‘উচ্ছাসের সুযোগ নেই, সামনের দিন অনেক চ্যালেঞ্জের’

আরিফকে পাশে রেখে মুক্তাদির বললেন

‘উচ্ছাসের সুযোগ নেই, সামনের দিন অনেক চ্যালেঞ্জের’

ফন্ট সাইজ:

এমপি হয়েই মন্ত্রী হয়েছেন সিলেটের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী। এ নিয়ে উৎসাহের কমতি নেই সিলেটজুড়ে। তবে দুই মন্ত্রী যেনো নীরবই থাকছেন। সাধারণের মতোই নিজেদের তুলে ধরছেন তারা। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিলেট-৪ আসনের এমপি আরিফুল হক চৌধুরী। শপথ নিয়েছেন দুটো। একটি এমপির ও অপরটি মন্ত্রীর। দু’জনই পূর্ণমন্ত্রী। তার আবার একাধিক মন্ত্রনালয়ের। প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথম সিলেট পৌঁছেন আরিফুল হক চৌধুরী। বিমানবন্দরে অনেক কিছুরই পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু নেতাকর্মীদের সেই পরিকল্পনাকে ভেঙে দিয়ে সাদামাটাভাবে সিলেট ফেরেন তিনি। একই দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রমজানের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার অনেকটা সাত সকালেই তিনি সিলেট ফিরলেন। এদিকে সিলেট ফেরা দুই মন্ত্রী গতকাল একসঙ্গে ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। মন্ত্রী হওয়ার পর সিলেটের দরগাহেই একসঙ্গে দেখা গেলো তাদের। নামাজ পড়ে তারা মাজার জিয়ারত করেন। পরে তারা বিএনপি আয়োজিত শুকরানা দোয়া মাহফিলে শরীক হন। দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সামনে একসঙ্গে দুই মন্ত্রীই কথা বলেন।
প্রশ্ন ছিলো; আপনারা তো মন্ত্রী হলেন; সিলেটকে নিয়ে এখন পরিকল্পনা কী। উত্তরটা সহজভাবেই জানালেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বললেন, ‘আমরা মাত্র একদিন হলো মন্ত্রী হয়েছি। সিলেটের সব কিছু আমাদের জানা। আমরা জানি কী করতে হবে। সুতরাং খুব দ্রুত আমরা বসে সিলেট উন্নয়নের ব্যাপারে সিদ্বান্ত নেবো।’
আর বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানালেন- ‘সিলেটের পক্ষ থেকে আমরা দু’জন মন্ত্রিসভায় আছি। আমাদের কাধে যে গুরুদায়িত্ব এসে পড়েছে। এই গুরু দায়িত্বের কথাটা আমরা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি।’ তিনি বলেন, আনন্দ-উচ্ছাসের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সামনে অনেকগুলো কঠিন চ্যালেঞ্জ। এক, রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় পর্যায়ে পর্বত সমান অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি সেগুলোতেও অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সিলেটের পুঞ্জিভুত সমস্যা যেমন কর্মসংস্থান সমস্যা, জলাবদ্ধার সমস্যা, মাদক, অনলাইন গেমিং বন্ধ করাসহ এ ধরনের অনেক চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে রয়েছে। এগুলো সঠিকভাবে অ্যাড্রেস করা, দেশের মানুষের জীবন মান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব।
শোকরানা দোয়া মাহফিল: বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় এবং সিলেটের দুজন মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শোকর আদায় উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে শোকরানা দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের পর আজ বাংলাদেশ গণতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই অর্জন দেশের আপামর জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল। তিনি দেশ-জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা কামনা করে আল্লাহ তায়ালার দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব প্রদান সিলেটবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তাদের দক্ষ নেতৃত্বে সিলেটসহ সারাদেশ উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন- সরকারের বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি; শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি; বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী ও সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী; জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট–-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী; মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন