ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ক্ষোভ কৃষকের

তিন ফসলি জমিতে সোলার পার্ক

ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ক্ষোভ কৃষকের

ফন্ট সাইজ:

পাবনার সুজানগরে তিন ফসলি কৃষিজমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের দাবি, সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত দেখিয়ে প্রায় ২০৬ একর উর্বর কৃষিজমি ইজারা দেয়া হলেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এসব জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন হাজারো ভূমিহীন কৃষক। সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের ফলে তারা জমি ও জীবিকার উৎস হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কিছুই পাননি বলে অভিযোগ তাদের। উল্টো ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেকে।

পাবনার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের পদ্মা নদী তীরবর্তী রামাকান্তপুর গ্রামে বাংলাদেশ-চীনা যৌথ মালিকানাধীন বাংলাদেশ-চীনা রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি লিমিটেড (বিসিআরইসিএল) ৬৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। প্রায় ১ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পের জন্য ২০২১ সালে প্রায় ২০৬ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে জমিগুলোকে অকৃষি ও পরিত্যক্ত হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলো ছিল অত্যন্ত উর্বর তিন ফসলি কৃষিজমি। পদ্মা নদীর ভাঙনে একসময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়া জমিগুলো পরবর্তীতে চর জেগে উঠলে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষকরা সেখানে ধান, ভুট্টা, পাট, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে আসছিলেন। বছরে তিনটি পর্যন্ত ফসল উৎপাদন হতো এসব জমিতে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, জমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের নানা আশ্বাস দেয়া হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। প্রতিবাদ করায় অনেককে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে একদিকে আবাদি জমি হারিয়ে জীবিকা সংকটে পড়েছেন তারা, অন্যদিকে মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

সম্প্রতি জমির ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে সোলার পার্কের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন তারা জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ অথবা বিকল্প খাস জমি বন্দোবস্তের দাবি জানাচ্ছেন। তবে পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে কৃষকদের মালিকানা না থাকায় সরাসরি জমির মূল্য বা ক্ষতিপূরণ দেয়ার সুযোগ নেই। তবুও বিষয়টি তদন্ত করে সেখানে প্রকৃত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি খাস জমি বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এদিকে সোলার পার্ক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সবধরনের সরকারি নিয়ম ও বিধি মেনেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে উন্নয়নের এ প্রকল্পের আড়ালে জীবিকা হারানো কৃষকদের দীর্ঘশ্বাস এখনো থামেনি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন