কুষ্টিয়া শহরের চর মিলপাড়া এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে আছায় সরদার (৩৫) নামে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। রোববার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা করেছেন শিশুটির বাবা।
আহত অবস্থায় অভিযুক্ত বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে নির্যাতিত শিশুকেও।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে বাড়ির পাশে এক বান্ধবীর সঙ্গে খেলছিল শিশুটি। এ সময় আছায় সরদার দুই শিশুকে ফুসলিয়ে পাশের একটি স্কুল ভবনে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে আটকে রেখে অপর শিশুটিকে বের করে দেয়া হয়। পরে ওই শিশু দ্রুত বাড়ি ফিরে বিষয়টি তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের জানায়। খবর পেয়ে শিশুটির স্বজন এবং স্থানীয় লোকজন স্কুল ভবনে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত আছায় সরদারকে আটক করে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গণধোলাই দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ অভিযুক্তকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে এবং হেফাজতে নেয়।
নির্যাতিত শিশুর বাবা-মা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা বলেন, এমন জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান বলেন, ‘শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না। আমরা তার চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘প্রাথমিক আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণ অথবা ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনানুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
