চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার পরিকল্পনা ট্রাম্পের!

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার পরিকল্পনা ট্রাম্পের!

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভারত মহাসাগরের কৌশলগত চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছ থেকে কিনে নিতে পারেন। এমন একটি পরিকল্পনা তিনি বিবেচনা করছেন বলে একাধিক সংবাদে দাবি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা এমন একটি প্রস্তাব তৈরিও করছেন। এর মাধ্যমে বৃটেনকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি মরিশাসের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়া হতে পারে। মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন-বৃটিশ সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।

যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের যৌথ পরিচালনায় থাকা ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিকে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই ঘাঁটির অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ডিয়েগো গার্সিয়ার কৌশলগত অবস্থান এটিকে ভারত মহাসাগরে একটি অপরিহার্য সামরিক ঘাঁটি করে তুলেছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে যাতে এই দ্বীপটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কার্যকর থাকে।

এর আগে বৃটেন পরিকল্পনা করে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করার। তবে ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ৯৯ বছরের লিজ চুক্তির মাধ্যমে ধরে রাখার কথা ছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিরোধিতা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর বৃটেন হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত করে। মূল পরিকল্পনাটি শুরুতে ট্রাম্প সমর্থন করেন। কিন্তু পরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং এটিকে অত্যন্ত বড় ধরনের ভুল বলে মন্তব্য করেন।

মরিশাস দীর্ঘদিন ধরে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা দাবি করে আসছে। তাদের দাবি জাতিসংঘের একাধিক রায়ের ওপর ভিত্তি করে এই দ্বীপগুলো আলাদা করা ছিল অবৈধ। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর পরামর্শমূলক মতামত এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনালের রায় এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। এই আইনি চাপের কারণেই বৃটেন মনে করে, দ্বীপগুলো না ছাড়লে ভবিষ্যতে সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা আইনগতভাবে অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।

বর্তমান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। এর মধ্যে সরাসরি চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় বলেছেন বৃটেনের উচিত ভারত মহাসাগরের বৃটিশ অঞ্চলটি হস্তান্তর না করা। কারণ ডিয়েগো গার্সিয়া আমাদের যৌথ সামরিক স্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো অঞ্চলটিতে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখা।

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তর ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মরিশাসের মধ্যে কূটনৈতিক ও আইনগত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। বৃটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি পার্লামেন্টে বলেছেন, এই চুক্তি না হলে আন্তর্জাতিক আইনি রায়ের কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই ঘাঁটিটি পরিচালনা করা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।

এদিকে পার্লামেন্টের কিছু সদস্য এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। এটিকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন। সরকারের সাবেক কূটনীতিক সাইমন ম্যাকডোনাল্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বিরোধিতার কারণে পুরো পরিকল্পনাই স্থগিত অবস্থায় চলে যেতে পারে। তিনি বলেন, বৃটেনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক আইন মানা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। কিন্তু ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে এখন কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন