নড়াইল সদর খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি আহসান কবীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে, সরকারিভাবে ধান চাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে তিনি সরকারের নিয়ম যথাযথভাবে প্রতিপালন করছেন না। তার অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে মিলাররা চাল সরবরাহে অনীহা প্রকাশ করেন। লাইসেন্স টিকিয়ে রাখার জন্য বাধ্য হয়ে অনেক মিলার চাল সরবরাহ করছেন। গুঞ্জন রয়েছে মিলারদের যৎসামান্য লভ্যাংশে তিনি ভাগ বসান। নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে মিলাররা তার সঙ্গে অবৈধ লেনদেন করতে বাধ্য হন।
রোববার সরজমিন গিয়ে জানা যায়, সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে তার বেপরোয়া দুর্নীতি। যথাযথ প্রচার না থাকায় প্রকৃত কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি। ওসিএলএসডি আহসান কবীরের আশীর্বাদপুষ্ট একটি চক্র কৃষকদের নিকট হতে তাদের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে দিয়েছেন। তাদের রেজিস্ট্রেশন করা কৃষকদের মধ্যে লটারি হয়েছে। যাদের নাম লটারিতে উঠেছে তারাই কেবলমাত্র সরকারি গুদামে ধান দিতে পারবেন। প্রচার না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক কৃষকরা ওই লটারিতে অংশ নিতে পারেননি। ওসিএলএসডি আহসান কবীর নড়াইলে যোগদানের পর থেকে নিজের একটি বলয় সৃষ্টি করে নিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম পরিচালিত করেন। এ কারণে ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চান না।
অবশ্য ধান সংগ্রহের জন্য কৃষকদের আনুষ্ঠানিক লটারির দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রকাশ্যে তার সামনে অনেকেই মুখ খোলেন। তার দুর্নীতি অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। তার বিরুদ্ধে নিজের পছন্দের লোকজনদের সরকারি ধান-চালের বস্তা অগ্রিম দিয়ে দেয়ার অভিযোগ তোলেন একাধিক ব্যক্তি। কৃষকদের ধান নিতে অনীহা ও তাদেরকে হয়রানির কথা তুলে ধরেন। সে সময় ওসিএলএসডি আহসান কবীর কোনো কথার প্রতিবাদ না করে চুপসে যান। প্রতি বছরই তিনি ধান চাল সংগ্রহে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য নানা ধরনের কূটকৌশল করেন। তার কূটকৌশলের কারণে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওসিএলএসডি আহসান কবীর নড়াইলে যোগদান করেই বিতর্কিত কিছু লোকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে সকল প্রকার কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছেন। কোনো অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গেলে সরকারি দলের লোকজনের দোহাই দিতেন। বিগত সরকারের সময় খাদ্য গুদামকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা নেয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ এখনো খাদ্য গুদামে নিয়মিত যাতায়াত করছেন। তাদের সঙ্গে গভীর সখ্যতা থাকায় তিনি তাদের সুকৌশলে সুবিধা দেয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
নিজের অপকর্ম ঢাকতে তিনি প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করেন। খাদ্য গুদামের পরিবশেটাই নষ্ট করে ফেলেছেন। বহিরাগত লোকজন নিয়ে সারাক্ষণ খোশগল্পে মত্ত থাকায় সাধারণ লোকজন অফিসে যেতে ভয় পান। একটা সরকারি অফিসে যে পরিবেশ থাকা দরকার তা নেই। গত ১৫ই মে হতে চাল সংগ্রহের কথা থাকলেও তিনি ১৭ই মে হতে চাল সংগ্রহ শুরু করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ হাজার ৫শ’ ১২ টন। সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ৩১শে জুলাই পর্যন্ত। এ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৮০৯ টন। প্রতি কেজি চাল ক্রয় করছেন সরকারি রেট প্রতি কেজি ৪৯ টাকায়। তার অসহযোগিতার কারণে ২৯ জন মিলারের মধ্যে চাল সরবরাহ করছেন ২৯ জন মিলার। অপরদিকে, ৩রা জুন হতে ধান সংগ্রহ শুরু করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ হাজার ৪শ’ ৩০ টন। প্রতি কেজি ধান কেনা হচ্ছে ৩৬ টাকা দরে।
এ পর্যন্ত ক্রয় করেছেন ২৪ টন। অনেকের অভিমত প্রকৃত কৃষকরা ধান বিক্রির লটারিতে অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ায় ধান সংগ্রহে ভাটা পড়তে পারে। লটারিতে বাদ থাকা কৃষকদের মধ্যে পুনরায় লটারি করা বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিয়ে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র অর্জন করতে হবে। যথাযথ তদন্ত করলে ধান সংগ্রহে তার দুর্নীতি ও ধান্দাবাজির সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলবে বলে দাবি করেন সচেতন মহল। ওসিএলএসডি আহসান কবীর নড়াইল খাদ্য গুদামে যোগদানের পর ধান চাল সংগ্রহসহ যেসব কার্যক্রম করেছেন তার প্রতিটি পরতে পরতে দুর্নীতির সুস্পষ্ট ছাপ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল তার বিরূদ্ধে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কৃষকবান্ধব একজন অফিসারকে তার স্থানে প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। দুর্নীতি অনিয়মের বিষয়ে ওসিএলএসডি আহসান কবীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পারে। অনেকে এসে সুপারিশ করে, তাই তাদের কথা রাখতে হয়। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খোন্দকার তাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পূর্বে যাই কিছু করুক, এখন থেকে অনিয়ম করার সুযোগ পাবে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিএম রাহসিন কবীর বলেন, ধান সংগ্রহের জন্য কৃষকদের লটারি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। সে কারণে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রকার কথা না উঠে সেভাবে কাজ করতে।
