দেশে দুর্নীতির চেয়েও সম্পদের অপচয় বেশি হচ্ছে: জোনায়েদ সাকি

দেশে দুর্নীতির চেয়েও সম্পদের অপচয় বেশি হচ্ছে: জোনায়েদ সাকি

ফন্ট সাইজ:

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘দেশে দুর্নীতির চেয়েও সম্পদের অপচয় বেশি হচ্ছে। এই ধরনের অপচয় রোধ করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘চরচা ডটকম’ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমার মনে হয়, দুর্নীতির চেয়েও দেশে অপচয় বেশি হচ্ছে। ধরুন, একটি হাসপাতাল তৈরি করা হলো। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম (ইকুইপমেন্ট), দক্ষ টেকনিশিয়ান কিংবা পর্যাপ্ত ডাক্তার সরবরাহ না করতে পারায় হাসপাতালটি কোনো কাজেই এলো না; বরং বছরের পর বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রইল।

এই ধরনের অপরিকল্পিত উদ্যোগ সম্পদের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।’ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থাননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে শুধু নীতিগত ঘোষণা দিলে হবে না, বরং পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নের গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যখন বিনিয়োগ-নির্ভর ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা বলছি, সেখানে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট কীভাবে নিশ্চিত হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা। পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট বা সরকারি বিনিয়োগ যদি যথাযথভাবে পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত হয়, তবেই বেসরকারি খাতে গতির সঞ্চার হবে বলেও তিনি মনে করেন।’

দেশের ব্যাংকিং খাতের তীব্র সমালোচনা করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংক এখন আর প্রকৃত উৎপাদক বা উদ্যোক্তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারছে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। যাদের সহযোগী হয়েছে, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রাজনৈতিক ক্ষমতার সাথে সরাসরি আঁতাত (নেক্সাস) করে পুরো ব্যাংক গিলে খেয়েছে। ফলে বছরের পর বছর পরিশ্রম করে টিকে থাকা প্রকৃত উদ্যোক্তারা এখন বিরাট সংকটে পড়েছেন। ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান কাজ।’ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রজেক্ট তো অনেক আছে, কিন্তু দেখা যায় সেটি ১০০ ভাগ সমস্যার মধ্যে ৩ ভাগও সমাধান করতে পারছে না।

প্রজেক্টগুলোকে এককভাবে না দেখে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে ‘ক্লাস্টার অফ প্রজেক্ট’ বা গুচ্ছ আকারে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে একটি নির্দিষ্ট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়।’’ জোনায়েদ সাকি জানান, বর্তমান সরকার আগামী চার থেকে সাড়ে চার বছরের কথা মাথায় রেখে একটি ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্রাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক’ (পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা) নিয়ে কাজ করছে, যেখানে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন একসাথে সমান্তরালে চলবে।

পাশাপাশি জ্বালানি খাতে সরকারের বড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ১০ হাজার মেগাবাইট নবায়নযোগ্য জ্বালানি (রিনিউয়েবল এনার্জি) তৈরির যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে, এটি একটি ঐতিহাসিক ‘পলিসি শিফট’। চলমান সংকটকে সুযোগে পরিণত করার অন্যতম বড় উদাহরণ এটি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন