টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলার আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। এমন ভরাডুবির পর সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমালোচনায় সরব পুরো ক্রিকেটবিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে নিজের শিষ্যদের দিকেই আঙুল তুলছেন অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। অজি কোচের মতে, তিন ফরম্যাটেই ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখাও কঠিন বিষয়।
শুধু টি-টোয়েন্টি না, ওয়ানডে বিশ্বকাপ মিলিয়েই ২০০৯-এর পর এবারই প্রথম গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আশানুরূপ জয় দিয়ে অভিযান শুরু করা অজিরা পরের দুই ম্যাচেই হার দেখে তারা। জিম্বাবুয়ের পর সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা নাকানিচোবানি খাওয়ায় সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। মঙ্গলবারের ম্যাচটির পরই, এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিদায় নিশ্চিত হয় মিচেল মার্শদের। ওমানের বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে আজ নিয়মরক্ষার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করবে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে চলমান বিশ্বকাপের ব্যার্থতার প্রসঙ্গ।
বিশ্বকাপে দলগত ব্যর্থতাকেই ভরাডুবির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন ম্যাকডোনাল্ড। ৪৪ বছর বয়সী কোচ বলেন, ‘এ দলে সাধারণত এক-দুজন ব্যাটার ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। এবার অনেকেই একসঙ্গে রান পায়নি। বোলিং বিভাগে যারা সুযোগ পেয়েছিল, তারা যথেষ্ট ভালো ছিল। সব মিলিয়ে, আমরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। সেটিই সবচেয়ে হতাশার।’ চোটের কারণে এবারের আসরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডকে পায়নি অস্ট্রেলিয়া। অভিযানে চোট বড় বাধা ছিল স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘তিন ফরম্যাটে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখা কঠিন। চোট ও কাজের চাপ মাঝেমধ্যে প্রভাব ফেলেই।’
বিশ্বকাপের ঠিক আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর থেকে ছন্দে ফিরতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তখন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরা অভিযোগ করে, পাকিস্তানে প্রস্তুতি সিরিজে দেরিতে যোগ দেয়া এবং দেশটির ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লীগ বিগ ব্যাশ লীগকে অগ্রাধিকার দেয়াই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। এর প্রেক্ষিতে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘শুনতে পাচ্ছি এমন একটি ধারণা ছড়ানো হচ্ছে যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। এটি ডাহা মিথ্যা। আমরা দীর্ঘ সময় ধরেই এ টুর্নামেন্টে মনোযোগী ছিলাম।’
২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্রেফ একটি ম্যাচ হেরে প্রথম শিরোপা ঘরে তোলে অস্ট্রেলিয়া। এরপর থেকে সাফল্য না পাওয়ায় প্রত্যাশার চাপ আরও বেড়েছে বলেও মনে করেন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতি প্রত্যাশা সবসময়ই বেশি। সেটিই স্বাভাবিক। তবে আমরা অন্য ফরম্যাটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি, এটি সঠিক কথা নয়।’
