সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা

সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ আদেশ দেন। সেইসঙ্গে দুই আসামিকে ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছেন আদালত। রোববার বেলা ১১টার দিকে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। একপর্যায়ে বিচারক বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে প্রমাণ হয়েছে রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। স্বপ্না সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যাথিত করে।

এরআগে রোববার সকালে রায় ঘোষণার জন্য মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয়। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ও স্বপ্না আক্তারকে সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে মহানগর আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মূলত রামিসা হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ রায় ঘোষণা হল। এদিকে রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আদালত চত্বর, প্রবেশপথ এবং আশপাশের সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

এছাড়া মেয়ে হত্যার রায় শুনতে আদালতে আসেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। সকালে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে তাকে দেখা যায়। রায় ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রায়ের দিন ধার্যের পর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে শক্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বপ্না খাতুনও অপরাধ সংঘটন ও পরবর্তী কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন বলে আদালতে দাবি করা হয়।

এরআগে গত ১৯ মে শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। গত বৃহস্পতিবার এ মামলায় যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয়।
যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে রামিসা হত্যার ঘটনা ঘটে। পরদিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং লাশ গোপনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার চার দিনের মাথায় তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন। অভিযোগপত্রভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার গত ১৯ মে সকালে নিখোঁজ হয়। পরে প্রতিবেশীর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে এবং তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

Nahid Hossain

৫৬ মিনিট আগে

রমিসা হত্যার রায় এ খু*নিদের ফাঁ*সি হয়েছে , কিন্তু ওই এলাকার ইয়াবা সাপ্লাইকারীরা অধরাই থেকে যাবে, পরে আরও কেস তৈরি করবে !

Md Shariful Islam

১ ঘন্টা আগে

স্বাধীন বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত একজন মহিলারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় নাই। সুতরাং স্বপ্নার কোন ভয় নাই। আমৃত্যু জেলখানায় আরাম আয়েশেই কাটাবে।

মন্তব্য করুন