আমস্টারডামে তরুণদের শক্তি ও সৃজনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আমস্টারডামে তরুণদের শক্তি ও সৃজনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ফন্ট সাইজ:

আমস্টারডামে তরুণদের শক্তি ও সৃজনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্থানীয় সময় সোমবার আমস্টারডামে আয়োজিত ডাচ পোস্টকোড লটারির আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল বক্তা হিসেবে তিনি এ গুরুত্ব তুলে ধরেন। ইউনূস সেন্টার থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ৮৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। আশা ও পরিবর্তনের তাগিদ নিয়ে প্রফেসর ইউনূস তিন শূন্যের পৃথিবীর তার স্বপ্ন তুলে ধরেন—এমন একটি পৃথিবী যেখানে সম্পদের কেন্দ্রীকরণ রোধ করে দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে দূর করা হবে, চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্ব শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে গড় কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা হবে বলে ও উল্লেখ করেন তিনি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারাই সেই প্রজন্ম হয়ে ওঠে যারা এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।

বক্তব্যে প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এ দেশের তরুণদের অসাধারণ সাহসিকতার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে তিনি সম্মুখসারিতে থাকা নারীদের সংগ্রাম ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘নারীরাই এই আন্দোলনের সম্মুখসারিতে ছিলেন এবং গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’

ডাচ পোস্টকোড লটারির এই আয়োজনে দাতব্য সংস্থাসমূহের অংশীদার, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়িক নেতারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পোস্টকোড লটারির অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামাজিক প্রভাব উদ্‌যাপন করা হয় এবং বিভিন্ন খাতের অংশীজনদের মধ্যে অর্থবহ সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘ইয়াং প্রফেশনালস নেটওয়ার্কিং সেশন’-এর মাধ্যমে। এতে জেনারেশন জি-এর পক্ষ থেকে মূল বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডসের তরুণ অধিকারকর্মী, নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রজন্মগত ন্যায্যতার পক্ষে সক্রিয় কণ্ঠস্বর জাহকিনি বিসেলিঙ্ক। সেশনের শেষ পর্যায়ে প্রফেসর ইউনূস মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সম্মেলনে অংশ নেয়া তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

মূল পর্বে ডাচ পোস্টকোড লটারির পরিচালক সিগরিড ভ্যান আকেন এবং চেয়ারম্যান ইয়োনে আর্নল্ডুসেন বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনের একটি পর্ব ছিল মঞ্চে প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতা। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক জাতিসংঘ তরুণ প্রতিনিধি হাযার ইয়াকুবি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন