ইলন মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২২২২০৮৯,২৫,১৭,৫৫৬ টাকা

ভড়কে যাওয়ার মতো তথ্য

ইলন মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২২২২০৮৯,২৫,১৭,৫৫৬ টাকা

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক শিগগিরই আর্থিক হিসাবে মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন। এর আগে কোনো ব্যক্তি এই রেকর্ড অর্জন করতে পারেননি। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে তিনিই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা এক ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হতে পারেন। একবার কল্পনা করেছেন এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় কত হতে পারে! পুরো প্রায় এক কোটি ২২ লাখ কোটি টাকা। কি কষ্ট হচ্ছে বুঝতে! হ্যাঁ, এই সংখ্যাটি প্রায় ১২২২২০৮৯,২৫,১৭,৫৫৬.৫০। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। ইলন মাস্কের সম্পদের বড় অংশ আসে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় তার শেয়ার ও স্টক অপশন থেকে। এর মূল্য প্রায় ২৭৩০০ কোটি ডলার। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সম্ভাব্য আইপিও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং) হলে তার সম্পদে আরও ৮৪১০০ কোটি ডলার যোগ হতে পারে। তবে ব্যাংক হিসাবে নগদ অর্থ হিসেবে এই সম্পদ নেই। ইলন মাস্কের অধিকাংশ সম্পদ বিভিন্ন কোম্পানিতে মালিকানার অংশীদারত্বের মাধ্যমে কাগজে-কলমে বিদ্যমান এবং এর মূল্য বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।

এই অঙ্কের বিশালতা বোঝাতে বলা যায়, এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের অর্থনীতির চেয়েও বড় হবে। মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের আকার অনেক দেশের বার্ষিক অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বের মাত্র অল্প কয়েকটি দেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। তাইওয়ানের অর্থনীতি প্রায় ৯৭৭ বিলিয়ন ডলার, আয়ারল্যান্ডের ৭৭৯ বিলিয়ন ডলার, সুইডেনের ৭৬০ বিলিয়ন ডলার এবং সিঙ্গাপুরের ৬৬০ বিলিয়ন ডলার। তাদের এই অর্থনীতি মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের তুলনায় ছোট।

এই সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের অন্যতম আর্থিক কেন্দ্র ম্যানহাটানের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের সমান, এমনকি তার চেয়েও বেশি হতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট এবং অসংখ্য বৃহৎ করপোরেশনের কেন্দ্রস্থল ম্যানহাটানের অর্থনীতির মূল্য ২০২৪ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য থেকে জানা যায়। আরও বিস্ময়কর হলো, এই সম্ভাব্য সম্পদ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমান। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন এবং গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিনের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ০৯ ট্রিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়। অর্থাৎ, মাস্ক একাই তাদের সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হতে পারেন।

মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হিউস্টনের সব আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্যের চেয়েও বেশি হবে। তেল ও গ্যাস শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র টেক্সাসের এই শহরের সব সম্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ৮৭৯ বিলিয়ন ডলার বলে সাম্প্রতিক হিসাব থেকে জানা যায়। এই সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ক্রীড়া ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সম্মিলিত মূল্যের চেয়েও অনেক বেশি। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ৫০টি সবচেয়ে মূল্যবান ক্রীড়া দলের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

এত বিপুল সম্পদ থাকলে বিশ্বের প্রায় সব বড় পেশাদার ক্রীড়া দল কিনে ফেলার মতো আর্থিক সক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে চলে আসতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের সম্ভাব্য ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের এই হিসাব দেখায় যে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ কতটা নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন