পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় রাজি ইরান: রুবিও

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় রাজি ইরান: রুবিও

ফন্ট সাইজ:

ইরান তার পরমাণু কর্মসূচির কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে তেহরানের অবস্থানে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। তবে রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, এ উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

মঙ্গলবার সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রুবিও বলেন, ইরান এমন কিছু বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে যেগুলো নিয়ে অল্প কিছুদিন আগেও তারা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানাত। তিনি বলেন, তারা তাদের পরমাণু কর্মসূচির এমন কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে যেগুলোর কথা এক মাস বা এক বছর আগেও তারা উল্লেখ করতে চাইত না। তবে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে কংগ্রেসের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইরানের নেতৃত্বের অস্থিতিশীল অবস্থাও আলোচনাকে জটিল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রুবিও আরও জানান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কোনো প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসন দেয়নি। তেহরান তার পরমাণু কর্মসূচি-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করলে তবেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির সামনে হাজির হন রুবিও। শুনানিতে যুদ্ধের বিস্তার, কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল নিয়ে তাকে ব্যাপক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা বারবার স্থবির হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রচেষ্টাও অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও সেই আশাবাদ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সোমবার লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে ইরান আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়ে। শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিন প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনের পরিবর্তন, ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযান এবং ইউক্রেনকে দেওয়া সহায়তা বিষয়ে কংগ্রেসকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, কংগ্রেসকে যখন জানানো হয়, তখন সাধারণত এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়, যা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়ে গেছে।

শাহিন আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সিনেটর জেমস ই. রিশ যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের তদারকি সীমিত রাখার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন। শুনানি শুরুর আগে রুবিও যখন ব্রিফিং কক্ষে প্রবেশ করেন, তখন কয়েকজন বিক্ষোভকারী তাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তারা ‘কিউবানদের হত্যা বন্ধ করো’ বলে চিৎকার করেন। বিক্ষোভকারীরা আরও স্লোগান দেন, ‘কিউবাকে বাঁচতে দাও’ এবং ‘মার্কো রুবিও, অনুতপ্ত হও। কিউবানদের হত্যা বন্ধ করো।’ পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের কক্ষ থেকে বের করে দেন। বাইরে অবস্থান নেওয়া আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন