মির্জাগঞ্জে ভাঙা সেতুতে ভোগান্তির শেষ নেই ৭ গ্রামবাসীর। পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের জগারপুর এলাকায় দুশমির খালের উপর নির্মিত সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুর মাঝখানের ঢালাই খসে পড়ে রড বেরিয়ে এসেছে। ধসে যাওয়া অংশে কাঠের তক্তা দিয়ে কোনোমতে পারাপারের চেষ্টা করলেও যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরজমিন জানা যায়, প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটি উপজেলা এলজিআরডি কর্তৃক ২০০৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ ২১ বছরেও এখানে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়নি। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশের ঢালাই ধসে পড়তে শুরু করে। বর্তমানে ব্রিজের মাঝখানের মূল অংশ ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভেতরের লোহার রড পুরোপুরি আলগা হয়ে গেছে। এই ব্রিজটির উপর দিয়ে প্রতিদিন উত্তর ঘটকের আন্দুয়া, কুমারখোলা, মানসুরাবাদ, চিংগড়িয়া, পিঁপড়াখালি, সুন্দ্রা-কালিকাপুর ও কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দারা স্থানীয় বাজার-ঘাট ও উপজেলা সদরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া এলাকার অসুস্থ ও বৃদ্ধ রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়ার কোনো বিকল্প পথ না থাকায় গ্রামীণ জনগণদের পড়তে হয় বিপাকে। পণ্যবাহী কোনো যানবাহন বা ভ্যান-রিকশাও ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করতে না পারায় কৃষকরা তাদের পণ্য সঠিক সময়ে বাজারে নিতে পারছেন না এবং অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। তারা এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদন হলে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।
