নেত্রকোণা পৌরশহরের উত্তর কাটলী এলাকায় সুদে টাকা চেয়ে না পেয়ে গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম (৫০)কে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এক মাদকাসক্ত যুবক। এ সময় স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে স্বামী আবু চাঁন এবং সন্তান মুন্না মিয়াও গুরুতর আহত হয়েছেন। গত সোমবার রাতে পৌরশহরের উত্তর কাটলী এলাকায় এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযুক্ত ঘাতক আব্দুর রশিদ (৩০)কে আটক করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর কাটলী এলাকার বাসিন্দা মাদকাসক্ত যুবক আব্দুর রশিদ সোমবার রাতে মনোয়ারার কাছে মাদকসেবনের উদ্দেশ্যে সুদে টাকা দাবি করে। মনোয়ারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রশিদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে সে ঘর থেকে ধারালো দা এনে মনোয়ারাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। নেত্রকোণা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার স্থানীয়দের বরাতে জানান, হামলার সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে রশিদ প্রথমে মনোয়ারার ওপর হামলা চালায়। এ সময় মায়ের চিৎকার শুনে ছেলে মুন্না মিয়া এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরবর্তীতে স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচাতে স্বামী আবু চাঁন এগিয়ে গেলে ঘাতক তাকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হামলাকারী রশিদকে হাতেনাতে আটক করে। পরে গিয়ে রশিদকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়রা আহত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এদিকে এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এবং পিবিআই ইতিমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।
তবে ছেলে মুন্নার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
