‘নট আউট’ ম্যান ব্রায়ান বেনেট

‘নট আউট’ ম্যান ব্রায়ান বেনেট

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর গত বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকেও হারায় জিম্বাবুয়ে। কলম্বোতে সেই ম্যাচটি জেতার পর হুঙ্কার দেননি ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। শূন্যে লাফিয়ে ওঠেননি। কেবল হাসিমুখে সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে জয় উদ্যাপন করেন জিম্বাবুয়ের এই ব্যাটিং তারকা। বিশ্বকাপজয়ী দুই দলকে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপের সেরা হয়ে শেষ আটে পা রাখে জিম্বাবুয়ে। এ সাফল্যের নেপথ্যে থাকা ব্যাটার বেনেট এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সময় পার করছেন। তিন ম্যাচে একবারও আউট হননি তিনি। ওমানের বিপক্ষে ৪৮*, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬৪* ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৩* রান আসে বেনেটের ব্যাট থেকে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। ব্রায়ান বেনেটের ক্রিকেটে আসার গল্পটা চমকপ্রদ। জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে থেকে ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের গ্রাম গোরোমোঞ্জি। সেখানেই বেনেটের বেড়ে ওঠা। বাড়ির পেছনে নেট লাগিয়ে যমজ ভাই ডেভিডের সঙ্গে খেলে ক্রিকেটের হাতেখড়ি। সেই স্মৃতি মনে করে এক সাক্ষাৎকারে বেনেট বলেন, ‘আমি মনে হয় তিন-চার বছর বয়সে প্রথম ব্যাট হাতে নিয়েছিলাম। আমার একজন যমজ ভাই আর এক ছোট ভাই আছে। বাবা বাড়িতেই নেট তৈরি করে দিয়েছিলেন, তাই স্কুল থেকে ফিরলেই আমরা প্র্যাকটিস করতে পারতাম। যমজ ভাই থাকায় অনেক সুবিধা হয়েছে, কারণ আমি কখনো একা ছিলাম না-সবসময় খেলার সঙ্গী ছিল।’

ডেভিড এবং ব্রায়ান। একজন ব্যাটিং করতেন, অন্যজন বোলিং। প্রতিদিন স্কুল শেষে এবং ছুটির দিনে তাদের বাবা কেলির তৈরি করা নেটে এভাবেই দুজনের অনুশীলন চলতো। দুজনের বাবা কেলি নিজেও ক্লাব ক্রিকেট খেলেছেন। ফ্লাওয়ার ব্রাদার্স, ডেভ হটন এবং হিথ স্ট্রিকদের সাথে ইয়াং মাশোনাল্যান্ডের হয়ে কয়েকটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার।
কেলি এখন ব্লুবেরি চাষ করেন। বেনেটের ভাই ডেভিড এখন তামাক চাষী। অন্যদিকে ব্রায়ান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের চাষ করছেন। যেখান থেকে চাষের শুরু, সেই গোরোমোঞ্জি গ্রামে এখনো সেই নেটটি রয়েছে।
ক্রিকেটটা বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন বেনেট। বাবার উদাহরণ টেনে বেনেট বলেন, ‘তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি ঠিকই, তবে জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ক্লাব ক্রিকেটে খেলেছেন। তাই ক্রিকেট সবসময় পরিবারের অংশ ছিল।’

করোনা মহামারীর সময় বেনেটের পড়াশুনা থমকে যায়। খেলাধুলাও বন্ধ ছিল। তখন পরিবার বিকল্প পথ খুঁজে নেয়। ২০২২ সালে বেনেট দক্ষিণ আফ্রিকার কিংসউড কলেজে যান। ডেভিডও সঙ্গে ছিলেন। সেখানে খেলতে গিয়ে নিজের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাট করেন বেনেট। পিয়ারসনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বেনেট ১০০ বলে ১৫১ রান করে প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেন। সেখানকার কোচ অ্যান্ড্রু বার্চ বেনেটের প্রথম ম্যাচটি নিয়ে বলেন, ‘তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা ছিল সবচেয়ে মুগ্ধ করার মতো।’
যমজ দুই ভাই ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেন। এরপর ব্রায়ান দ্রুত উন্নতি করতে থাকেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের হয়ে তার টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়। এক বছরের মধ্যে তিন সংস্করণে ডাক পান। প্রতি সংস্করণেই সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন। ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র সপ্তম টেস্টে জিম্বাবুয়ের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন বেনেট। নটআউট থাকার টেকনিক ছোটবেলা থেকে জানতেন ২২ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘যদি আপনার ডিফেন্স শক্ত হয়, তবে কোনো কিছুই আপনাকে সমস্যায় ফেলতে পারবে না। আমাদের কোচ জাস্টিন (স্যামনস) সবসময় বলেন, যদি তুমি বোলারের সেরা বলটি ঠেকিয়ে দিতে পারো, তবে তোমাকে আউট করা কঠিন।’
এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং বিরাট কোহলিকে অনুপ্রেরনা হিসেবে দেখেন বেনেট। আইপিএলে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর তার প্রিয় দল। অবসরে তিনি বাবা-মায়ের ফার্ম হাউসে যান। গলফ খেলেন। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো বোলারই তাকে ড্রেসিংরুমের পথ ধরাতে পারেনি।
বেনেটের বয়স এখন ২২ বছর। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের লম্বা সময় এখনও বাকী। সেই পথ সামনে রেখে এবারের বিশ্বকাপে ‘নটআউট’ বেনেট, সঙ্গে জিম্বাবুয়েও।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন