সহযোগীদের খবর

পুশইন: আন্তর্জাতিক আইন মানতে চায় ঢাকা, সাড়া নেই দিল্লির

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘পুশইন: আন্তর্জাতিক আইন মানতে চায় ঢাকা, সাড়া নেই দিল্লির’। খবরে বলা হয়, বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে যাওয়া বাংলাদেশিদের নিয়মিত ফেরত আনছে বাংলাদেশ। এমনকি ভারত থেকেও বাংলাদেশিদের ফেরত এনেছিল ঢাকা। সম্প্রতি বাংলাভাষী বিপুলসংখ্যক লোককে বাংলাদেশি দাবি করে ঠেলে দিতে (পুশইন) চাচ্ছে দেশটি। এতে সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে কয়েকশ মানুষ। এ ক্ষেত্রে দেশটি সীমান্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইন ও বিধিবিধান মানছে না।

বাংলাদেশ এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও আইনি পথ অনুসরণ করতে এবং সংশ্লিষ্টদের মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করতে ভারতকে অনুরোধ করেছে। এ অবস্থায় নয়াদিল্লিতে আজ সোমবার বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে বৈঠক বসছে। সেখানেও পুশইন অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশিদের আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত আনছে বাংলাদেশ। অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় ফেরত আনা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত পদ্ধতি মেনে।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। যদিও দুই দেশের এ ধরনের বিষয় নিষ্পত্তি করার জন্য ২০১৭ সাল থেকে দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সংলাপ চলে আসছে। যার মাধ্যমে দুই দেশের নাগরিক, ভিসা ও বন্দিবিনিময়-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ মে বাংলাদেশ-ভারত কনস্যুলার সংলাপটি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। তবে জুলাই অভুত্থ্যানের পর দিল্লি অবৈধভাবে বাংলাভাষী মানুষদের সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠাতে শুরু করে। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য ২০২৫ সালে ভারতকে বৈঠকে বসতে আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা। তাতে সাড়া মেলেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে অনেক দিন আগেই ভারতকে দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার বৈঠকে বসতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত নয়াদিল্লির কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের নীতি পরিষ্কার। কোথাও বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে গেলে তাদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি ও আইন মেনে ফেরত আনা হবে। ভারতের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ তাই করতে চায়।

২৮০০ জনের নামের তালিকা বিনিময়

সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশকে ২৮০০ ব্যক্তির তালিকা দিয়েছে। এর মধ্যে নামের পুনরাবৃত্তি রয়েছে ২৫০ জনের। আর অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে প্রায় ৪০০ জনের। ৬০০ জনের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

ভারতের একটি সূত্রের দাবি, অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশকে নামের তালিকা দেওয়া হচ্ছে। অতীতে এ বিষয়ে তাগিদ দিলেও অযাচিতভাবে প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেছে ঢাকা। এতে দীর্ঘ সময় ধরে আটক করা মানুষদের দেখভাল করতে হয়েছে, যার সঙ্গে বড় অঙ্কের ব্যয় জড়িত। ফলে এখন কোনো বাংলাদেশি পেলে তাদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর এ বাহিনী তাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে।

নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ে বিলম্ব নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ভারতীয়রা যে তালিকা পাঠিয়েছে তাতে দেখা গেছে, একজনের নাম দুই থেকে তিনবারও রয়েছে। এ ছাড়া তালিকায় থাকা সাড়ে ৪০০ জনের শুধু নাম দেওয়া হয়েছে। এখন এ নাম দিয়ে কীভাবে নাগরিকত্ব যাচাই করা সম্ভব! এর জন্য ব্যক্তির গ্রাম থেকে শুরু করে অন্যান্য তথ্য প্রয়োজন। সেগুলো ভারত থেকে দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ ভারত যে তালিকা পাঠিয়েছে, তারা বাংলাদেশি কিনা তার যাচাই-বাছাই চলছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কনস্যুলার সেবা। কারণ ভারত তাদের বিভিন্ন রাজ্যে আটক অবস্থায় থাকা যাদের বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিচ্ছে, রাজ্য সরকার তাদের কনস্যুলার সেবা দিচ্ছে না। ফলে ভারত যে দাবি করছে– বাংলাদেশিদের ফেরত নিচ্ছে না ঢাকা; বিষয়টি তা নয়। কনস্যুলার অ্যাকসেস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরেরও একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। এমনকি ভিয়েনা কনভেনশনে কনস্যুলার সেবার আইনে এর উল্লেখ রয়েছে। দিল্লি কেন আটকে থাকা ব্যক্তিদের কনস্যুলার সেবা দিতে চাচ্ছে না– বিষয়টি বোধগম্য নয়।

বাংলাদেশের প্রতিবাদ

পুশইনের ঘটনায় গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে প্রতিবাদপত্র দিয়েছে। তাতে পুশইন বন্ধ করে আইনি পদ্ধতির মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ না নেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া, কনস্যুলার নোটিশ পাওয়ার অধিকার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যথেচ্ছভাবে মানুষদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার বারবার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি পারস্পরিক আস্থা ও সীমান্ত এলাকার স্থিতিশীলতা নষ্টের ঝুঁকি তৈরি করে। বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের আগে এ ধরনের ঘটনা দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অর্থপূর্ণ সংলাপের জন্য প্রয়োজনীয় গঠনমূলক বোঝাপড়ার পরিবেশকে নষ্ট করে।

বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে বলতে চায়, সব প্রত্যাবাসন অবশ্যই আইনসম্মত উপায়ে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম-পদ্ধতি ও প্রটোকল মেনে এবং সম্মত দ্বিপক্ষীয় পদ্ধতি অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে।

ঢাকা অবিলম্বে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার সব রকম কার্যকলাপ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এমন কোনো জনমতকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়, যা সংঘাত ও জনবিদ্বেষকে উস্কে দিয়ে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই আবারও প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও আইনি পথ অনুসরণ করতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ, নিন্দা

এর আগে আসাম সীমান্ত দিয়ে প্রায় ১০০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছিল ভারত। আবার আন্দামান সাগরেও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ঠেলে দিয়েছিল ভারতের নৌবাহিনী। এমন কর্মকাণ্ডকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত, অগ্রহণযোগ্য কাজ’ অভিহিত করে ভারত সরকারকে অমানবিক ও প্রাণঘাতী আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন।

এ ছাড়া হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সীমান্তের বাইরে মানুষদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছে।

প্রথম আলো

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে মানুষের সুরক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে নাকাল মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। সংসার চালানোর খরচ বাড়ছে। চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, শাকসবজি, মাংস—সব নিত্যপণ্যই আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বাড়তি খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। তাঁদের অনেকে ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।

গত দুই মাসের মধ্যে অকটেন, পেট্রলসহ জ্বালানি তেলের দাম দুই দফায় বেড়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস–বিদ্যুতের দামও বেড়েছে। এসব কারণে আবারও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আতঙ্ক ভর করেছে সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে। সর্বশেষ গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে বিগত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। এ অবস্থায় অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

আবদুল্লাহ আল মামুন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন ও হিসাব বিভাগে কাজ করেন। তাঁর বেতন এখন ৪৫ হাজার টাকা। স্ত্রী–সন্তানসহ চারজনের সংসার। সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে তাঁর বেতন পাঁচ হাজার টাকা বেড়েছে। এর আগের তিন বছরে বেতন বাড়েনি। আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তিন–চার বছরে তাঁর সংসার খরচ বেড়েছে ১০–১২ হাজার টাকা। দুই বছর আগেও বাসাভাড়া, সংসার খরচ, সন্তানের পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে হাতে এক–দুই হাজার টাকা থাকত। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন আর কোনো সঞ্চয় হচ্ছে না।

আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, তিন বছরে বেতন বেড়েছে ৫ হাজার টাকা; কিন্তু খরচ বেড়েছে ১০–১২ হাজার টাকা। তাই প্রতি মাসেই সঞ্চয় ভেঙে এবং ধারদেনা করে খেতে হচ্ছে। আবদুল্লাহ আল মামুনের মতো বহু মধ্যবিত্ত পরিবারে এমন নিরুপায় দশা বিরাজ করছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে চার বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মূল্যস্ফীতির সমস্যাকে খুব একটা স্বীকৃতিই দেওয়া হয়নি। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নানা উদ্যোগে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খায়। আগামী বাজেটে সরকারের পক্ষ থেকে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে সাড়ে ৭ শতাংশ। তবে সরকার বন্ধ কারখানা চালুসহ বিভিন্ন খাতে যেভাবে মুদ্রা সরবরাহ বাড়াচ্ছে, তাতে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনা কতটা সম্ভব হবে, এ নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, টানা চার বছর উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে। এখন মূল্যস্ফীতির চাপ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বেশি পড়ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার খরচে আরেক দফা চাপ আসতে পারে। তাই বাজেটের সামাজিক সুরক্ষার প্রধান লক্ষ্য যেন হয় মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানো।

মাসরুর রিয়াজ আরও বলেন, দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকলে টাকার অবমূল্যায়ন হবে, যা আমদানি খরচ বাড়াবে। বাজেটের আকার আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো বাড়ছে। এর মানে, টাকার প্রবাহ বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করবে। আবার বিশাল রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্য অর্জন বেশ কঠিন হবে। তাই বাজেটঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ বেশি নিতে হবে, যা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ আটকে দেবে। ফলে আবার অর্থনীতির গতি বাধাগ্রস্ত হবে।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে সর্বশেষ মে মাসে। গত মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর এটিই সর্বোচ্চ। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাস (জুলাই-জানুয়ারি) সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে ছিল। সর্বশেষ পাঁচ মাসের মধ্যে তিন মাস মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে থাকলেও খাদ্যবহির্ভূত খাতে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসের মধ্যে ৮ মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে ছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতির উচ্চ ভিত্তির ওপর এখনকার মূল্যস্ফীতি গণনা করা হয়। ফলে দুই বছরে আগের চেয়ে এখন মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এর চাপ অনেক বেশি।

যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে

গত এক বছরে চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ–মাংস, শাকসবজিসহ প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক বছরে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ। এখন কেজিপ্রতি ৫০ টাকার কমে মোটা চাল পাওয়া যায় না। মোটা চালের দাম এখন কেজিপ্রতি ৫২–৫৬ টাকা। মাঝারি মানের ব্রি–২৮ চালের দাম এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৬ শতাংশ। বর্তমানে ব্রি–২৮ মানভেদে কেজিপ্রতি ৫৪–৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সরু চাল বা নাজিরশাইল ও মিনিকেটের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। দাম কেজিপ্রতি ৭০–৮৫ টাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এখন মূল্যস্ফীতিতে চালের অবদান ২০ শতাংশের মতো, একক পণ্য হিসেবে যা সর্বোচ্চ। তাই চালের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতিতে বেশি প্রভাব পড়ে।

গত এক বছরে সাধারণ মানুষকে ভোজ্যতেলও বেশ ভুগিয়েছে। ছয়–সাত মাস বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট ছিল। প্রতি লিটারের নির্ধারিত দাম ১৯৫ টাকা হলেও সংকটের কারণে ২০০ টাকার বেশি দামে তেল কিনতে হয়েছে। তবে মাস দেড়েক আগে সরকার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায়। এখন বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। একই সময়ে লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিনের দাম ১৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৮৫–১৯০ টাকা। খোলা পাম তেলের দাম ১২ শতাংশ বেড়ে ১৬৫–১৭০ টাকা হয়েছে।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে বছরজুড়েই বাড়তি দামে শাকসবজি কিনে খেতে হয়েছে। শীতের সময় ভরা মৌসুমেও কেজিপ্রতি ৪০ টাকার নিচে কোনো সবজি মেলেনি। এখন ৭০–৮০ টাকার নিচে বেগুন, করলা, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটোল, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, ঝিঙে, বরবটিসহ সবজি মিলছে না।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘দ্রুত বিচারে নতুন মাইলফলক’। খবরে বলা হয়, রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বিচার শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে মাত্র ৫ কার্যদিবসে। অভিযোগ গঠনের পর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও রায় পর্যন্ত পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে দ্রুতগতিতে। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দেশব্যাপী জনরোষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাসের পর ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আদালত এই মামলার রায় দিলেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার শেষ হওয়ার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় রাষ্ট্রের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি এক নতুন মাইলফলক। এর আগে মাগুরার শিশু আছিয়া কিংবা মেহেরপুরের ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলাগুলোতে অল্প সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণা করেছিলেন আদালত। ১৪৪ বছর আগে ব্রিটিশ আমলে নদীয়ার এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় বিচার শুরুর দিনেই রায় ঘোষণার নজির রয়েছে। তবে ব্রিটিশ আমলের পর থেকে বাংলাদেশে আলোচিত কয়েকটি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া মামলার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে পল্লবীর এই শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা। এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা।

এইদিন রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে। রায়ের দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এ সময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। ১১টা ৩৬ মিনিটে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম শিশুর আইনগত উত্তরাধিকাররা পাবেন। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তবে এ মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হলেও এখনই সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে না। রায় কার্যকরে এখনো দীর্ঘ সাংবিধানিক ও বিচারিক পথ বাকি রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রথমে মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যাবে। এরপর আপিল, আপিল বিভাগের শুনানি, রিভিউ এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমাভিক্ষার আবেদনসহ সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ : রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, এ মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; এটি সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কোনো শিশু যখন যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে আহত করে এবং রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে এক হাজার আট শতাধিক বিচারাধীন মামলার দায়িত্ব পালন করছে। এসব মামলার প্রতিটির পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো শিশুর অসহনীয় যন্ত্রণা, একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা। তবে এই শিশুর মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে দ্রুত সময়ে সম্পন্ন হয়েছে।

কালের কণ্ঠ

জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ সুপারিশ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং সরবরাহব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন করে ডিজিটাল মনিটরিং চালুসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় গঠিত বিশেষ কমিটি। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিশেষ কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উত্থাপিত প্রতিবেদনে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গত ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে সভাপতি করে গঠিত কমিটির মেয়দ ছিল ৩০ দিন। কার্যপরিধি ছিল সাম্প্রতিক জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ সংসদে রিপোর্ট প্রদান করা। গত ৩ মে ও ১৯ মে দুই দফা বিশেষ কমিটির বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

ওই বৈঠকে ১২ দফা সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়। সুপারিশে বলা হয়, জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন করে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করতে হবে।

অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার (এলএনজি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি) বৃদ্ধি করতে হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন ও এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল-২ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জনসচেতনতা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্য আমদানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্ট্যাডি করা প্রয়োজন।

রুফ টপে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সেই সোলার চলছে কি না, এর তদারকি জোরদার করবে। সিস্টেম লস হ্রাস করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তেল, গ্যাস, কয়লা, সোলার, উইন্ড—এসব খাত থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া বিশেষ কমিটির কার্যপরিধির আলোকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ পাওয়া গেলে তা রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানিনীতি, অবকাঠামো এবং সরবরাহব্যবস্থাকে অধিকতর স্থিতিশীল, বহুমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা সময়ের দাবি। বিশেষ কমিটি মনে করে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। বর্তমান সংকট সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বহুমুখী জ্বালানি উৎস নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ, সংসদীয় তদারকি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কমিটি।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়বে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের কর ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সূচনা করতে যাচ্ছে সরকার। প্রতি বছর বাজেট ঘিরে করহার ও করমুক্ত আয়সীমা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তা কমাতে প্রথম বারের মতো ব্যক্তি করদাতাদের জন্য একটি আয়কর রোড ম্যাপ ঘোষণা করা হতে পারে। আগামী ১১ জুন জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমা, করহার ও কর কাঠামো বিষয়ে একটি নীতিগত দিকনির্দেশনা তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থাকা করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাত্ আগামী পাঁচ বছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ১ লাখ টাকা বাড়তে পারে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো কর ব্যবস্থাকে আরো পূর্বানুমানযোগ্য, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করা। এর ফলে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং বিনিয়োগকারীরা আগাম ধারণা পাবেন ভবিষ্যতে কর কাঠামো কোন দিকে যেতে পারে। এতে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।

বর্তমানে দেশে করনীতি মূলত বার্ষিক বাজেটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। ফলে প্রতি বছর করমুক্ত আয়সীমা বাড়বে কি না, করহার পরিবর্তন হবে কি না বা নতুন কোনো কর আরোপ হবে কি না—এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি রোড ম্যাপ এ ধরনের অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হবে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত হতে পারে। সরকারের যুক্তি, মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ধীরে ধীরে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হলে সাধারণ করদাতারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন, একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণের ধারাবাহিকতাও বজায় থাকবে।

তবে অনেকেই মনে করেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা আরও দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে করদাতাদের প্রকৃত স্বস্তি দিতে হলে করমুক্ত আয়ের সীমা আরো বেশি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, করনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নীতির ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা। করদাতারা আগাম জানতে পারলে ভবিষ্যত্ আয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা আরো বাস্তবসম্মতভাবে করতে পারবেন।

নয়া দিগন্ত

যেকোনো সময় সঙ্ঘাতের শঙ্কা’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপড়েনের মাঝেই সীমান্তজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারতের অভ্যন্তর থেকে বাংলাভাষী মুসলিম ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার বা ‘পুশইন’ করার ধারাবাহিক অপচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সাথে সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড।

গোয়েন্দা ও সীমান্ত সূত্রগুলোর তথ্যমতে, গত তিন দিনে দেশের অন্তত ২০টি সংবেদনশীল পয়েন্ট দিয়ে ১৮৫ জন ভারতীয় নাগরিকের অনুপ্রবেশের চেষ্টা বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের যৌথ প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল যে, জিরো লাইনে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানের কারণে যেকোনো মুহূর্তে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাতের আঁধারে অনুপ্রবেশের অপেক্ষা : থমথমে সীমান্ত : সর্বশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, হবিগঞ্জের মাধবপুর এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে শত শত বাংলাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাছাকাছি এনে জড়ো করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতেও এই সীমান্তগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল।

বিজিবি সদর দফতর জানিয়েছে, পুশইন রুখতে সারা দেশে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁঁকিপূর্ণ এবং কাঁটাতারহীন এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা টহল সচল রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে ‘প্রতিরোধ ব্যূহ’ তৈরি করা হয়েছে।

পুশইন সঙ্কটের নেপথ্যে : বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন “ নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই পুশইন চেষ্টা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক কৌশল ও এজেন্ডা রয়েছে। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম সীমান্ত পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল।

ভারতের আসাম, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো সীমান্ত রাজ্যগুলোর স্থানীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একে ঢাকার নতুন সরকারের ওপর এক ধরনের ভূরাজনৈতিক দরকষাকষির মনস্তাত্ত্বিক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বিএসএফের এই পুশইন চেষ্টা স্রেফ কোনো সাধারণ সীমান্ত অপরাধ নয়; এটি একটি সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় এজেন্ডার অংশ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে এবারের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো বিজিবির অনমনীয় ও কঠোর অবস্থান এবং এর সাথে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সীমান্তে বুলেটের চেয়ে এই মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ব্যারিকেড অনেক বেশি শক্তিশালী। বিজিবি যদি এই মুহূর্তে এক চুলও ছাড় দেয়, তবে ভারত এটিকে চিরস্থায়ী নজিরে পরিণত করবে।’

একই প্রসঙ্গে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব:) রোকন উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ ও কৌশলগত চাপের অংশ হিসেবে এই পুশইনের ঘটনা ঘটছে। ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে প্রায়ই ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ কার্ড খেলা হয়। সেখানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সাধারণ মানুষকে বলির পাঁঠা বানিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করার এই চেষ্টা ঢাকার ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অপপ্রয়াস। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কারো জাতীয়তা নিশ্চিত না করে এভাবে জোরপূর্বক পুশইন করা সম্পূর্ণ বেআইনি।’

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয় বিপিডিবিকে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশের কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

এ বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে বাল্ক বা পাইকারি সরবরাহ করতে প্রতি ইউনিটে ভর্তুকি ছাড়া ব্যয় হয় ১৩ টাকা ৯ পয়সা। যেখানে প্রতি ইউনিটে ৫ টাকা ১২ পয়সা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করে বিপিডিবি। অর্থাৎ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুৎ পাইকারি পর্যায়ে বিক্রিতে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্যাপাসিটি চার্জ দিচ্ছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা দেয়া বিপিডিবির প্রস্তাব ও বিইআরসির টেকনিক্যাল কমিটির তথ্য-উপাত্ত থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ক্যাপাসিটি চার্জ-বিষয়ক চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করুক বা না করুক, সরকার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কোম্পানিগুলোকে দিতে বাধ্য থাকে। মূলত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এবং পরিচালনার খরচ মেটাতেই এ চার্জ দেয়া হয়।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আমদানি বিদ্যুৎ মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৪৭৬ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ক্রয়ের প্রাক্কলন রয়েছে বিপিডিবির। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে এ পরিমাণ বিদ্যুৎ ক্রয়ে মোট ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হবে ৪৮ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ চার্জের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৫২ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা।

দেশে বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালের পর থেকে একের পর এক আইপিপি, রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন দেয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। সময়ের ব্যবধানে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়তে থাকলেও বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো যায়নি। এতে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয় বিপিডিবিকে।

বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে বিপিডিবির প্রতি ইউনিটে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ২ টাকা ৩৫ পয়সা (গড়)। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি এ ক্যাপাসিটি চার্জের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ৫ টাকা ২৪ পয়সায় গিয়ে দাঁড়ায়। ১৪ বছরের ব্যবধানে বিদ্যুতের ক্যাপাসিটি চার্জ ইউনিটপ্রতি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বিইআরসির কারিগরি কমিটি বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি ক্যাপাসিটি চার্জ গত বছরের চেয়ে কিছুটা কমার প্রাক্কলন করলেও আগামী অর্থবছরে পুনরায় এ চার্জ বাড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের বিশেষ আইন ব্যবহার করে একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের জ্বালানির সংস্থান না করে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে বিপিডিবিকে। আর এ অর্থের ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে দাম বাড়িয়ে বিদ্যুৎ খাতের লোকসান থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। বরং এ খাতে প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার। সেই সঙ্গে অব্যবহৃত ও অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন সক্ষমতা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত সক্ষমতা নিরূপণ করা জরুরি বলেও মনে করেন তারা।

আজকের পত্রিকা

প্রত্যাশা-প্রাপ্তি ও কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বে ১১ দলীয় জোটে অসন্তোষ’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, গঠনের পাঁচ মাসের মধ্যে ১১ দলীয় জোটে যেন ভাঙনের সুর বেজে উঠছে। জোটের শরিক দলগুলোর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব না মেলার পাশাপাশি আদর্শিক ও রাজনৈতিক দূরত্বও প্রকাশ পাচ্ছে। বিশেষ করে, সংরক্ষিত নারী আসনে সব দলের মতামত না নেওয়া, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটিতে অংশগ্রহণ প্রশ্নে মতপার্থক্য, এনসিপিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা-কর্মীদের যোগদান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বিল নিয়ে এনসিপির অবস্থান এবং একক কর্তৃত্বের অভিযোগ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
দলীয় সূত্র বলছে, জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে জোট ছাড়ার আলোচনা চলছে। আরও কয়েকটি দল জোট নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছে।

শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, জোটের দলগুলোকে এখনো পর্যন্ত ‘নামকাওয়াস্তে’ একসঙ্গে রেখেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি। সংসদে বিরোধী-দলীয় অবস্থান আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে এই জোটে কার্যকর সমন্বয় নেই। বিশেষ করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কয়েকটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমঝোতা না হলে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে বলে মনে করছেন নেতারা।

জোটের শরিক এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।

অনেক প্রত্যাশাই পূরণ হয়নি। বিশেষ করে, সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদে জামায়াতের যে ভূমিকা আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা প্রত্যাশা অনুযায়ী পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে তাদের মধ্যে একটা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব রয়েছে।’ তারপরও সংসদে ও রাজপথে শক্তিশালী বিরোধী দলের জন্য এই জোটের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সারজিস।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি। অন্যদিকে জামায়াত দক্ষিণে মেয়র পদে শিবির নেতা সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার কথা বলছে।

এনসিপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত যদি ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে ছাড় না দেয়, তাহলে জোট নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে এনসিপি। এ বিষয়ে দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ঢাকা দক্ষিণে ছাড় না পেলে জোটের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। এনসিপি জোট ছেড়ে বের হয়ে যেতেও পারে।

তবে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জুর মতে, ১১ দলীয় জোট মূলত একটি নির্বাচনী ঐক্য ছিল। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বা দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির ভিত্তিতে জোটটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সে সময় জামায়াতের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল যে এটি শুধু একটি ‘নির্বাচনী জোট’। নির্বাচনের পর এই জোট কার্যকর থাকার কথাও ছিল না। তবে বর্তমানে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জোটটি কোনোভাবে টিকে আছে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ইতিহাসের দ্রুততম রায়’। খবরে বলা হয়, আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার কঠোর শাস্তি অনেকটা অনুমিতই ছিল। তবে, দেখার বিষয় ছিল আসামিদের বিরুদ্ধে ও তাদের পক্ষে আইনি যুক্তি কী দাঁড়ায়। এটি এমনই এক মামলা যেখানে খোদ আসামিপক্ষের আইনজীবীও আসামিদের সাজা চেয়েছেন। নৃশংস এ হত্যা মামলার রায়ে আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসিতে প্রাণদন্ডাদেশ কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার জনাকীর্ণ আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।

