হচ্ছে হচ্ছে করে হচ্ছে না যুদ্ধবিরতি। এখন আলোচনা দৃশ্যত স্থবির। এরই মধ্যে নতুন করে একে অন্যের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে প্রতিশোধ হিসেবে তারা একটি ‘আঞ্চলিক দেশে’ অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে। ইরান থেকে জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপে চালানো হামলাটি ছিল ‘মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলা চেষ্টার জবাব’।
সেন্টকমের দাবি, কুয়েতের দিকে দুটি এবং বাহরাইনের দিকে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। তবে সেগুলো হয় মাঝপথে ভেঙে পড়ে, নয়তো প্রতিহত করা হয়। ওদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সেন্টকম আরও জানায়, কেশম দ্বীপে হামলার লক্ষ্য ছিল একটি ইরানি সামরিক স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। এই দ্বীপটি হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী ইরান থেকে ছোড়া তিনটি আক্রমণাত্মক ড্রোনও ভূপাতিত করেছে। সেগুলো বৈধভাবে আঞ্চলিক জলসীমা অতিক্রমকারী বেসামরিক নাবিকদের দিকে যাচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘিœত করলে আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে। ইরান এর আগেও বারবার বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা চালিয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
এর আগে সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা ইরানের দিকে যাত্রারত একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দিয়েছে। মার্কিন একটি বিমান বতসোয়ানার পতাকাবাহী ‘এম/টি’ জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে একটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটির ক্রুরা বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে। মঙ্গলবার ট্যাংকারটিতে আঘাত হানার মুহূর্তের ভিডিও বলেও দাবি করা একটি ফুটেজ প্রকাশ করেছে সেন্টকম। তবে এ বিষয়ে ইরান প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব জাহাজের বিরুদ্ধে অবরোধ কার্যকর করা শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, খার্গ দ্বীপের দিকে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করার সময় বতসোয়ানার পতাকাবাহী ‘এম/টি লেক্সি’ জাহাজটির বিরুদ্ধে অবরোধমূলক ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়। তাদের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহুবার নির্দেশ দেয়া হলেও জাহাজটির ক্রুরা তা মানেনি। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করা হয়েছে। আরও ১২২টি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে।
এদিকে, নতুন এই সংঘর্ষের ঘটনাগুলো ঘটেছে এমন সময়ে, যখন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কংগ্রেসের সামনে হাজির হন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। শীর্ষ এই কূটনীতিক সাক্ষ্যে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কোনো প্রস্তাব দেননি। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যে বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে, তার সবই শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নিয়ে। অর্থাৎ, যে কারণে প্রথমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, সেই বিষয়ে পদক্ষেপের বিনিময়েই কেবল কোনো ছাড় দেয়া হতে পারে।
কংগ্রেসের এক সিনেটরের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।’ কমিটির আইনপ্রণেতারা যখন সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন রুবিও এ মন্তব্য করেন।
