যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এবং শান্তি চুক্তি অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে থাকায়, ডেইলি মেইলের ‘ব্যাটল বোর্ড’ বিশ্লেষণ করে দেখার চেষ্টা করেছে- ইরান যুদ্ধ থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে কোন দেশ। পররাষ্ট্রবিষয়ক সংবাদদাতা ক্রিস প্লিজ্যান্স ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনা করেছেন। প্রাণহানি, সামরিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং কৌশলগত অর্জনের হিসাব কষে প্লিজ্যান্স যুক্তি দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে ইসরাইলই স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ‘শাসন পরিবর্তন’-এর মতো অস্পষ্ট একটি লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে এবং ইরানের মূল লক্ষ্য কেবল টিকে থাকা, সেখানে ইসরাইলের হিসাবকৃত অংশগ্রহণ তাকে বাস্তব ও সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে। প্লিজ্যান্স লিখেছেন, ইসরাইলের লক্ষ্য ছিল শুরু থেকেই ইরান, তার মিত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের সক্ষমতার ওপর সর্বোচ্চ মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞ চালানো। তিনি আরও বলেন, তাদের কৌশল ছিল যতটা সম্ভব তীব্রভাবে এবং যতদিন সম্ভব যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।
প্লিজ্যান্সের মতে, এই লক্ষ্য ইসরাইলকে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থায় দাঁড় করায়। কারণ ডনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকান জনগণকে দ্রুত যুদ্ধের অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রয়োজন ছিল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা। তবে যুদ্ধ চতুর্থ মাসে প্রবেশ করলেও ইসরাইল ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ জোট অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে, মার্কিন সামরিক তথ্য অনুযায়ী, ইরান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশটির অধিকাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলোরও সবকটিই ধ্বংস করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক চাপের বড় অংশ এবং যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় মূলত যুক্তরাষ্ট্র বহন করলেও, ইসরাইল নীরবে তার সবচেয়ে বিপজ্জনক অনেক শত্রুকে নির্মূল করে যাচ্ছে।
প্লিজ্যান্স লিখেছেন, ইসরাইল মোসাদ থেকে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্য, অভিজাত সাইবার ইউনিট ‘ইউনিট ৮২০০’-এর হ্যাক করা তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিশালী সমন্বয় ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, এসব একত্রিত করে তারা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলার জন্য নিয়মিত হালনাগাদ লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করছে। এরপর যুদ্ধবিমান ইরানে এবং স্থলবাহিনী লেবাননে অভিযান চালাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই সঙ্গে নিহত হন দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা। এর মধ্যে আছেন নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তানসিরি।
প্লিজ্যান্স আরও উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইসরাইলকে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কঠিন দায়িত্ব বহন করতে হচ্ছে না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো ছাড় আদায়ের দায়িত্ব সম্ভবত মার্কিন আলোচকদের ওপরই বর্তাবে। একই সময়ে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার চেষ্টাও চালাচ্ছে। ফলে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে ট্রাম্পকে, নেতানিয়াহুকে নয়। প্লিজ্যান্স বলেন, ইসরাইলের লক্ষ্য যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা এবং ইরানের ওপর সর্বোচ্চ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো। সেই লক্ষ্য তারা অনেকটাই অর্জন করেছে। তিনি আরও লিখেছেন, যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমার চেয়ে কিছুটা বেশি, প্রায় পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়েছে। ইসরাইলিরা হয়তো আরও কিছু সময় চাইত এবং লেবাননে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে তারা কিছুটা অতিরিক্ত সময়ও পেয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করা এবং বড় ধরনের কোনো ছাড় আদায় করা। ট্রাম্প প্রথম লক্ষ্যটি অর্জন করেছেন বলেই মনে হচ্ছে, কিন্তু দ্বিতীয় লক্ষ্য অর্জনের মূল্য চুকিয়ে।
তিনি বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক কঠিন কাজের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যেখানে শক্তি প্রয়োগে ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে রাজি করাতে হবে। একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরে বিদ্যমান ক্ষমতার শূন্যতার মধ্যেও এই আলোচনা চালাতে হবে।
শেষে প্লিজ্যান্স প্রশ্ন তোলেন, ইরান যুদ্ধের বিজয়ী কে?
তারই উত্তর, ইসরাইলই সবচেয়ে স্পষ্ট বিজয়ী বলে মনে হচ্ছে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। ইসরাইল তার অধিকাংশ লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং বিনিময়ে তুলনামূলকভাবে খুব কম ক্ষতির মুখে পড়েছে।

Mohammed Mohiuddin Shohel
১ মাস আগেএটা হিজরায়েল-এর মান বাচানোর নিউজ, যে হারে মার খেয়েছে হিজারায়েল এর হিসাবের বাহিরে