং আতাইকুলা থানার শ্রীকোল গ্রামের বাশার শেখের ছেলে বাকীবিল্লাহ্ (৩৫)। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর এলাকা থেকে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঘুরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পরিবারের সঙ্গে দাশুড়িয়ার দিকে ফিরছিল আলিফ। কোলেরকান্দি এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে আলিফ ছিটকে মহাসড়কে পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোটরসাইকেলআরোহী বাকীবিল্লাহ্ শিশুটিকে উদ্ধার করতে সড়কে ছুটে যান। কিন্তু ঠিক সেই সময় পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত যানবাহন তাদের দু’জনকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আলিফ ও বাকীবিল্লাহ্র মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রূপপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে আহত আলিফের মা আঁখি খাতুনকে (৩০) উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পাক্শী হাইওয়ে থানার ওসি মো. নান্নু মিয়া জানান, নিহতদের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্ত এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
