ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশি, লাইবেরিয়া, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়ার নাগরিক। তবে কতজন বাংলাদেশি সেই সংখ্যা জানা যায়নি। এসব বিদেশি চিকিৎসার জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আরও ৪০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগর এলাকার ফ্লোরিশ স্টে হোটেলের রেস্তরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। হোটেলটি একটি পাঁচতলা ভবনের বেসমেন্টে অবস্থিত। আগুন পাশের মিকাসা ইন নামের আরেকটি হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে। দমকল কর্মকর্তারা জানান, খবর পাওয়ার পর দুইটি ফায়ার ইঞ্জিন, দু’টি ওয়াটার বাউজার, কুইক রেসপন্স ভেহিক্যালসহ একাধিক ইউনিটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, ভবনটিতে প্রায় ৪০ জনের বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়রা জানান, বেশির ভাগ অতিথি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে কয়েকজন ভবনের জানালা ভেঙে নিচে লাফিয়ে পড়েন। নিচে ম্যাট্রেস পেতে তাদের জীবন রক্ষার চেষ্টা করা হয়। হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি কক্ষ ছিল। হোটেলটি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বিএন্ডবি) অনুমতিতে মাত্র ৬টি কক্ষ চালানোর অনুমতি পেয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এর বাইরে বেসমেন্টসহ অতিরিক্ত কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছিল। কর্তৃপক্ষ এখন যাচাই করছে হোটেলটির ফায়ার সেফটির নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছিল কি না।
এ ছাড়া ভবনটিতে মাত্র একটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল বলেও জানা গেছে, যা উদ্ধার কাজে বড় বাধা তৈরি করে। হোটেলের এক কর্মী জানান, সকালে রান্নাঘরে বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার সময় হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তিনি দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে সহকর্মীদের সতর্ক করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি সহায়তার কথাও জানানো হয়েছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দমকল, পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেয়ায় বহু মানুষকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আহতদের চিকিৎসায় সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন।
