বাড়ি থেকে বের হলেই কালচে পানি। পানির উপরে ভাসছে প্রসেস কারখানার ময়লা আবর্জনাযুক্ত পানি। পানির ভেতর দিয়ে যাতায়াত করার কারণে দেখা দিয়েছে ঘা পাঁচড়া। বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েলে চাপ দিলে পানি বের হচ্ছে বিভিন্ন রঙয়ের। এভাবেই দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেট এলাকার ৫শ’ পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাই ভাই অবৈধ প্রসেস মিলের কারখানার বর্জ্যের পানির কারণে এলাকায় বসবাস করা অনুপযোগী হয়ে গেছে।
বৃষ্টি হলেই এই ময়লা-আবর্জনা যুক্ত পানি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। হালকা বাতাসে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়। শনিবার দুপুরে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেটের পাশেই প্রসেস মিল। স্থানীয় এমপি’র নির্দেশে কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকলেও আবার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের বর্জ্যে পানি জমে থাকায় হালকা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ির আঙিনায় উঠে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা কামনা রানী বলেন, এই প্রসেসের নোংরা জলের কারণে আমাদের শরীরে বারো মাসি ঘা পাঁচড়া থাকে। পানি খেতে পারি না, আমাদের দুঃখের শেষ নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে এই কারখানা স্থাপন করেছেন। যা আমাদের এখন মরণের ফাঁদ। মাদ্রাসার ছাত্র রাফিত বলেন, বৃষ্টি হলে পচা পানি পেরিয়ে মাদ্রাসায় যেতে হয়। পায়ে চুলকানি হয়। চুলকানির যন্ত্রণায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারি না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক প্রসেস মিল এখন ৫০০ পরিবারের মরণফাঁদ। আমরা একবেলা না খেয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই কারখানার কারণে এলাকার ৫শ’ পরিবার খুবই দুর্ভোগে আছে।
ভাই ভাই প্রসেস মিলের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলামের কারখানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানায় বিষয়ে তার ভাতিজা রাজু আহাম্মেদ বলেন, আপাতত কারখানা বন্ধ রেখেছি।
ঢাকায় অফিসে গিয়ে দেখা করে এসেছি। তারা যেভাবে নিয়মমাফিক কারখানা চালু করতে বলে, সেভাবেই চালু করবো। এক বছর পর কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা আছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম মুঠোফোনে জানান, ইতিপূর্বেও দৌলতপুরের বিষয়ে অভিযোগ ছিল, আইনগত বিষয়ে ইনফোর্সমেন্ট পাঠিয়েছিলাম। প্রসিকিউটর ভেতরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলবো। এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, প্রসেস মিলের বর্জ্যের পানির কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে- এমন অভিযোগ পেয়েছি। অতি দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
