সীমান্তে কিলিং-পুশিংয়ে বাড়ছে ক্ষোভ

সহযোগীদের খবর

সীমান্তে কিলিং-পুশিংয়ে বাড়ছে ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

যুগান্তর

সীমান্তে কিলিং-পুশিংয়ে বাড়ছে ক্ষোভ’-এটি দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের দ্বিচারি আচরণে নতুন করে প্রশ্নের সম্মুখীন ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক। একদিকে প্রতিনিয়ত বলা হচ্ছে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন চায়; অন্যদিকে অবৈধ বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ভারতীয় মুসলিমদের প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা করছে বিএসএফ। সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে ভারত এমনটা করছে। যদিও কিছুদিন থেকে বিজিবি হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে। ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএসএফের এমন অপচেষ্টা রুখে দিচ্ছে বিজিবি।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর সীমান্তে এমন প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে প্রায়ই সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা অব্যাহত রয়েছে। ভারত সরকারের এমন উদ্ভট আচরণে বাংলদেশের জনগণ ও সচেতন মহলে ক্রমেই ক্ষোভ-অসন্তোষ বাড়ছে। কোনো অবৈধ বসবাসকারী চিহ্নিত হলে তাকে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আছে। অভিযোগ উঠেছে, ভারত এ রকম প্রক্রিয়ার কথা মুখে বললেও কার্যত বেছে নিয়েছে পুশইনের মতো অপেশাদার ও অমানবিক পন্থা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, ভারত এক ধরনের মিশ্র মেসেজ দিচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, ভারতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের বিষয়ে বাংলাদেশ যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সেটি একটি যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব। কিন্তু বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতের বিএসএফ পুশইনের যে ঘটনা তাতে বাংলাদেশের জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তারা একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কোনো কোনো সীমান্তে দেখা যাচ্ছে বিজিবির সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণও সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, এখানে সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। কারণ জনগণও যদি সম্পৃক্ত হয়ে যায় তাহলে নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে একবার দুই দেশের জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। তাই জনগণের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। সমস্যা সমাধানে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং কূটনীতিক চ্যানেলে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। প্রতিটি দেশেরই এসব বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নীতিমালা আছে। সেগুলো মেনেই পরিস্থিতির সমাধান করতে হবে।

ভারত সরকার বছরখানেক আগে দেশটিতে অবৈধ বসবাসকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছিল। সেখানে বারবার উঠে আসে অবৈধ বাংলাদেশিদের কথা। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির জ্যেষ্ঠ প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (বর্তমানে মূখ্যমন্ত্রী) জিতলে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান।

সর্বশেষ গত শুক্রবার ভারতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল দিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ সব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি বলেন, একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, ভারত তা আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে নিতে চায়।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে কেউ ভারতে থাকতে পারবে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমাদের অবস্থান অভিন্ন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের আইন রয়েছে এবং সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্দেহভাজন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত। এ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আরও মসৃণ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগেই ভারত কেন সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২ জুন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন ও পুশব্যাকের বিরোধী সরকার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ ও প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে। এদিন সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং অন্য দেশে অবস্থান করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা পাঠিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও আইনগত নিয়ম মেনে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল এইচআরএম রোকন উদ্দিন (অব.) এ বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, আমরা মনে করতাম, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়া। আসলে এটি স্বার্থের সম্পর্ক। বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে ভারতের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিল তা আমরা পাইনি। বরং আমরা দেখেছি ভারত সব সময় নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে।

