জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের কড়া জবাব দিল ডাউনিং স্ট্রিট

জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের কড়া জবাব দিল ডাউনিং স্ট্রিট

ফন্ট সাইজ:

ব্রিটেনে এক কলেজ ছাত্রের নির্মম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের করা বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও কড়া জবাব দিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট। উগ্র অভিবাসনবিরোধী প্রচারণার উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্য। ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারও আমাদের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ করা এবং বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা উচিত নয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

হত্যাকাণ্ড ও বিক্ষোভের সূত্রপাত: ঘটনাটির সূত্রপাত গত বছরের ৩রা ডিসেম্বর। সাউদাম্পটনে বন্ধুদের সঙ্গে রাতের আড্ডা শেষে একাকী বাড়ি ফেরার পথে ১৮ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ ছাত্র হেনরি নোয়াককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ২৩ বছর বয়সী শিখ তরুণ বিক্রম দিগওয়া। দিগওয়া নিজেকে বর্ণবাদী হামলার শিকার দাবি করে পুলিশের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে নোয়াককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলেও হত্যাকারীর মিথ্যা কথা বিশ্বাস করে মুমূর্ষু নোয়াককেই হাতকড়া পরায়।

সম্প্রতি পুলিশের বডিক্যামেরার সেই ফুটেজ প্রকাশ পাওয়ার পর পুরো যুক্তরাজ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফুটেজে দেখা যায়, নোয়াক বারবার শ্বাস নিতে পারছেন না এবং তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে আকুতি জানালেও পুলিশ তা উপেক্ষা করে তাকে বর্ণবাদী অপরাধী হিসেবে আটকে রাখতেই ব্যস্ত ছিল। গত সোমবার নোয়াককে হত্যার দায়ে ব্রিটিশ নাগরিক বিক্রম দিগওয়াকে ন্যূনতম ২১ বছরের জেলসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সাউদাম্পটনে উগ্র ডানপন্থীদের ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

জেডি ভ্যান্সের বিতর্কিত পোস্ট: এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি লেখেন, হেনরি নোয়াক সেভাবেই মারা গেছে যেভাবে একটি সভ্যতার মৃত্যু হয়। তিনি মারা যান এমন কর্তৃপক্ষের হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায়ও যারা তাকে বিশ্বাস করেনি। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অভিবাসীদের গণ-আগ্রাসন-কে দায়ী করে ভ্যান্স বলেন, ইউরোপের বিগত কয়েক প্রজন্মের এলিটরা যদি আত্মবিদ্বেষের রাজনীতি এবং অভিবাসীদের এই গণ-আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়াত, তবে নোয়াক আজ বেঁচে থাকত। এর জবাবে একমাত্র প্রতিক্রিয়া কেবল ‘ন্যায়সংগত ক্ষোভ’ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের কড়া প্রতিক্রিয়া: ভ্যান্সের এই মন্তব্যের পরপরই ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, নোয়াকের পরিবার স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা হেনরির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সমাজে আর কোনো বিভেদ, ঘৃণা বা উত্তেজনা দেখতে চায় না। নিহতের পরিবারের ইচ্ছাকে সন্মান করা উচিত। কমিউনিটি অ্যান্ড ফ্যামিলিজ মন্ত্রী জশ ম্যাকঅ্যালিস্টার বিবিসি রেডিও ৪-এ বলেন, কিছু মানুষ আমেরিকার এই বিষাক্ত রাজনীতি যুক্তরাজ্যে আমদানি করার চেষ্টা করছে, যার সঙ্গে আমরা জড়াতে চাই না। তবে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাডেনখ পুরো ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।

মাস্ক ও ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা: জেডি ভ্যান্সের আগে প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কও এই ঘটনা নিয়ে এক্স-এ একের পর এক পোস্ট করে ব্রিটিশ পুলিশকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তিনি মূলধারার মিডিয়া জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনা নিয়ে কোটিবার লিখলেও নোয়াক হত্যাকাণ্ডে কেন নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টিতে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই বিষয়ে বসা উচিত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঐতিহাসিক দুই মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন চলছে। জেডি ভ্যান্সের এই নতুন মন্তব্য সেই দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন