পাবনার পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি কিশোরী রিয়া খাতুন হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে সদর উপজেলার জালালপুর এলাকায় পাবনা-ঢাকা মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে নিহত রিয়ার সহপাঠী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা অংশ নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির দাবি জানান। একইসঙ্গে দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। বিক্ষোভ চলাকালে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল আবার শুরু হয়। উল্লেখ্য, পাবনা সদর উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা রিয়া খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার নাঈমের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। গত ২রা জুন রিয়া নাঈমের বাড়িতে বেড়াতে গেলে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে নাঈম রিয়াকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে রিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর ঘটনা গোপন করতে নাঈম তার দুই সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে ডেকে এনে মরদেহ বস্তাবন্দি করে একটি প্রাইভেটকারে করে পদ্মা নদীর তীরে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে নদী থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার হলে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
