জাপানে অনুমতি না নিয়ে মসজিদ নির্মাণ, অস্বস্তিতে ইসলামাবাদ

জাপানে অনুমতি না নিয়ে মসজিদ নির্মাণ, অস্বস্তিতে ইসলামাবাদ

ফন্ট সাইজ:

জাপানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ একটি মসজিদ উদ্বোধন করেন। তবে সেটিকে দেশটির কর্তৃপক্ষ অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জাপানি কর্মকর্তাদের দাবি, স্থানীয় আইনে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটি জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারের কাওয়াগোয়ে এলাকায় অবস্থিত। এটি ৪ হাজার ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি জমিতে নির্মিত, যা ‘মাউন্টেন ফরেস্ট’ বা পাহাড়ি বনভূমি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত। এলাকাটি একটি আরবানাইজেশন কন্ট্রোল এরিয়া, অর্থাৎ বিশেষ অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউজ ১৮। 

জাপানের সংবাদপত্র দ্য আসাহি শিম্বুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী ২০২৫ সালের মার্চ মাসে জমিটির মালিকানা ফুজিমি নামের একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাওয়াগোয়ের ওই ঠিকানায় নিবন্ধিত একটি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়। কাওয়াগোয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, সিটি প্ল্যানিং আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া সাধারণত যেখানে নির্মাণকাজ নিষিদ্ধ, সেই নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এলাকায় এই ভবন (মসজিদ) নির্মাণ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উক্ত ভবনটি শহর কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই নির্মিত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াশিও মসজিদ ২০০০ সালে একটি রূপান্তরিত কারখানা ভবনে কার্যক্রম শুরু করার আগে নগর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে ২০০৭ সালে এটি একটি নিবন্ধিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বর্তমানে মসজিদটি স্থানীয় টাউন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদান করে, ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবের আগে আগাম নোটিশ দেয় এবং বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও আয়োজন করে। 

পাকিস্তান থেকে আগত ৬২ বছর বয়সী শাকিল শেখ মোহাম্মদ ইয়াশিও মসজিদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন, অনুমতি না নিয়ে যদি কেউ মসজিদ নির্মাণ করে, তাহলে সেটি ভালো কাজ নয়। তার ভাষায়, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেই একটি মসজিদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। 

এদিকে এ ঘটনা সামনে আসার পর সোমবার জাপানে পাকিস্তান দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেছে, জাপানে বসবাসরত পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের প্রতি দূতাবাস আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাচ্ছে যে তারা সব ক্ষেত্রে জাপানের আইন সম্পূর্ণভাবে মেনে চলবে, বিশেষ করে উপাসনালয় নির্মাণের ক্ষেত্রে। দূতাবাস আরও জোর দিয়ে বলেছে, স্থানীয় সরকারের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কোনো নির্মাণ প্রকল্প শুরু করা যাবে না। 

অন্য এক বিবৃতিতে পাকিস্তান দূতাবাস জানায়, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন আয়োজকদের এই আশ্বাসের ভিত্তিতে যে প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে জাপানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে মসজিদটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হতে পারে, যা পাকিস্তানের জন্য একটি কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।