পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে চঁাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গত শনিবার রাতে ছাইকোলা বাজারে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা এই দুই নেতার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
জানা গেছে, ছাইকোলা বাজারে টোল তোলা ও স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে হারুন অর রশিদ গ্রুপ ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। শনিবার ছাইকোলা বাজার মোড়ে দুই দফা মুখোমুখি হয় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এরপর রাতে আতিকুর রহমান আতিকের নেতৃত্বে বেশ কিছু নেতাকর্মী লাঠিসোঠা হাতে নিয়ে হারুন অর রশিদ ও ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে। পথসভায় বক্তব্য দেন, সাগর হোসেন, আলামিন হোসেন প্রমুখ।
এ ব্যাপারে আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ৫ই আগস্টের পর হারুন অর রশীদ ছাইকোলা ইউনিয়নব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। রাকিবুলসহ অন্য কর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে। দলের নেতাকর্মীদেরও তারা ছাড়ছে না। এ বিষয়ে ছাইকোলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, ওরা যেটা করছে, পুরোটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছে।
চাঁদাবাজির কোনো ঘটনাই নাই। মূল ঘটনা আমাদের ছাত্রদলের দুইটা ভাইকে আওয়ামী লীগ পরিবারের ছেলেপেলে মারধর করে। সেটার প্রতিবাদ করতে গেলে তারা কয়েক ভাই মিলে আমার ওপর হামলা করে। এখন উল্টো তারাই আমাদের চাঁদাবাজ বলছে।
অভিযোগের ব্যাপারে ছাইকোলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, আতিক, আলামিন এরা ৫ই আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে চলেছে। এখন তারা বিএনপি সেজেছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা ধানের শীষের পক্ষে আর তারা বিপক্ষে নির্বাচন করেছে। এটা একটা কারণ। আরেকটা কারণ সম্প্রতি ছাত্রদলের এক ছেলেকে ছাত্রলীগের এক ছেলে মারপিট করে। সেই বিষয়টা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব শুনতে গেলে কথাকাটাকাটি থেকে পরে হাতাহাতি হয়। চাটমোহর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছাইকোলার ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে খবর পেয়ে দুই দফা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
