বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশকর্মী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সংগঠকরা। বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ দাবি জানান। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ক্লিন, আইডিয়া এবং বিডিইডি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান এখনও অত্যন্ত সীমিত। অথচ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌর সেচ ব্যবস্থা, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, জলাশয়ভিত্তিক ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ এবং কমিউনিটি-নিয়ন্ত্রিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার মতো উদ্যোগগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তারা জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা আরও বলেন, নতুন কয়লা, তেল ও এলএনজিনির্ভর বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ সীমিত করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়ন, নেট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে সবুজ জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি। সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশকর্মী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষার্থী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- ফেড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম, আইডিয়ার পরিচালক নাজিম আহমদ, ফেড কমিটির সদস্য ও সোলার প্যানেল ইস্টলার মোহাম্মদ ফুরুক, আইডিয়ার কর্মকর্তা তামান্না আহমদ, ক্যাম্পেইন এসোসিয়েট নোমান খান।
