আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘পুশ ইনে সীমান্তে উত্তেজনা।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সে দেশ থেকে লোকজনকে ধরে ধরে জোর করে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টা করছে। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় আসার পর বিএসএফের এই তৎপরতা হঠাৎ বেড়ে গেছে।
পুশ ইন ঠেকাতে সীমান্তে টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অনেক জায়গায় স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন বিজিবি সদস্যদের। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়ছে প্রতিবেশী দুই দেশের সীমান্তে।
বিজিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের যেসব এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে পুশ ইন করার আশঙ্কা রয়েছে, এমন প্রায় ৭০টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু স্থানে পুশ ইনের আশঙ্কা বেশি। তাই সেসব এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া জনসাধারণকেও সচেতন করা হচ্ছে।
৮ থেকে ১১ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা, অবৈধ পুশ ইনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানায় বিজিবি।
বিজিবি সদর দপ্তরের উপপরিচালক কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, ‘এবারের সম্মেলনে আমরা পুশ ইন এবং সীমান্ত হত্যাকে এক নম্বর অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা করব। সেই প্রস্তুতি নিয়েই আমরা এবার যাচ্ছি। পুশ ইন এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতেই হবে।’
বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএসএফ মোট ২ হাজার ৩৪৪ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছিল। এর পর থেকে গত ৭ মে পর্যন্ত কোনো পুশ ইনের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে ৮ মে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঢেলে পাঠায় বিএসএফ। এর পর থেকে আবার একের পর এক ঘটতে থাকে পুশ ইন ও পুশ ইনের চেষ্টা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত আছে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত আছে দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে। এ ছাড়া ত্রিপুরার সঙ্গে ৮৫৬ কিলোমিটার, মেঘালয়ের সঙ্গে ৪৪৩ কিলোমিটার, মিজোরামের সঙ্গে ৩১৮ কিলোমিটার ও আসামের সঙ্গে ২৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দুই পর্বে ভোট হয় গত এপ্রিল মাসে। ফলাফল ঘোষণা হয় ৪ মে। ভোটে বড় ব্যবধানে জয় পায় বিজেপি। ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নিয়েই তিনি ঘোষণা দেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ও ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। তাদের আটক করতে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপিশাসিত ত্রিপুরা ও আসামে অনথিভুক্ত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরতসহ নানা বিষয় নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের বেশ অবনতি হয়। সেই পরিস্থিতিতে পুশ ইনের তৎপরতা বেড়ে গিয়েছিল। তবে তখন এই চেষ্টা বেশি হতো আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তে। পশ্চিমবঙ্গে কম হতো, কারণ রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল
কংগ্রেসনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ নিয়ে সোচ্চার ছিলেন তার নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে। কিন্তু তখনকার বিরোধী দল বিজেপি নেতারা তখন হুংকার তুলতেন ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ইস্যুতে। এখন বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায়।
পুশ ইন ছাড়াও সীমান্তে হত্যার অভিযোগ আছে বিএসএফের বিরুদ্ধে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিএসএফের হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ৩০ জন এবং ২০২৩ সালে ৩১ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্তে নিহত হন।
ঝুঁকিপূর্ণ ৭০টি স্থান চিহ্নিত: বিজিবি ও সীমান্ত সূত্র জানায়, পুশ ইন করার জন্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন এলাকায় লোকজনকে জড়ো করছে বিএসএফ। প্রায় সব এলাকাতেই এ ধরনের তৎপরতা চলছে। পুশ ইনের আশঙ্কায় বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৭০টি সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে যশোরের খোশালপুর বিওপির ইছামতী নদীসংলগ্ন ভারতের জঙ্গল এলাকা, যাদবপুর-রঘুনাথপুর ও বেনাপোল এলাকা পুশ ইনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর; সাতক্ষীরা, নওগাঁ জেলার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা এবং দুর্গম ও জনবসতিহীন সীমান্তপথের কয়েকটি স্থানেও লোকজন জড়ো করে বাংলাদেশে পুশ ইনের আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর, ঝিনাইদহের যাদবপুর-মহেশপুর, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর, পঞ্চগড়ের রওশনপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ, সিলেটের উৎমাছড়া, নেত্রকোনার কচুগড়া, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বাগিছড়া ও চম্পাছড়া, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের রেমা, ফেনীর ছাগলনাইয়ার মতুয়া, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দংয়ের ম্যাংগো গার্ডেন, কুড়িগ্রামের রৌমারীর বড়াইবাড়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় লোকজন জড়ো করে ঠেলে পাঠানোর আশঙ্কা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে গত বুধবার গভীর রাতে নারী, পুরুষ, শিশুসহ ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। পরে তারা বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের ব্রজনাথপুর এলাকায় ঘোরাফেরা করলে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর বিজিবি তাদের সীমান্ত এলাকায় ফেরত পাঠায়। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ-১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বুধবার গভীর রাতে ২৮ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। আমরা তাদেরকে ঠেকিয়ে দিয়েছি। তারা শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) অবস্থান করছেন।’
বুধবারেই ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজনভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে সীমান্ত গেট খুলে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি টহল দল ও স্থানীয় জনসাধারণের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের পুনরায় ভ্যানে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
এর আগে গত ৩১ মে রাতে যশোরের বেনাপোলের রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করে বিএসএফ। পরে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি বাধা দেয়। তখন ওই ব্যক্তিরা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) অবস্থান করছিলেন। পরে রাতে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
যশোরের রঘুনাথপুরে বিজিবি-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিএসএফ আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে লোকজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করছে। আমরা এভাবে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেব না। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
অবৈধভাবে পুশ ইন ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে বিজিবি। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অবৈধ পুশ ইন, মানব পাচার এবং মাদক ও অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। তবে বাংলাদেশ বলছে, কাউকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আনুষ্ঠানিক ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। একতরফাভাবে সীমান্ত দিয়ে কাউকে পাঠানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
সচিবালয়ে গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো ধরনের অবৈধ পুশ ইন বা পুশ ব্যাকের পক্ষে নয়। এ কারণে সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘দেশের ভূখণ্ডের ২৫ ভাগ বনভূমি আজও কল্পনায়।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ-এমন কথা বলা হলেও দেশে বনভূমির হাল খুবই নাজুক। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ বনভূমি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরেকটু কমিয়ে ১২ শতাংশও বলেন বনভূমির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। যদিও বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের হিসাবমতে দেশে বনভূমি ২.৫৭ মিলিয়ন হেক্টর। যা দেশের মোট এলাকার প্রায় ১৭.৩ শতাংশ। শুধু তাই নয় বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ঘনত্বের দেশ যেখানে মাথাপিছু বনভূমির পরিমাণও অত্যন্ত কম। পরিবেশবিদরা বলেন, একটি দেশে পরিবেশগত ভারসাম্য, ভালো আবহাওয়া, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার জন্য দেশের মোট আয়তনের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশের বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার জন্য বসতবাড়ি, খাদ্য উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত জমি এবং নানা কারণে বন উজাড় করার কারণে মোট ভূখণ্ডের ২৫-৩০ শতাংশ বনভূমি এখন অনেকটাই অকল্পনীয়। এমনই বাস্তবতায় নানা আয়োজনে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দেশের আয়তনের তুলনায় বনভূমি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভুটানে দেশটির আয়তনের প্রায় ৭১-৭২ শতাংশ বনভূমি।
যা ভুটানকে বিশ্বের অন্যতম বনভূমির দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে নেপালে আছে ৪৬%, শ্রীলংকায় ৩৪.১% এবং ভারতে ২৪.৬২% বনভূমি। তবে বাংলাদেশের তুলনায় কম বনভূমি আছে পাকিস্তানে ৫.২%। মালদ্বীপে আছে ৩.৩% এবং আফগানিস্তানে মাত্র ২.৮%।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, কাগজে-কলমে বই-খাতায় বর্তমানে আমাদের বনভূমি দেশের মোট ভূখণ্ডের ১৭ শতাংশ বলা হলেও আমাদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে তা ১১-১২ শতাংশ। তবে এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত কোনো ডাটা নেই। দেশে বনের যে নিধন সেটি পুরোপুরি ইচ্ছাকৃতভাবে হচ্ছে এমনটা নয়। দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের জন্য বাড়তি উৎপাদনের জন্য আরও কৃষি জমি, বসতবাড়ির জন্য জমির প্রয়োজন হয়েছে। দেশে শিল্পায়নের জন্যেও নতুন নতুন জমির প্রয়োজন হয়েছে। যে কারণ অনেক বনভূমি উজাড় হয়েছে। তবে গত ১৫-২০ বছরে গাছপালা রোপণের প্রবণতাও মানুষের মধ্যে বেড়েছে। সরকারেরও নানা উদ্যোগ আছে। সরকার চাচ্ছে আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি গাছ রোপণ করতে। কিন্তু তারপরও সব দিক বিবেচনায় দেশের বনভূমি মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশে উন্নীত করা যাবে বলে মনে করি না।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘প্রস্তাব যাচাই না করেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে শুনানির আগেই প্রথম দুই ধাপের (শূন্য থেকে ৫০ এবং শূন্য থেকে ৭৫) গ্রাহকের দাম বৃদ্ধি না করতে একটি সম্পূরক প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কিন্তু বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ওই আবেদন আমলে না নিয়ে আবাসিক সব গ্রাহকের দাম বৃদ্ধি করে।
গরিব মানুষের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সমালোচনার মুখে গতকাল বৃহস্পতিবার পিডিবি পুনরায় একই প্রস্তাব নিয়ে কমিশনে যায়।
আর নিজেদের ভুল আড়াল করতে তড়িঘড়ি করে গতকাল বিকেলেই বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করার আদেশ দেয় বিইআরসি।
গত ৩ই জুন বিইআরসি নতুন বিদ্যুতের দর ঘোষণা করে। সেখানে লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম চার টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ টাকা ৩২ পয়সা এবং ০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য পাঁচ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ছয় টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
তবে আদেশটি বাতিল হওয়ায় এখন লাইফলাইন গ্রাহকদের আগের দাম বহাল থাকছে।
প্রথম আলো
প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘তারা প্রকাশ্যে খুন করে, প্রচারণা চালায়, দোয়া চায় ফেসবুকে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে খুলনায় প্রকাশ্যে গুলি, কুপিয়ে হত্যা ও জখমের আলোচিত অর্ধশত ঘটনা ঘটেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ২২ মাসে খুলনা শহর ও জেলায় এমন ঘটনা দুই শতাধিক।
বেশিরভাগ খুনোখুনির পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধ ও পূর্বশত্রুতা রয়েছে বলে স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে।
খুলনার অপরাধের বেশিরভাগ ঘটনায় ঘুরেফিরে আটটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম এসেছে। এখন তারা এতটাই বেপরোয়া যে জনবহুল এলাকায়ও খুনোখুনি করতে দ্বিধা করছে না। মানুষও প্রতিরোধে এগিয়ে আসার বা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও অদক্ষতার সুযোগেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়েছে।
সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো খুলনায় এতটা নিরাপদ পরিবেশ পেয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারা নিজেদের পক্ষে প্রচারণা চালায়। তাদের অন্তত ১৩টি ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে বিভিন্নজনকে ইঙ্গিত করে খুনের হুমকি ও প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে নানা পোস্ট দেওয়া হয়
বণিক বার্তা
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ থাকে মাত্র দেড় শতাংশ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রতি অর্থবছরে পরিচালন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যে বাজেট দেয়া হয়, তার মধ্যে মাত্র দেড় শতাংশ বরাদ্দ থাকে গবেষণা খাতে।
ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গবেষণায় বরাদ্দের পরিমাণ সামান্য হলেও প্রতি বছর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সেটাও পুরো ব্যয় করতে পারে না। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এক বছরে গবেষণায় অর্ধকোটি টাকাও ব্যয় করতে পারেনি।
পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বাজেট পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। গবেষণা খাতেও ঢাবিকে সর্বাধিক বরাদ্দ দেয়া হয়।
গত কয়েক অর্থবছরের বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, এ বিশ্ববিদ্যালয়েও গবেষণা খাতে বরাদ্দ ছিল ২ শতাংশের আশপাশে।
চলতি অর্থবছরে ঢাবির জন্য বাজেট অনুমোদন করা হয় ১ হাজার ৩৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ ছিল ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।
নয়া দিগন্ত
নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের মুখে জান্তা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তা সরকারের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু করেছে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।
সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা পুরো রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র ও রাজধানী সিত্তওয়ে এবং চীনের শতকোটি ডলারের মেগাপ্রজেক্ট সমৃদ্ধ কৌশলগত অঞ্চল কিয়াকফিউতে অবস্থিত মিয়ানমার নৌবাহিনীর প্রধান পশ্চিমাঞ্চলীয় ঘাঁটিগুলোকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে এএ যোদ্ধারা।
ইতোমধ্যেই দখলে নেওয়া রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি এবং চীন রাজ্যের পালেতওয়া এখন আরাকান আর্মির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এই পরিস্থিতিতে জান্তা বাহিনীকে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করতে নৌঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ তীব্র করেছে তারা।
এদিকে, স্থল ও নৌযুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে না পেরে মিয়ানমারের জান্তা সরকার এখন সম্পূর্ণরূপে তাদের বিমানবাহিনীর ওপর নির্ভর করছে।
কিন্তু যখনই জান্তার ফাইটার জেট আকাশে আসে, আরাকান আর্মি সাময়িকভাবে আক্রমণ থামায়। কিন্তু বিমান চলে গেলেই তীব্র স্থল আক্রমণ শুরু হয়। জান্তা বাহিনী এখন পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।
সমকাল
সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বহুমাত্রিক চাপে অর্থনীতি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক চাপের মুখে রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন খাত ও সামাজিক চাপ একসঙ্গে তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক নানা ধাক্কা যার কারণ।
‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিপিডি।
এতে সংস্থাটি আরও বলেছে, শুধু অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং দুর্বল সুশাসন, নীতি বাস্তবায়নে ঘাটতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাই মূল চ্যালেঞ্জ।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তবে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বৈদেশিক খাতকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ঝুঁকি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। হাওরাঞ্চলের বন্যা এবং হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এটি সামগ্রিকভাবে শাসন ব্যবস্থা ও নীতি বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দৈনিক সংবাদ
দৈনিক সংবাদের প্রধান শিরোনাম ‘৯৫% শিশু টিকার আওতায় না আসা পর্যন্ত হাম কমবে না: বিশেষজ্ঞ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে ছয় শতাধিক শিশু মারা গেছে। হামে আক্রান্ত ও মৃত্যু আরও কিছুদিন থাকবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সারাদেশে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এখন এলাকাভিত্তিক ক্যাম্প করে টিকা দেয়া দরকার। ৬-১৫ মাস বয়সী বাচ্চাদেরকে কমপক্ষে ১টি করে টিকা দিলে ভালো। পারলে ২টা করে টিকা দেয়া যেতে পারে।
আগামী এক সপ্তাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথাও বলছেন তারা। কারণ, বহু শিশু পরিবারে সঙ্গে ঈদে গ্রামের বাড়িতে গেছে। আবার ঢাকাসহ অন্য শহরে ফিরতে শুরু করছে। এইসব কারণে হাম হয়তো কিছুদিন বাড়তে পারে।
