মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালসহ মর্যাদাপূর্ণ আটটি ম্যাচ আয়োজনের ঐতিহাসিক প্রস্তুতি চললেও, এই মেগা ইভেন্ট ঘিরে নিউ জার্সির বাসিন্দাদের মনে তীব্র দ্বিধা ও মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। একদিকে বৈশ্বিক এই আসরকে ঘিরে অর্থনৈতিক চাঙ্গাভাবের আশা, অন্যদিকে ট্রাফিক জ্যাম ও গণপরিবহণের নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনার আশঙ্কা গ্রাস করেছে স্থানীয়দের। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘রাটগার্স-ইগলটন পোল’-এর এক নতুন জরিপে এই চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বকাপের মূল খেলার চেয়ে এর কারণে সৃষ্ট নাগরিক ভোগান্তির খবর রাখতেই বেশি আগ্রহী। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ ভোটার বিশ্বকাপ সংক্রান্ত স্থানীয় খবর, যেমন নিরাপত্তা, ট্রাফিক, যাতায়াত ও অর্থনৈতিক প্রভাবের খবরাখবর রাখছেন। এর বিপরীতে, মূল টুর্নামেন্ট, দল, তারকা খেলোয়াড় বা ম্যাচের খবর রাখছেন মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ। স্থানীয়ভাবে খেলা দেখার সুযোগ থাকলেও চড়া টিকিটের দাম ও যাতায়াত ঝামেলার কারণে মাত্র ২ শতাংশ মানুষের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গিয়ে সরাসরি খেলা দেখার পরিকল্পনা আছে। আর ৩৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা কোনো ঝামেলায় না গিয়ে ঘরে বসেই টেলিভিশনে খেলা উপভোগ করবেন।
গত ১৫ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত নিউ জার্সিতে পরিচালিত এই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৬৪ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, বিশ্বকাপ আয়োজন এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে একটি বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এই অর্থনৈতিক আশার আলো ঢেকে দিচ্ছে যাতায়াত বিপর্যয়ের অন্ধকার। জরিপে অংশ নেওয়া সিংহভাগ মানুষই ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরণের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ টুর্নামেন্ট চলাকালীন তীব্র যানজট এবং যাতায়াতে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন, যার মধ্যে ৪৯ শতাংশই বলেছেন, তারা এই বিষয়টি নিয়ে ‘প্রচণ্ড চিন্তিত’।
একই সাথে বিশ্বকাপের সময় নিউ জার্সির গণপরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ভয় কাজ করছে। জরিপ বলছে, ৬৪ শতাংশ ভোটার এনজে ট্রানজিট ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় এবং সিডিউল বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুধু গণপরিবহনই নয়, এই মেগা ইভেন্টের কারণে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নাগরিক সেবাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ মানুষের আশঙ্কা, টুর্নামেন্টের বাড়তি চাপের কারণে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সের মতো স্থানীয় জরুরি সেবাগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী সাধারণ ভোটারদের মতে সম্ভাব্য বিজয়ী দলগুলো হলো যথাক্রমে ব্রাজিল ২৩ শতাংশ, আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ১৯ শতাংশ, এবং ফ্রান্স, স্পেন ও আর্জেন্টিনা প্রত্যেকে ৯ শতাংশ করে।
সামগ্রিকভাবে এই জরিপের ফলাফল মূলত রাজ্যের নীতিনির্ধারক এবং এনজে ট্রানজিট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বকাপের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও সাধারণ মানুষের এই তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দূর করতে কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত যাতায়াত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারে, তবে তা বৈশ্বিক মঞ্চে নিউ জার্সির ভাবমূর্তি নিয়ে একটি বড় ধরণের নেতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
