নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার ধনাইখালী নদীর ক্রমাগত ভাঙন চলছেই। সর্বশেষ উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের সাহতা নয়াপাড়া জামে মসজিদের কাছে বিশাল ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটছে ১০ গ্রামের মানুষের। খরস্রোতা ধনাইখালী নদীর তীব্র পানি প্রবাহের কারণে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। ভাঙন রক্ষায় ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে ওই সব এলাকার ১০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
সোমবার দুপুরে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, সাহতা, সাবানিয়া, মধুপুর, নল্লা, বোয়ালজানা, জয়ডহর, ঘোড়াডহর ও পার্শ্ববর্তী আমতলা ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ভাঙনস্থলে নিজেরাই বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করছেন। ফসলি জমি, ভিটে-বাড়িসহ স্থাপনা রক্ষায় তাদের এই প্রচেষ্টা। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে নদী ভাঙন থেকে যারা নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারছেন দ্রুত সরকারি সহযোগিতা না এলে তারাও হয়তো ভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙন আতঙ্কে ওই এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, পূর্বে কয়েকবার ভাঙনে তাদের ভিটে-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাই নতুন করে বড় ভাঙনের কবলে পরে তারা আর ভিটেমাটি হারাতে চান না। সাহতা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাজু জানান, সাহতা নয়াপাড়া জামে মসজিদের সামনে যদি নদীটা ভেঙে যায় তাহলে ১০টি গ্রাম তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি ক্ষয়ক্ষতি পার্শ্ববর্তী নেত্রকোণা সদরের আমতলা ইউনিয়ন পর্যন্ত গিয়ে ঠেকবে। তিনি আরও বলেন, ১০টি গ্রামের অনেক মানুষ বসতভিটা হারাবে। এজন্য সরকারের কাছে দাবি, যাতে স্থায়ীভাবে ভাঙন অংশে একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ধনাইখালী নদীর সাহতা অংশে বেশ কয়েকটি স্থানে বেশি ভাঙন হচ্ছে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ধনাইখালী নদীর ভাঙনে হুমকিতে ১০ গ্রামের মানুষ
নেত্রকোণা সংবাদদাতা
৯ জুন (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