তিনি বলেন, সাপটা, সার্কেও ভারত তাদের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যতগুলো চুক্তি হয়েছে সেখানে তারা তাদের স্বার্থ শতভাগ রক্ষা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের নায্য চাওয়া-পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা সব সময় গড়িমসি করেছে। সেটা গঙ্গা বা তিস্তার পানি থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে প্রাধান্য দিয়েই সব কাজ করেছিল। কিন্তু বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবার শুধু ভারত নয়, বিশ্বের নানা দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছে। এবারও তাই করেছে। তবে কৌশলের অংশ হলেও ভারত বর্তমান বিএনপি সরকারের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। কিন্তু সীমান্তে যা করছে তার সঙ্গে তাদের ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বক্তব্যের কোনো মিল নেই। প্রায়ই সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করে চলেছে। এমনকি সীমান্তের কিছু এলাকায় তারা সীমান্ত চিহ্নিতকরণ জিরো লাইন পেরিয়ে কাঁটাতার দিয়েছে। ফ্লাড লাইট দিয়ে আমাদের কৃষিজমির ক্ষতি করেছে। তারা আসলে এগুলো করবেই। মুখে সুন্দর কথা বললেও ভারত সব সময় চেষ্টা করবে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের কাজের জন্য যেসব আইন আছে তার প্রয়োগ, প্রতিবাদ, কূটনৈতিক মোকাবিলা বাংলাদেশ করেনি এতদিন। তাই তারা এত সাহস পেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর অবৈধ বাংলাদেশিদের অবস্থান নিয়ে এই যে এত হুংকার দিচ্ছে সেখানে কিন্তু ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ এবং দলটির কয়েকশ নেতার বিষয়ে কিছু বলছে না। বাংলাদেশের মানুষ তো তাদের বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য জানতে চায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি যেমন তারা স্পষ্ট করেছে, তেমনি বাকিদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত টুঁ-শব্দটি করেনি। তিনি মনে করেন, তাদের এতই যখন পুশইন করার শখ, তাহলে এসব চিহ্নিত পলাতক নেতাদের কেন পুশইন করে না। এটিই এখন বড় প্রশ্ন। তাহলে কি ঢাকা ধরে নেবে, তারা ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সফিউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতকর্মী যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা তো বিজেপির মেহমান। এজন্য হয়তো তাদের পুশইন করা হবে না। পুশইন যাদের করা হচ্ছে তারা হতদরিদ্র মানুষ। সীমান্তে তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

প্রথম আলো

ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক খাতে দেড় লাখ কোটি টাকা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবর বলা হয়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো কিছু নতুন কর্মসূচি যুক্ত করা হচ্ছে। আবার বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমসহ কিছু কর্মসূচিতে একদিকে উপকারভোগী বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ানো হচ্ছে ভাতার পরিমাণ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর সভাপতিত্বে গত ৭ মে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগামী বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার চূড়ান্ত করা হয়। অর্থমন্ত্রী এ বৈঠকের কার্যবিবরণী স্বাক্ষর করেন গত ২০ মে। অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন বিবেচনায় রেখে আগামী বাজেটে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং মাথাপিছু বরাদ্দ বৃদ্ধিতে নজর দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের আবশ্যিকভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকতে হবে। আর ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন এবং তাদের অভিভাবকদের এনআইডি থাকতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সঠিক ব্যক্তি যাতে উপকারভোগী হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন, সে জন্য ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (ডিএসআর)’ প্রয়োগ করা হবে। ডিএসআর এমন একটি তথ্যভান্ডার, যার মাধ্যমে অনলাইনে সুবিধাভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হয় এবং তাদের উপযুক্ততা নির্ধারণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বড় সমস্যা হচ্ছে ভুল উপকারভোগী নির্বাচন, কম ভাতা, তথ্যভান্ডার ও সমন্বয়ের দুর্বলতা, কর্মসংস্থানমুখী কর্মসূচির ঘাটতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনিয়ম ইত্যাদি। প্রকৃত দরিদ্রকে সঠিকভাবে শনাক্ত করে তাঁদের হাতে ভাতা পৌঁছানো নিশ্চিত করা এ খাতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

ফ্যামিলি কার্ডসহ নতুন কর্মসূচি আটটি

আগামী অর্থবছর থেকে প্রথমবারের মতো আটটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
প্রত্যেক নারীপ্রধান পরিবার মাসে পাবেন ২ হাজার ৫০০ টাকা করে। এতে আগামী অর্থবছরে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছর থেকেই পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। গত ২৭ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বৈঠক হয়। এতে জানানো হয়, পাঁচ বছরে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এতে ব্যয় হবে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

নতুন কর্মসূচির মধ্যে আরও আছে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা কার্যক্রম। এতে চারটি শ্রেণি ভাগ করে মোট উপকারভোগী চিহ্নিত করা হয়েছে ১৬ হাজার ৫১৩ জন। এর মধ্যে রয়েছে শহীদ পরিবার ৮৪৪, প্রতি পরিবার মাসে পাবে ২০ হাজার টাকা। ‘এ’ শ্রেণির আহত ১ হাজার ৬০৭ জন, প্রত্যেকে মাসে পাবেন ২০ হাজার টাকা। ‘বি’ শ্রেণির আহত ১ হাজার ৬১৪ জন, প্রত্যেকে মাসে পাবেন ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ শ্রেণির আহত ১২ হাজার ৪৪৮ জন, প্রত্যেকে মাসে পাবেন ১০ হাজার টাকা। এতে বছরে ব্যয় হবে ২৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর ‘বিচার দেখতে চায় ভুক্তভোগী সবাই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার শেষে মামলার রায় হচ্ছে মাত্র ২০ দিনে। ক্ষোভ-বিক্ষোভে ফেটে পড়া মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তিতে এই ভেবে যে দেশে এ ধরনের নিষ্ঠুরতার দ্রুত বিচার সত্যি সত্যিই হচ্ছে।

ঢাকার শিশু রামিসার মামলা দ্রুত বিচারের মুখ দেখলেও চট্টগ্রামের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরার মামলা কেন ঝুলে আছে, এই প্রশ্ন এখন সবার মনে। শুধু ইরা নয়, গত এক দশকে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার তিন শতাধিক শিশুর পরিবারও এখন বিচার চায়।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে দেশে ছয় হাজারের বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে বাস্তবে ঘটনা এর দ্বিগুণেরও বেশি।

আর একই সময়ে অন্তত ৩১০ জন শিশুকে ধর্ষণের পর নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনার বেশির ভাগ মামলাই বছরের পর বছর নিষ্পত্তিহীন।
অন্যদিকে দেশজুড়ে কাঁপন তোলা আরো কয়েকটি ঘটনায় দ্রুত বিচারের নজির দেখা গেলেও মামলাগুলোর পরিণতি খুব একটা ভালো নয়। দেখা গেছে, জনরোষ বিবেচনায় মামলা আমলে নিয়ে নিম্ন আদালতে দ্রুত রায় ঘোষণা করা হয়েছে; কিন্তু উচ্চ আদালতে গিয়ে সেটি ঠিকই ‘লালফিতা’য় বন্দি।

এমনকি কোনো কোনো আলোচিত ঘটনায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে দেওয়ার নজিরও আছে। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ষোড়শী কন্যা জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দেশজুড়ে ব্যাপক হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। ওই মামলার বিচার থেকে রায় পর্যন্ত ছয় মাসও লাগেনি। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। কিন্তু উচ্চ আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে তিন আসামিকেই সাজা কমিয়ে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গত ১ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গহিন জঙ্গলে উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরার রক্তাক্ত ছবিটি এখনো চোখের পর্দায় জীবন্ত। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাবু শেখ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা শেষে গলা কেটে জঙ্গলে রেখে যাওয়া হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। কিন্তু তিন মাস পার হলেও ওই ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি। জানা গেছে, ওই মামলায় এখনো অভিযোগপত্রই দিতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে কুমিল্লার তরুণী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়নি দীর্ঘ ১০ বছরেও। ওই ঘটনাও সারা দেশের মানুষকে কাঁদিয়েছিল। ফেনীতে ২০১৯ সালে আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পরও ওই মামলা হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় আটকে আছে।

সমকাল

স্বস্তি নেই বাজারে, মধ্যবিত্তের সংসারে নিত্য টানাপোড়েন’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নুর আলম রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বছিলায় সপরিবারে থাকেন। পরিবারের সদস্য চারজন। তিনি চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে গত মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে কিচেন মাকের্টে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়। তিনি জানান, তাঁর মাসিক বেতন ৪৫ হাজার টাকা। গত দুই বছরে এক টাকাও বাড়েনি।
অথচ গত তিন মাসে বেশির ভাগ পণ্যের দাম বেড়েছে। বছিলায় তাঁর দুই রুমের ফ্ল্যাট ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল বাবদ চলে যায় ২০ হাজার টাকা। দুই সন্তানের স্কুলের বেতন আর যাতায়াত খরচ সাত হাজার টাকা এবং তাঁর অফিসের যাতায়াত বাবদ তিন হাজার টাকা বাদ দিলে পুরো মাসের খাবার কেনার জন্য থাকে মাত্র ১৫ হাজার টাকা।

কিছুটা কম দামে পণ্য কেনার জন্য নুর আলম প্রায়ই ভোরে বছিলা থেকে চলে আসেন কারওয়ান বাজার। কিন্তু এখানে আর আগের মতো কম দামে পণ্য কিনতে পারছেন না। ঢ্যাঁড়শসহ দু-তিনটা ছাড়া বেশির ভাগ সবজির দামই ৬০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, আদাসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি। তিন মাসে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মোটা মসুর ডালের দাম হয়েছে ১০৫ টাকা। তুলনামূলক ভালো ডাল খেতে হলে কেজিতে খরচ হয় ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা। এক কেজি ব্রয়লার মুরগি কিনতে গেলেই দাম পড়ছে ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা। মাস চারেক আগেও ব্রয়লার কেনা গেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। এক মাসে ভোজ্যতেলের লিটারে বেড়েছে অন্তত ১৫ টাকা। এভাবে অতি প্রয়োজনীয় ডিম, চিনি ও আদার দামও বাড়ছে।

নুর আলম জানান, চাকরির বাইরে তাঁর আর কোনো আয়ের উৎস নেই। বেতনের টাকায় এখন চারজনের ভরপেট খাওয়া সম্ভব হয় না। প্রতি মাসে তাঁর ঘাটতি থাকছে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা। গত সপ্তাহে তাঁর আট বছরের সন্তান হামে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসা বাবদ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই বাড়তি টাকার জোগান ছিল না। ওষুধ কিনতে গিয়ে ওই সপ্তাহে তাঁর পরিবারের খাদ্য তালিকায় কাটছাঁট করতে হয়। মাছ বা ফল কেনা তো দূরের কথা, দুধ কেনাও বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

আক্ষেপ করে নুর আলম বলেন, ‘জ্বর বা শরীর খারাপ হলে এখন আমরা ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সাহস পাই না, ফার্মেসি থেকে সস্তা প্যারাসিটামল খেয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করি।’

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘টাকা বাড়লেও বাজেট বাস্তবায়ন হার আটকে আছে একই বৃত্তে’। খবরে বলা হয়, প্রতি অর্থবছরের শুরুতে বেশ জাঁকজমকপূর্ণ বাজেট পেশ করা হলেও অর্থবছর শেষে দেখা যায় তার একটি বড় অংশ বাস্তবায়িত হয়নি। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের কোন খাতে কোথায় কত ব্যয় হবে সরকারের এই আর্থিক পরিকল্পনার চিত্র প্রতিফলিত হয় বাজেটের মাধ্যমে। রাজনৈতিক সরকার তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একগুচ্ছ উদ্যোগের কথাও জানান বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে। সাম্প্রতিককালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাজেটের আকার আগের বছরের চেয়ে কিছুটা কমানো হয়। এর বাইরে প্রতিবছর গড়ে ১৬ থেকে ২২ শতাংশ হারে বাজেটের আকার বাড়নো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবছর সংশোধন করেও বাজেট বাস্তবায়নের হার পূরণ করা যায় নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটে টাকার পরিমাণ বাড়লেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘গুণগত’ যে পরিবর্তন হওয়া উচিত ছিল তা হয়নি। মূলত বেতন ভাতা, সুদ পরিশোধসহ অনুন্নয়ন খাতের ব্যয় লক্ষ্য অনুযায়ী ব্যয় করা সম্ভব হলেও আটকে যায় উন্নয়ন বরাদ্দের অংশে। সংশোধন করে বরাদ্দ কমানোর পরেও শতভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

মূলত সরকারের অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। সরকারের বিশাল আকারের ঋণ পরিশোধ, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি আর সামাজিক নিরাপত্তাবলয় বাড়ানোর ফলে বছর বছর সরকারের বাজেটের আকার বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়ছে না উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জুন তাজউদ্দিন আহমেদ যে বাজেট ঘোষণা করেছিলেন তার আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে মোট বরাদ্দের মধ্যে ৫০১ কোটি টাকা ছিল উন্নয়ন বরাদ্দ বা এডিপি বাবদ বরাদ্দ। আগামী ১১ জুন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন তার আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন বরাদ্দের অংশ বা এডিপি ৩ লাখ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে বিশাল বাজেট হলেও পার্থক্য হলো দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মোট বাজেটের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ থাকত কিন্তু আসছে বাজেটে তা মোট বাজেটের মাত্র ৩২ শতাংশ। অবশ্য শুধু এই বাজেটই নয়, বিগত বাজেটগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ১৯৯৫-৯৬ সালের পর থেকেই বাজেটের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৫০ ভাগের নিচে নেমে আসে।

বাজেট বাস্তবায়ন চিত্র :বাংলাদেশের বাজেটের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, বাস্তবে খরচ হয়েছে তার চেয়ে কম। অর্থমন্ত্রণালয়ের নথি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য মোট ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। বাস্তবায়নের হার মূল বাজেটের ৮০ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের ৮৫ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় একই চিত্র ছিল। অর্থ বিভাগের ১০ বছরের তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, প্রতিবারই বাজেট বাস্তবায়ন হচ্ছে গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশের মধ্যে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একটা দেশে বাজেট শতভাগ বাস্তবায়ন হবে সেটা হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলাদেশে যেভাবে পুরো বাজেটের পরিকল্পনা এবং অর্থ বরাদ্দ হয়, দেশটিতে বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতার পেছনে সেটা একটা বড় কারণ। বিশেষ করে কোন এলাকায় জনসংখ্যা কেমন, কী চাহিদা আছে সে অনুযায়ী বাজেটে পরিকল্পনা থাকে না। খাতওয়ারি বাজেটেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার দুর্বলতা স্পষ্ট।

চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন চিত্র: অর্থমন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নের হার বেশ মন্থর। প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মোট বাজেটের মাত্র ৫২ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। অবশ্য আগের অর্থবছরের ‍তুলনায় বাজেট বাস্তবায়নের হার কিছুটা বেড়েছে। পূর্ববর্তী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল মূল বাজেটের ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সে হিসাবে বাজেট বাস্তবাস্তবায়নের হার প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে সঙ্গে মিলিয়ে নতুন প্রকল্পগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। বরাদ্দেও পরিবর্তন আসছে। ফলে এডিপি বাস্তবায়নে নতুন অর্থবছরে গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত

ভয়ঙ্কর রূপে পুশইন’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেয়ার (পুশইন) ধারাবাহিক অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত কয়েক দিন ধরে দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্তত ৮ থেকে ১০টি পৃথক সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও অনমনীয় অবস্থানের মুখে বিএসএফের এসব চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে ভারতের অভ্যন্তর থেকে বাংলাভাষী মানুষদের বাংলাদেশে পুশইনের এই হিড়িক দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

লালমনিরহাটে ৩৩ জনকে ফেরত নিতে বাধ্য হলো বিএসএফ : লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নারী-পুরুষসহ মোট ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার বিএসএফের বড় একটি প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছে বিজিবি। শুক্রবার ভোরে হাতীবান্ধার বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারীর দিঘলটারি-দুর্গাপুর সীমান্তে ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে বিজিবি।

১৫ ও ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তীব্র প্রতিরোধ ব্যুহ এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা দিনভর শূন্যরেখায় আটকে থাকে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে বিভিন্ন দফায় ভারতের ১৫৭ এবং ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন তাদের নিজ নিজ নাগরিকদের পিকআপ ভ্যানে তুলে ভারতীয় ভূখণ্ডের আরো ভেতরের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

হিলি সীমান্তে গভীর রাতে পুশইনের চেষ্টা নস্যাৎ : সর্বশেষ আজ শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের ঘাসুড়িয়া এলাকায় পাঁচজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারী জানান, বিজিবির নৈশকালীন বিশেষ টহল দলের তৎপরতায় তাৎক্ষণিকভাবে এই অনুপ্রবেশ রুখে দেয়া হয়। বর্তমানে হিলি সীমান্তের অরক্ষিত পকেটগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে উত্তেজনা, পতাকা বৈঠক নিষ্ফল

নওগাঁর সাপাহারের হাঁপানিয়া ও করমডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১৭ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন শূন্যরেখায় অবস্থান নিয়ে বিএসএফকে বাধা দিলে সেখানে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফের একগুঁয়েমির কারণে কোনো সুরাহা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

অনুরূপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের বাংগাবাড়ী ও বিভীষণ সীমান্তে। সেখানে বিএসএফ কর্তৃক পুশইন করা প্রায় ২৮ জন মানুষ এখনো নো ম্যানস ল্যান্ডে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, যাদের ফিরিয়ে নিতে বিএসএফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ৫৯ (মহানন্দা) বিজিবির কড়া পাহারার কারণে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে পারছেন না।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘ডিসিদের নির্লিপ্ততায় বাড়ছে না করের পরিধি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলা পর্যায়ে রাজস্ব দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ওপর ন্যস্ত।

তবে কর আহরণের পরিধি বা করজাল সম্প্রসারণে তাদের কার্যকর সম্পৃক্ততা এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছেনি। ফলে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও কর নির্ধারণ, আদায় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর), তবুও মাঠ প্রশাসনের সক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে করজাল বহু গুণ সম্প্রসারণ সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্য, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জেলা প্রশাসকরা। তাই তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমেই নতুন করদাতা শনাক্তকরণ এবং কর অনুবর্তিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমান কাঠামোয় জেলা প্রশাসকদের সরাসরি কর আদায়ের দায়িত্ব না থাকলেও বিভিন্ন সেবা প্রদান ও লাইসেন্সিং কার্যক্রমে কর-অনুবর্তিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যেমন ভূমি রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর রিটার্ন জমা আছে কিনা, তা যাচাই করা গেলে কর ফাঁকি অনেকাংশে কমে আসত। কিন্তু বাস্তবে এ ধরনের কার্যকর এনফোর্সমেন্ট এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

ব্যাখ্যা করে এনবিআরের সাবেক এ চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কর রিটার্ন প্রদর্শনের শর্ত থাকলেও সব ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়িত হয় না। ফলে করদাতা না হয়েও অনেকে সরকারি সেবা গ্রহণ করছে, যা রাজস্ব আহরণের পরিধি বাড়াতে বাধা সৃষ্টি করছে। জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য সেবা প্রদানকারী সংস্থা যদি নিজ নিজ পর্যায়ে কর-অনুবর্তিতা যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করে, তবে আলাদা করে কর আদায় না করেও রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব। তবে বর্তমানে এ সমন্বয় ও এনফোর্সমেন্ট কাঠামো দুর্বল থাকায় রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি হচ্ছে না।’

জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পদটি দীর্ঘদিনের বিবর্তনের সাক্ষী। ১৭৭২ সালে পদটির মূল পরিচয় ছিল ‘কালেক্টর’ বা রাজস্ব সংগ্রাহক। পরে ১৭৮৬ সালে সেই কর্মকর্তারা ‘ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট’ হিসেবে দায়িত্ব পান। বর্তমানে তারা পরিচিত ‘জেলা প্রশাসক’ নামে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে জেলা প্রশাসকদের প্রধান দায়িত্ব ছিল দুটি—সরকারি রাজস্ব আহরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা। তারা সে আমল থেকেই বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তবে ১৯৬০ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়ন কার্যক্রমের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের ওপর অর্পণ করা হয়। তখন থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডেপুটি কমিশনার’ হিসেবে উন্নয়নমূলক দায়িত্বও পালন করতে শুরু করেন।

রাজস্ব আহরণে জেলা প্রশাসকদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে সুস্পষ্ট আইনগত কাঠামো তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আয়কর আইন, কর আইন ও কাস্টমস আইনের আওতায় বিভিন্ন ধরনের কর আহরণ করা হয়। কর নির্ধারণ (অ্যাসেসমেন্ট), আহরণ, কর প্রশাসন ও আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারদের ওপর ন্যস্ত। জেলা পর্যায়েও কাস্টমস ও ট্যাক্স কমিশনাররা এ আইনগুলো প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করেন। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের সম্পৃক্ত করতে হলে একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো প্রণয়ন করার প্রয়োজন হবে।’

আজকের পত্রিকা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড: বিনা মূল্যের বই ছাপানোয় ১৮৩ কোটির অনিয়ম’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ তদারকির জন্য বিধিবহির্ভূত অতিরিক্ত ভাতা ও নিয়মিত কাজের জন্যও সম্মানী নেওয়া এবং নির্ধারিত অংশ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। সরকারের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অধীন শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় এসব অনিয়ম ধরা পড়েছে। এতে সরকারের মোট ১৮৩ কোটি ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬২৩ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

ছাপানোর কাজ তদারকির জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ করে চারটি সম্মানী ভাতা পান। তারপরও ছাপাখানা তদারকির জন্য ‘বিধিবহির্ভূত’ অতিরিক্ত সম্মানী ভাতা নিয়েছেন তাঁরা। অথচ ছাপাখানা তদারকির জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। নিরীক্ষা বলছে, এ বাবদ সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৬৪ লাখ টাকার বেশি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিরিক্ত উদ্দীপনা ভাতা নেওয়ার বিষয়ে নিরীক্ষা আপত্তি জানিয়ে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর এর জবাব দিতে সম্প্রতি এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে আধা সরকারি পত্র দিয়েছে। নিয়মানুযায়ী, এনসিটিবি এসব আপত্তির জবাবও দিচ্ছে। অধিদপ্তর ও এনসিটিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১০ সাল থেকে শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসব করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দিয়ে আসছে সরকার। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যে বিতরণ করতে প্রায় ২৭ কোটি বই ছাপানো হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ৫ কোটি ৩৮ লাখ এবং মাধ্যমিক স্তরের ২১ কোটি ৩৩ লাখ। নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে মাধ্যমিক স্তরে ছাপানো বইয়ের আর্থিক ব্যয়ের ওপর। এ স্তরে মোট ব্যয় হয়েছিল ৮৬৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।

এনসিটিবির কয়েকজন কর্মকর্তা ও মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজে অনিয়মের ঘটনা অনেকটাই ‘ওপেন সিক্রেট’ অর্থাৎ সবার জানা। কিন্তু প্রতিবছর কিছু না কিছু অনিয়মের বিষয় সামনে এলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ কারণে প্রতিবছর পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণে ‘নয়ছয়’ হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে পাঠ্যবইয়ের মান, সময়সূচিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বই ছাপানোর কাজে ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ বিভিন্ন নামে ৩ কোটি টাকার বেশি সম্মানী ভাতা নিয়েছেন। কখনো কখনো অতিরিক্ত সম্মানী ভাতাও নিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাপ্য না হলেও এনসিটিবির ২১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেসিপ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘উদ্দীপনা ভাতা’ নামে সম্মানী দেওয়া হয়েছে ৯২ লাখ ৪৩ হাজার ২৩১ টাকা। এই অর্থ বোর্ড কর্তৃপক্ষের তহবিলে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক উৎপাদন এবং মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও ইবতেদায়ি স্তরের পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্মানী বাবদ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ হারে মোট চারটি সম্মানী ভাতা পেয়ে থাকেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সুতরাং ‘উদ্দীপনা ভাতা’ নামে আলাদা কোনো ভাতা নেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রাপ্যতার চেয়ে অতিরিক্ত হারে সম্মানী দেওয়ায় সরকারের ৭৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বোর্ডের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় শুধু মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ৩ হাজার ৫০০, সঞ্চালক ৩ হাজার, সহায়ক কর্মচারী ১ হাজার ৫০০, আলোচক ২ হাজার ৫০০, র‍্যাপোর্টিয়ার ২ হাজার এবং অংশগ্রহণকারী ১ হাজার টাকা প্রাপ্য। কিন্তু প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অনেককে ২ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হারে সম্মানী দেওয়া হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাপ্যতা না থাকলেও চেয়ারম্যানসহ এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৭৬ লাখ ২৯ হাজার ২০ টাকা নিয়মিত কাজের সম্মানী দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, নিয়মিত কাজে অতিরিক্ত সময় অফিসে অবস্থান করে সম্মানী নেওয়ার কোনো বিধান নেই।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘প্রত্যাশা ও বাস্তবায়নের চাপে অর্থমন্ত্রী’। প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন অর্থবছর ২০২৬-২০২৭ সালের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে আজ থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন। বাজেটের আকারের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকনির্ভরতা ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং সময়ের সঙ্গে অর্থের অপচয় রোধ, দক্ষতা, প্রকল্পের যৌক্তিকতা ও বাস্তবায়নকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষকরা। অপরদিকে আসন্ন বাজেটে সরকার কালো টাকা সাদা করার বিষয়টিকে দুর্নীতিসহায়ক সুযোগ প্রদান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১১ জুন সংসদে সরকারের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জুন মাসজুড়ে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও খাতের বরাদ্দ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৩০ জুন সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস হতে পারে। বাজেট নিয়ে প্রত্যাশা এবং বাস্তবায়নের চাপ দুটিই রয়েছে অর্থমন্ত্রীর ওপর। এখন দেখতে হবে তিনি সেটা কীভাবে সামলান।

এদিকে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি। সভায় চলতি (২০২৫-২৬) ও নতুন অর্থবছরে সরকারের আয়-ব্যয়, কর কাঠামো, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি, ঘাটতি বাজেট, মূল্যস্ফীতি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, বিনিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি ঋণের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প, সৃজনশীল অর্থনীতি, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, খাল কাটা কর্মসূচি এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বা ব্যয়ের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এ জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে ৬ লাখ ৪ হাজার টাকা, করবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আসবে ৬৬ হাজার কোটি টাকা এবং নন এনবিআর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরেও বাজেটের আকারের তুলনায় ঘাটতি থাকবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি। ঘাটতি মিটাতে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে। এবারের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া এবারের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ৩ লাখ কোটি টাকা।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন