চাপারহাট হাসপাতালের কাজ ঝুলে আছে ২ যুগ ধরে

চাপারহাট হাসপাতালের কাজ ঝুলে আছে ২ যুগ ধরে

ফন্ট সাইজ:

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাটে ২০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার দুই যুগ চলছে। ভূমি অধিগ্রহণের পর তিন-তিনটি সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এ পর্যন্ত হাসপাতাল নির্মাণের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কোনো সরকার। ২০০৩ সালে চাপারহাটে একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন বিএনপি সরকার। ২০০৭ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর বত্রিশহাজারী মৌজায় ৩ একর ৬৮ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। সিভিল সার্জন লালমনিরহাট বরাবর দলিল সম্পাদন নামজারি সহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়।

বিএনপি সরকার পরিবর্তনের পর কাজের অগ্রগতি থেমে যায়। এরপর, তিন-তিনটি সরকার পরিবর্তন হলেও কোনো সরকারের আমলে হাসপাতালটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর লালমনিরহাট জেলার তিনটি আসনেই বিএনপি বিজয়ী হয়। ত্রাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি। লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ- আদিতমারী) আসনে রোকন উদ্দিন বাবুল বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন। যে কারণে চাপারহাট হাসপাতাল নির্মাণের প্রত্যাশাটি যেন ‘সাপে বর’ হয়ে আসে। স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৫ বছরে এ এলাকার শিক্ষা, সচেতনতায় উন্নয়ন প্রসার ঘটলেও স্বাস্থ্যসেবা খাতে তেমন উন্নয়ন সাধিত হয়নি। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিখ্যাত চাপারহাটে একটি মেডিকেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে।

চাপারহাট এস কে ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন পাকা সড়কের ধারে ২০০৭ সালে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৩ দশমিক ৬৮ একর ভূমি তৎকালীন বিএনপি সরকার আমলে অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত ভূমি স্বাস্থ্য বিভারের অনুকূলে দলিল সম্পাদন সহ নামজারি রেকর্ড সম্পন্ন হয়। অবকাঠামো নির্মাণ শুরুর পর্যায়ে সরকার পরিবর্তন ঘটলে হাসপাতাল নির্মাণ কাজটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৪ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগটি সামনে আসে। এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল, মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর আন্তরিক হস্তক্ষেপে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল হাকিম, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সহ কয়েকবার অধিগ্রহণকৃত ভূমি সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য সরজমিন পরিদর্শন করেন। সর্বশেষ ৬ই জুন হাসপাতালের ভূমি জরিপের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এলাকাবাসী হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা সহ দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্নের জোর দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন