টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আফগানিস্তানের ছিটকে যাওয়া নিশ্চিত হয় আগেই। শেষ ম্যাচে গতকাল কানাডার বিপক্ষে বড় জয়ে তাই খুব উচ্ছ্বাসের কারণ ছিল না রশিদ খানদের। তবে এদিন ছিল ভিবন্ন পরিস্থিতি। আফগানিস্তানের প্রধান কোচ জনাথন ট্রটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। চেন্নাইয়ে বিদায় বেলায় সংবাদ সম্মেলনে চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি এ ইংলিশ কোচ। ট্রটের হাতে নিজের ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দেন ঝড়ো ইনিংস খেলা ইব্রাহিম জাদরান। আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অধিনায়ক রশিদ খানও।
এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ২০০ রান তোলে আফগানিস্তান। রান তাড়ায় ৮ উইকেটে ১১৮ রানে থামে কানাডা। ৮২ রানের জয়ের দিন দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দেন ইব্রাহিম জাদরান ও সেদিকুল্লাহ আতাল। ৫৬ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৯৫ রানে অপরাজিত থাকেন ওপেনার জাদরান। ৩২ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৪৪ রানে ফিরে যান আতাল। ৪ ওভারে ৩ উইকেট নেয়ার পথে ৫২ রান খরচ করেন ভারতের ‘এ’ দলে খেলা জাসকারান সিং। রান তাড়ায় কানাডার হয়ে ২৪ বলে সর্বোচ্চ ৩০ করেন হার্শ ঠাকের। ২৬ বলে ২৮ রান আসে সাদ বিন জাফরের ব্যাট থেকে। ৪ ওভারে স্রেফ ৭ রান খরচ করে ৪টি উইকেট নেন অভিজ্ঞ আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী। জয়ের পর মাঠেই আবেগ্লাপুত হয়ে পড়তে দেখা যায় কোচ জনাথন ট্রটকে। এক পর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনেও গলা ধরে আসে তার। তিনি বলেন, ‘বলেছিলাম যে, ভেঙে পড়বো না...।’ ২০০২-এর মাঝামাঝিতে দেড় বছরের জন্য আফগান দলের দায়িত্ব নেন ট্রট। ইংলিশ কোচের হাত ধরে দারুণ কিছু লড়াই উপহার দেয় রশিদ খানরা। দ্বিপক্ষীয় সিরিজেও স্মরণীয় কিছু সাফল্য পায় তারা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, আফগান বোর্ডই আর ট্রটের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে আগ্রহী নয়। একই সুর শোনা গেল তার গলাতেও। ৪৪ বছর বয়সী ট্রট বলেন, ‘(দায়িত্ব) চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তটি আমার নয়। স্রেফ এতটুকুই বলছি। হয়তো এটিই উপযুক্ত সময়, হয়তো নয়। জানি না। সবার ভবিষ্যতের জন্যই শুভ কামনা।’ নিজ দেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইংল্যান্ড দলকে সবসময় ভালো করতে দেখতে চাই। যে দল আমার হৃদয়ের এত কাছে, আশা করি একদিন সেই দলকে কোচিং করানোর সুযোগ পাব। নিশ্চিতভাবেই আরও অনেকেই এ দায়িত্ব খুব করে পেতে চাইবে। তাই, দেখা যাক...।’
ম্যাচের পর শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রশিদ খানও। গুরু ট্রটকে নিয়ে আফগান অধিনায়ক বলেন, ‘আমি মনে করি, তার (ট্রটের) সঙ্গে আমরা দারুণ কিছু সময় কাটিয়েছি। আজ আমরা যেখানে রয়েছি, সেখানে উনি প্রধান ভূমিকায় কাজ করেছেন। তার বিদায় নিতে দেখাটা আবেগী ব্যাপার, তবে জীবন এমনই। তাকে আমরা শুভ কামনা জানাই এবং জীবনের কোনো এক বাঁকে হয়তো আবারও দেখা হবে।’
ট্রটের বিদায় বেলায় আবেগে ভাসলো আফগান শিবির
স্পোর্টস ডেস্ক
২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