রায়ে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। আর দণ্ডে অর্থ আসামিদের সম্পত্তি থেকে আদায় করে রামিসার পরিবারকে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশের পর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন থেকে বিচার শুরু বলে ধরে নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের দিন থেকে মাত্র তিন কার্যদিবসে শুনানি শেষে এ রায় হলো। দেশের ইতিহাসে ধর্ষণের কোনো মামলায় এটিই দ্রুততম রায়। পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে (২০২০ সালের অক্টোবরে) বাগেরহাটে এক শিশু ধর্ষণের আসামিকে বিচার শুরুর পর চার কার্যদিবস শুনানি নিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছিল সেখানকার একটি আদালত।

গতকাল বেলা ১১টায় রায় পাঠ শুরু হয়। এ সময় আদালতকক্ষ ছিল আইনজীবী, সাংবাদিক, আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং মামলার বাদীপক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে পূর্ণ। রায় শোনানোর জন্য আসামি স্বপ্না খাতুনকে সকাল সাড়ে ৮টায় এবং সোহেল রানাকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের রাখা হয় মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুই আসামিকে এজলাসের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় প্রধান আসামি সোহেল রানার হাতে হ্যান্ডকড়া এবং মাথায় নিরাপত্তা হেলমেট পরানো ছিল।

অন্যদিকে মেয়ে হত্যার রায় শুনতে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হন রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী। বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল রায়ের জন্য দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল। গত ২ জুন মঙ্গলবার একদিনে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। এরপর বুধ ও বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের শুনানি নিয়ে রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়। যুক্তিতর্কের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ডের আরজি জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আসামি সোহেলের যাবজ্জীবন এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে লাশ গুম ও আলামত নষ্টের দায়ে দন্ডবিধির ২০১ ধারায় স্বল্প সাজার আরজি জানান।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না রামিসাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকে তার পরিবার। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। পাষ- সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি।

সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে নিয়ে খাটের নিচে রাখে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই কক্ষে ছিল। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিনিয়োগ স্থবিরতায় কর্মসংস্থানে খরা’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চ সুদহারের নীতির প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে। একদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ভালো অবস্থায় থাকা ব্যাংকগুলোতে দ্রুত আমানত বাড়লেও সেই অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। ফলে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বা অলস টাকার পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই অলস তহবিল বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত বছরের মার্চে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ সুদহারের কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন ঋণ নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ফলে শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ শেষে আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, কিন্তু ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও ছিল ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে।

ব্যাংকারদের মতে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা প্রকাশ্যে আসায় গ্রাহকরা নিরাপদ মনে করা ব্যাংকগুলোতে অর্থ স্থানান্তর করছেন। এতে কিছু ব্যাংকে আমানতের চাপ বাড়ছে। কিন্তু ভালো ঋণগ্রহীতার অভাব ও উচ্চ সুদের কারণে সেই অর্থ বিতরণ করা যাচ্ছে না। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তারল্য যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে ঋণ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ভালো গ্রাহক নির্বাচন ও ঋণ বিতরণে সময় লাগে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ ট্রেজারি বিল-বন্ডসহ বিভিন্ন নিরাপদ খাতে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।’ তবে পুরো ব্যাংক খাতের চিত্র এক নয়। ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক এখনো তারল্য ঘাটতিতে রয়েছে।

বাড়ছে বেকারত্বের শঙ্কা: অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চ সুদহার প্রয়োজন হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্তমানে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি নতুন শিল্প স্থাপন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধা তৈরি করছে। ফলে শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তাদের মতে, ব্যাংকে জমে থাকা বিপুল অলস অর্থ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। এই অর্থ উৎপাদন, শিল্প ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে প্রবাহিত না হলে প্রবৃদ্ধির গতি আরও মন্থর হতে পারে।

৬১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা: এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ২০ হাজার কোটি টাকা থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে। বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উত্তরবঙ্গের কৃষি হাব গঠনের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন, যা বর্তমান বাজার সুদের প্রায় অর্ধেক। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতিতে বেকারত্বের চাপও বাড়তে থাকবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন