বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে রেকর্ড গড়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ক্যাটাগরি ২ ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্লাব প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ৭৪ ভোটের মধ্যে ৭৩টি পেয়ে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। এর মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি থেকে পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের পরিচালক হিসেবে তার পথচলা শুরু হলো। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা এই নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর ক্রিকেটপাড়ায় শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
দেশের ক্রিকেটকে নতুন রূপ দিতে গঠিত এই পর্ষদে তামিম সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়ে নিজের অনন্য জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিলেন। ক্লাব প্রতিনিধিদের এই ভোটযুদ্ধে তিনি ছাড়া সাঈদ ইব্রাহিম ও ইসরাফিল খসরু ৭২টি করে ভোট পেয়েছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে মূলত শুরু হলো বোর্ডের নতুন পথচলা। এখন শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা বাকি। মাত্র আট মাসের ব্যবধানে বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের দুটি নির্বাচন ঘিরে দেশের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনে যে প্রচণ্ড উত্তেজনা ও সংশয় কাজ করছিল, অবশেষে গতকাল অত্যন্ত নিরুত্তাপ এক ভোটগ্রহণের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন তামিম ইকবাল। সহসভাপতি করা হয়েছে ফাহিম সিনহাকে।
নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরিতে তামিম ও সাঈদ ছাড়াও অন্যান্য বিজয়ীদের মধ্যে মাসুদুজ্জামান ৭০ ভোট এবং ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল ৬৮ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া শানিয়ান তানিম ৬৬, ফাহিম সিনহা ৬৬, সাকিব আহমেদ সালাম ৬৫, আসিফ রাব্বানি ৬৪, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ৬৩, রফিকুল ইসলাম বাবু ৫৩ এবং প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম ৪১ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। এই ক্যাটাগরিতে পরাজিতদের মধ্যে সৈয়দ বোরহানুল হোসেন ৪০ ভোট পেয়ে মাত্র ১ ভোটের ব্যবধানে হেরে ট্র্যাজেডির শিকার হন। তিনি অনেক চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি, যা ভোটারদের মনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্য পরাজিত প্রার্থীরা হলেন মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ৩২ ভোট, অবসরপ্রাপ্ত মেজর ইমরোজ আহমেদ এবং ফৈয়াজুর রহমান মিতু ২৩ ভোট।
অন্যদিকে, জেলা ও বিভাগীয় ক্যাটাগরি তথা ক্যাটাগরি ১ থেকে এর আগে ৭ জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাদের মধ্যে ঢাকার সাইদ বিন জামান ও এসএম আব্দুল্লাহ ফুয়াদ, সিলেটের আব্দুল কাইয়ুব চৌধুরী, চট্টগ্রামের মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও মঈন উদ্দিন চৌধুরী, রাজশাহীর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং রংপুরের মির্জা ফয়সাল আমীন অন্যতম। তবে খুলনা বিভাগে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মো. শফিকুল আলম ও শান্তনু ইসলাম ১০টি করে ভোট পেয়ে বোর্ড পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। বরিশালে ৭ ভোটের মধ্যে ৫টি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান। বরিশালের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি মূলত ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী মহলের নিজেদের মধ্যকার এক অলিখিত যুদ্ধ ছিল বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এছাড়া ক্যাটাগরি ৩ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর। পূর্বের নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছতা নিয়ে যে ব্যাপক প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা ছিল, এবারের উৎসবমুখর পরিবেশের মাধ্যমে তার অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। নবনির্বাচিত এই ২৩ জন পরিচালকের সঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তথা এনএসসির ২ জন মনোনীত প্রতিনিধি যুক্ত হয়ে ২৫ জনের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করবেন। এরপরই ক্লাব লীগের এই নীতিনির্ধারকরা নিজেদের ভোটের মাধ্যমে পরবর্তী বোর্ড সভাপতি নির্বাচন করবেন। গত এপ্রিল মাসে তামিমের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির ৭ জনই এবার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে সফল হলেন।
দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখন এই নতুন কমিটির নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে। অধিকাংশ পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটগ্রহণ ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং যানচলাচল সীমিত রাখা হয়। ভোটের প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো ব্যালটই পড়েনি। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে নিজের ভোট প্রদান করেন। গত ৭ই এপ্রিল অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পূর্বের বোর্ড বাতিল করে তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে দেয়। তারাই নির্বাচন আয়োজন করে।
