জাপানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-হয়রানির ‘বিস্ফোরণ’

মসজিদে মসজিদে হুমকি-গালি

জাপানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-হয়রানির ‘বিস্ফোরণ’

ফন্ট সাইজ:

জাপানে বিদেশি বাসিন্দাদের প্রতি বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক আচরণ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষক ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা। তাদের মতে, আগে যেখানে মূলত কোরিয়ান ও কুর্দি জনগোষ্ঠী লক্ষ্যবস্তু ছিল, এখন সেই তালিকায় মুসলিম সম্প্রদায়ও যুক্ত হয়েছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক মসজিদে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিয়মিত গালাগাল ও হুমকিমূলক ফোন এবং ইমেইল আসছে।

ফলে অনেক মুসলিম এখন প্রশ্ন করছেন, হঠাৎ করে কেন তাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। কেউ কেউ নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।
ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হিরোফুমি তানাদার তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের শেষে জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার। বর্তমানে দেশটিতে ১৬০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত বছর ওসাকায় একটি গুজব ছড়ায় যে একটি মসজিদ থেকে ভোরে উচ্চ শব্দে আজান দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর জাপানের হোক্কাইডোর এবেতসুতে পাকিস্তানি নাগরিকদের পরিচালিত একটি মসজিদ ও ব্যবহৃত গাড়ির একটি শোরুমে একাধিক সন্দেহজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

টোকিওর কাছে কানাগাওয়া প্রিফেকচারের ফুজিসাওয়ায় একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও হয়রানির অভিযোগও উঠেছে।
উত্তর কান্টো অঞ্চলের একটি শহরের মসজিদের নেতা আলি (নিরাপত্তার কারণে ছদ্মনাম আলি) জানান, হঠাৎ করেই হয়রানি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর থেকে এখন প্রতিদিনই ৫ থেকে ১০টি করে ঘৃণামূলক ফোন ও ইমেইল পান, যেখানে বলা হয়- নিজ দেশে ফিরে যাও বা জাপানে মসজিদের প্রয়োজন নেই।

আলির ভাষায়, তাদের মসজিদটি প্রায় ৩০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছু সমস্যা থাকলেও পরে প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় সম্পর্ক উন্নত হয়। তারা নতুন অভিবাসীদের জাপানের সামাজিক নিয়ম-কানুন যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পেনশন ব্যবস্থার বিষয়েও শিক্ষা দিতেন।
আলি বলেন, মসজিদটি সবসময়ই স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সেতুবন্ধনের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে গেছে।

ওই মসজিদের নামাজ আদায় করতে আসা পাকিস্তানি এক শিক্ষার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত মানুষদের ছড়ানো উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তিনি প্রশ্ন করেন, আমার জাপানি বন্ধুরা আমার ধর্মকে সম্মান করে, তাহলে এই ঘৃণা কেন?
৩০ বছর বয়সী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জাপানি এক নাগরিকও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই বিদ্বেষ ভবিষ্যতে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।

জাপানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসলামিক কবরস্থান ও হালাল স্কুল খাবারের চাহিদা বাড়ছে। তবে দেশটিতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত দাহ প্রথাই অনুসরণ করা হয়।
আইচি প্রিফেকচারাল ইউনিভার্সিটির গবেষক মিচিতো ওহাশি বলেন, স্থানীয় ছোটখাটো ঘটনাগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক সময় অযথা আতঙ্ক তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, বিদ্বেষবিরোধী আইন থাকলেও তা এখনও যথেষ্ট কার্যকর নয়।

তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয়দের উচিত মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে তাদের ব্যক্তিগত মানুষ হিসেবে দেখা এবং সেই ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা।




ট্যাগসমূহ:

জোহান আবদুল্লাহ

১ মাস আগে

বাংলাদেশে যেমন নারীদের চলাফেরার ক্ষেত্রে মোল্লারা বাধার সৃষ্টি করছে। রাতের দুইটা তিনটা পর্যন্ত ওয়াজের নামে নারীদের এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষদের অপমান অপদস্থ করে চিল্লায়ে বলেন ঠিক কি না ইত্যাদি জিনিস জাপানে ছড়িয়ে পড়লে তাদেরকেই তো দেশ ছাড়া হতে হবে।

একজন ১২/১৫টা করে বাচ্চা নেবে এবং কনটিনিউ চারটা করে ব‌উ রাখবে। এটাই যাদের কাছে ধর্মের নামে চর্চা। তাদেরকে জাপানে ঢুকতে দিলেই তো জাপানিরা কয়দিন পর আউট হয়ে যেতে হবে।

আশরাফুল হক

১ মাস আগে

MD.ABDUS SATTAR-এর মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় অভিবাসীদের কোন্‌ ধরনের নির্বোধ আর মূর্খ মানসিকতার কারণে তারা বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। মানসিকতা যাদের এমন তাদের তো ওইরকম 'সমাদর'ই পাওনা।

Zahid Khan

১ মাস আগে

I agree with Andalib to some extent. In Japan and in other western countries, establishing a Masjid (or Church) requires many permits, and no Masjid (Or Temple) is allowed to call for prayers loudly. Please read the news again. The news never said that the Masjid called for adhan loudly. But it was a rumour. You have been to Japan, you should know that no masjid would risk calling adhan loudly one time and then the closure of the masjid permanently!!

Secondly, I agree that the Japanese are nice, humble and helpful. Please do not forget, only 70 years ago, their father's and grandfathers (not far ancestors) killed and ate people (Chinese civilians, British, Burmese and Indian POWs). If the science of genetics is correct, they still retain the taste of human flesh in them.

SHINGRAPUR

১ মাস আগে

জাপানিরা অন্য কারো অসুবিধা বা বিরক্তিকর পরিস্থিতির কারণ হওয়াকে চরম অপরাধ মনে করে। উচ্চ শব্দ পরিহার করা এই দর্শনেরই অংশ। এটি তাদের ঐতিহ্যগত আতিথেয়তা, যার কারণে বিদেশিরা সেখানে গেলে তাদের ভদ্র ও সাহায্যপরায়ণ আচরণে মুগ্ধ হন।সামাজিক শৃঙ্খলা: তারা ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলাকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

MD.ABDUS SATTAR

১ মাস আগে

Andalib is an idiot

Andalib

১ মাস আগে

When we immigrate to any country we must abide by the laws and customs of that country. We just can't build a mosque wherever we want or call Azan loudly.
If we use our sense and show respect to their customs and don't do anything against the rules of the country or their society, that should be fine. I have been to Japan and found the people very nice,humble and helpful.

মন্তব্য করুন