হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ

সহযোগীদের খবর

হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ

ফন্ট সাইজ:

ইত্তেফাক

‘হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই চলছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ছয় রোগীর মৃত্যু হলো। আর সারা দেশে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩০৭ জন। যদিও গত বছরের মতো ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দেখা যাচ্ছে না তবে ধীরে হলেও উদ্বেগ তৈরি করছে ডেঙ্গু। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

ফলে ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর আগেই এ রোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ক্যাম্পাসে একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।

এদিকে দেশে গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে ৪৯৮ জনের প্রাণ গেছে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯০ জন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে গেছেন ১ হাজার ১৩৪ জন। এ নিয়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে মোট ৭২ হাজার ৭০ জন। আর নিশ্চিত হাম হয়েছে ৯ হাজার ৯৪ জনের।

মার্চের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২০০ জন ঢাকায় মারা গেছেন। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৪ জনের প্রাণ গেছে রাজশাহী বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৭৯ জন ঢাকার হাসপাতালগুলোতে গেছেন। আর সবচেয়ে কম ২৯ জন ভর্তি হয়েছেন রংপুরে।

ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখনই দুই-একজন করে ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এটি ডেঙ্গুর সময় হওয়ায় আমরা কোনো ধরনের কালক্ষেপণ করতে চাই না। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিকিত্সক ও নার্সদের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ কাজে সোসাইটি অব মেডিসিন নেতৃত্ব দেবে। আজ মঙ্গলবার থেকে দেশের সাতটি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাও এতে সহায়তা করবে।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সার জন্য প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট, পরীক্ষার কিট এবং ফ্লুইড স্যালাইনের একটি মজুত রয়েছে। তবে সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় আরো পর্যাপ্ত পরিমাণে এসব উপকরণ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুর উত্সস্থল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে দুই মাস আগে থেকেই সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার আবারও সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ডেঙ্গু পর্যবেক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ করতে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে আগাম প্রস্তুতি, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিত্সাসেবা সম্প্রসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, মৌসুমের শুরুতেই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা।

সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এটিএম সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ডা. হালিমুর রশীদ, হাসপাতাল বিভাগের পরিচালক ডা. এএইচএম মইনুল আহসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১০ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ছয় জন মারা গেছেন। আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩০৭ জনে।

প্রথম আলো

‘টিকা দেওয়ার পর এখনো হাম থামেনি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পাবনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গতকাল সোমবার হামের ৫০ রোগী ভর্তি ছিল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে হামের নতুন ১২ রোগী ভর্তি হয়েছে। শিশুদের টিকা দেওয়ার পরও এই জেলায় হাম থামেনি।

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০ উপজেলা ও পৌরসভায় হামের টিকা দেওয়া শুরু করে এ বছরের ৫ এপ্রিল। এর মধ্যে পাবনা সদর, পৌরসভা, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া উপজেলা ছিল। তারপর এই জেলার বাকি জনপদে টিকা দেওয়া শুরু হয় ২০ এপ্রিল; কিন্তু এখনো হামে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

৩০ উপজেলার মধ্যে একটি ছিল শরীয়তপুর জেলার জাজিরা। জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১০–১২ দিনে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। ওই ৩০টির মধ্যে ৫ উপজেলায় খোঁজ নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণ থামেনি। এর মধ্যে বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, নওগাঁর পোরশা, যশোর সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় নিয়মিতভাবে রোগী ভর্তি হচ্ছে।

গত ৫ এপ্রিল টিকা দেওয়া শুরু হয় বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, যশোর সদর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর, মুন্সিগঞ্জ সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও ফুলপুর, নাটোর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায়।

এরপর ৮ এপ্রিল থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয় ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে টিকা দেওয়া শুরু হয়। সরকারের লক্ষ্য ছিল ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার। তবে টিকা দেওয়া হয়েছে ১০০ শতাংশের বেশি। পাঁচ বছরের বেশি বয়সী কিছু শিশু টিকা পেয়েছে বলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হামের টিকা নেওয়ার দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে টিকা গ্রহণকারীর শরীরে হামের প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠে।

৩০ উপজেলার শিশুরা টিকা পেতে শুরু করেছে আট সপ্তাহ আগে থেকে। এসব শিশুর শরীরে হামের প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠছে কি না, তা কেউ পরীক্ষা করে দেখছেন না। দেখা বা জানার কোনো সরকারি উদ্যোগ নেই।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা (অ্যান্টিবডি) তৈরি হচ্ছে কি না, তা দেখা হচ্ছে না। এখনো কেন মানুষ হামে আক্রান্ত হচ্ছে, এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, হামের সংক্রমণ কমে এসেছে। আগামী ২০–২৫ দিনে আরও কমে আসবে। হাম একেবারে নিয়ন্ত্রণে কবে আসবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কেউ বলতে পারবেন না।

সমস্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে

প্রায় দুই মাস আগে ৫ এপ্রিল হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছিল। অনেকেরই আশা ছিল টিকা দেওয়া শুরু হলে হাম কমবে, নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। কিন্তু হামের সংক্রমণ ও হামের ভয় এখনো সারা দেশে রয়ে গেছে।

বরগুনা সদর হাসপাতালে সর্বশেষ ৮ দিনে ৪০ শিশু হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এই জেলায় ৬২ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ৬৫৯ জনের। মারা গেছে দুজন।

বরগুনা জেলার সিভিল সার্জন মো. আবুল ফাত্তাহ প্রথম আলোকে বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী আসছে। ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজন এসেছে। দুজন ছুটি নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘হার্ড ইমিউনিটি’ (গণ–রোগ প্রতিরোধশক্তি) হতে সময় লাগবে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মাদারীপুর জেনারেল হাসপাতালে ৪২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। ২৮ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৬৩ জন এসেছে। এই জেলায় হামে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নওগাঁর পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল ১০ জন হামের রোগী ভর্তি ছিল। এই উপজেলায় এ পর্যন্ত ৮০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে তিনজন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলা সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজন রোগী ভর্তি হয়েছে। গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২২ জন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন এ কে এম শাহাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় হামের সংক্রমণ কমলেও থামেনি। গত ১০ দিনে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ২৭৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ মাহফুজ রায়হান বলেন, এখন দুই মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশুরাই বেশি ভর্তি হচ্ছে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ১৩৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে; উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ৪৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ৭২ হাজার ৭০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৯৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কঠিন সময়ের ইঙ্গিত্র: জনমনে ব্যাপক কৌতূহল’। খবরে বলা হয়, শেখ হাসিনার পতন-পরবর্তী দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় ছিল পুরো দেশ। চারদিকে আলোচনা ছিল-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে। ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র থেমে যাবে-জনমনে এমন প্রত্যাশাই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সুধী সমাজের পাশাপাশি জনমনেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, সামনে কি দেশের জন্য আসলেই কঠিন কোনো সময় অপেক্ষা করছে, নাকি তারেক রহমান শুধু তার নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার জন্য এই বার্তা দিয়েছেন।

রোববার বিএনপির এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘প্রথমত আমাদের সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। আমাদের সামনে একই সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ও অপেক্ষা করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময়ে আমরা হেলাফেলায় চললে খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে বলে নেতাদের তিনি সতর্ক করে দেন।

অথচ বিএনপি সরকার গঠন করেছে মাত্র তিন মাস পার হলো। এ সময়ের মধ্যে সরকারপ্রধান হিসাবে তারেক রহমানের প্রটোকলবিহীন সাদাসিধে জীবন ও চলাফেরা এবং তার সরকারের নেওয়া বেশকিছু পদক্ষেপ মানুষের প্রশংসাও কুড়িয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ বিশ্লেষকই মনে করেন, দেশে এখনো পুরোপুরি কেন জানি স্বস্তি ফিরে আসেনি। কী অর্থনীতি, কী রাজনীতি-সবই যেন একই ঘূর্ণিপাকে আটকে আছে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল একদিকে সরকারের কঠোর সমালোচনা করছে, অন্যদিকে সুযোগের অপেক্ষায় উঁকিঝুঁকি মারছে গণ-অভ্যুত্থানে বিতাড়িত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। অনেকে এমনও বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হলেই আওয়ামী লীগ বেরিয়ে আসবে। এমনকি ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ফিরে আসবেন বলেও এখনো অনেকে বিশ্বাস করেন। তাদের মতে, বাংলাদেশে সরকার স্বস্তিতে দেশ চালাবে আর শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে থাকবেন, এটা কী করে হয়! প্রতিবেশী ভারতের দিকে আঙুল তুলে কেউ কেউ ইঙ্গিতপূর্ণ কথাও বলছেন। এসবের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনের ঘটনা।

কেউ কেউ বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার কথাও টেনে আনছেন। তাদের মতে, ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকার সম্পর্কের উন্নয়ন চায়। কিন্তু চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা সরকারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং কেউ কেউ ওই চুক্তি খোলাসা করার দাবি তুলছেন। এছাড়া প্রতিরক্ষাবিষয়ক আকসা ও সিজোমিয়া চুক্তি নিয়ে টকশোতে এখন প্রায় প্রতিদিনই আলোচনার ঝড় উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার কোনদিকে যাবে, তা নিয়ে পথ নির্ণয় করা বেশ কঠিন বলে অনেকে মনে করছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ভঙ্গুর অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা এবং দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি তৈরি করা। এছাড়া ক্ষমতাসীন বিএনপিকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখার পাশাপাশি অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক রক্ষা করে দেশ পরিচালনাও বেশ কঠিন বলে পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনা আছে। বলা হচ্ছে, অত্যন্ত দক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতে না পারলে সত্যিকার অর্থেই সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে; যেটি তারেক রহমান ইঙ্গিত করেছেন।

কালের কণ্ঠ

‘মন্দায় আক্রান্ত শিল্প’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত সংকটে নিমজ্জিত। মন্দায় আক্রান্ত শিল্পে ঋণের চাহিদা তলানিতে নেমেছে।

বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি তাই ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, উচ্চ সুদহার, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানিসংকট, পাহাড়সম খেলাপি ঋণ এবং বিনিয়োগবান্ধব নয় এমন করনীতি—এই চতুর্মুখী আক্রমণে নাস্তানাবুদ বেসরকারি খাত। আসন্ন জাতীয় বাজেট ঘিরে ব্যবসায়ীদের একমাত্র প্রত্যাশা, সরকার যেন বেসরকারি বিনিয়োগ চাঙ্গায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৭২ শতাংশে।

এটি ২০০৩ সাল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংরক্ষিত তথ্য অনুসারে ইতিহাসের সর্বনিম্ন। এর আগের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। মূলত ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে অবস্থান করছে। তবে নতুন ঋণের চাহিদা তলানিতে ঠেকেছে।

ব্যাংকগুলো নিরাপদ আয়ের আশায় সরকারি সিকিউরিটিজে বেশি বিনিয়োগ করছে। উচ্চ ঋণ সুদ, জ্বালানির সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা থেকে সৃষ্ট বৈদেশিক চাপ—এসবই ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার বড় কারণ।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, বেসরকারি খাতের সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিকও। বেকারত্ব বৃদ্ধি সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতি দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বড় ধরনের সতর্কসংকেত।

তাঁরা বলছেন, খেলাপি ঋণের উচ্চমাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানিসংকট, উচ্চ সুদহার, বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং বিনিয়োগবান্ধব নয় এমন করনীতি ব্যবসায়ীদের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে আরো সতর্ক হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে উদ্যোক্তারাও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অর্থনীতি মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় এই স্থবিরতা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তিই হলো বেসরকারি খাত। এই খাত যদি রুগ্ণ হয়ে পড়ে কিংবা মন্দায় আক্রান্ত হলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যেতে বাধ্য। সরকারের মূল দায়িত্বই হলো বেসরকারি খাত যাতে অর্থনীতিতে পূর্ণ অবদান রাখতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা। তাদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব আবহাওয়া তৈরি করা এবং পথের সব বাধা দূর করা।’

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে প্রতিনিয়ত তাঁদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিগত সরকারের কাছে নানা দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত সেগুলোর কার্যকর কোনো সুরাহা মেলেনি। আসন্ন বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ চাঙ্গা করার জন্য সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ থাকতে হবে। স্থবির হয়ে পড়া উন্নয়নের চাকা আবার সচল করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার বিকল্প নেই। আর সে জন্য যে সমস্যাগুলো এই খাতকে টেনে ধরছে, নতুন বাজেটে তা দূর করার স্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষের পথে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মেয়াদ আগামী ১১ জুলাই শেষ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা জরুরি।

সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে সাত ধাপে দেশের ৪ হাজার ১৩০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়। আগামী ১১ জুলাই সেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পট পরিবর্তনের পর অনেক ইউপি চেয়ারম্যান আড়ালে চলে যান। ওই বছরের অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী এমন চেয়ারম্যানের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪১৬। অবশ্য পরে কিছু চেয়ারম্যান কর্মস্থলে ফেরেন। কতজন ফিরেছেন তার হিসাব বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় নেই। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার বিভাগকে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন। এ জন্য গত ২৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সকল জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দেওয়া হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তথ্যগুলো দিতে চিঠিতে বলা হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তৎকালীন উপসচিব (ইউনিয়ন অধিশাখা) সামিউল মাসুদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদের নাম, সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের সময়, বর্তমানে কে দায়িত্ব পালন করছেন, আদালতের স্থগিতাদেশ আছে কিনা, মামলাসংক্রান্ত কোনো জটিলতা আছে কিনা এবং বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী কিনা–এসব তথ্য চাওয়া হয়। তিন দিনের মধ্যে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানালেও সেটি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছতে ১০ দিনের মতো লেগে যায়। এরপর সামিউল মাসুদ বদলি হয়ে বিআরটিএতে চলে যান। যোগাযোগ করা হলে সামিউল মাসুদ সমকালকে বলেন, ‘সব জেলা থেকে তথ্য আসার পরপরই আমাকে বদলি করা হয়। এর পরে কী হয়েছে তা আমি জানি না।’

বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ইউনিয়ন অধিশাখা) মো. আনোয়ার ইমামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, এ ধরনের তথ্য তাঁর জানা নেই। তিনি নতুন এসেছেন। কেউ এ বিষয়ে তাঁকে কিছু জানাননি। ডিসিদের পাঠানো তথ্যের বিষয়েও তিনি জানেন না। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। যখন সিদ্ধান্ত আসবে তখন নির্বাচন হবে। এটি করবে নির্বাচন কমিশন। এখানে মন্ত্রণালয়ের তো কিছু করার নেই।

অতীতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে মেয়াদ শেষে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকলেও ২০২৩ সালে আইন সংশোধন করা হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। এই আইনে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়াদ শেষের ৬ মাসের পরিবর্তে তিন মাস আগে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের বিধান করা হয়। কাজেই ২০২১ সালের প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর যারা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদের মেয়াদ আগামী ১১ জুলাই শেষ হবে।

এদিকে ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি, তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর ১ হাজার ৭টি, ২৬ ডিসেম্বর ৮৪০টি, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ৭০৭টি, ৩১ জানুয়ারি ২১৯টি এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ১৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের তেমন কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না। এখন মেয়াদ শেষ হলে তো প্রশাসক বসানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।

গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার একযোগে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের বরখাস্ত করে। ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদেরও বরখাস্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। অনেক ইউপির জনপ্রতিনিধি পলাতক হওয়ায় সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘টাকা সাদা করার সুযোগ ফিরে আসছে!’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিরে আসছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ! আগামী অর্থবছরের বাজেটে শর্ত সাপেক্ষে বেশ কয়েকটি খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হতে পারে। এই খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আবাসন খাত। এ ছাড়াও বৈধভাবে উপার্জিত বিদেশে থাকা অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে সাদা করার সুযোগও থাকতে পারে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে। এনবিআর ও অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার জন্য রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকারের ওপর একটি চাপ আছে। গত এপ্রিলে প্রাক-বাজেট আলোচনায় আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন না করার প্রস্তাব দেয় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। এ ক্ষেত্রে সংগঠনটি আয়কর অধ্যাদেশের পুরনো ধারা (১৯ বিবিবিবিবি) পুনঃপ্রবর্তনের দাবি জানায়। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে আবাসন ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালে তাদের ব্যবসা পুরোপুরি মন্দার দিকে চলে গেছে। এ সময় তারা ব্যবসায় করতে পারেননি। ফলে এখন হাজার ফ্ল্যাট তাদের অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। এইখাতের সাথে জড়িত লাখ লাখ মানুষ এখন অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে। দেশের আবাসন খাতকে চাঙ্গ করতে হলে বাজেটে অবশ্যই এ খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে দেশের কর্মসংস্থানের কোনো উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শর্তসাপেক্ষে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ আগামী বাজেটে দেয়ার বিষয়ে ওপর থেকে একটি গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেছে। তবে এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে যারা প্রথমবারের মতো অপ্রদর্শিত অর্থ দিয়ে জমি বা ফ্ল্যাট কিনবেন শুধু তাদেরকেই জরিমানা দিয়ে এ সুযোগ দেয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটি ফ্ল্যাট বা নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে (সর্বোচ্চ ৫ কাঠা) এই অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ দেয়া হবে।

সূত্র আরো জানায়, প্রবাসী যারা বৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন, এখন তারা যদি সেই অর্থ দেশে আনতে চান সে সুযোগও বাজেটে দেয়া হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের আয়ের উৎস জানাতে হবে। এবং এ অর্থ তারা কোথায় বিনিয়োগ করবেন তারও একটি শর্ত দেয়া হবে।

আগামী অর্থবছরে সরকারের প্রচুর রাজস্ব দরকার। এ খাত থেকে সরকার আশা করছে একটা ভালো রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্ল্যাট ও ভবনে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রেখেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সমালোচনার মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। ওই বাজেটে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট এবং ভবন কেনায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা হয়। তবে আগের চেয়ে করের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, এলাকাভেদে আয়তন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিলেই টাকার উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে বলে ধরে নেবে এনবিআর। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, পৌর এলাকাভেদে প্রতি বর্গফুটে ১০০ থেকে দুই হাজার টাকা করহারের প্রস্তাব ছিল। এ ছাড়া একই সুবিধা পেতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এলাকাভেদে প্রতি বর্গফুটে ৫০ থেকে ৯০০ টাকা কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

বণিক বার্তা

‘সরকারের মোট ব্যয়ের ৮৪ শতাংশই হয়েছে পরিচালন খাতে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) সরকারের মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকায়।

এ ব্যয়ের বেশির ভাগই হয়েছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার দৈনন্দিন কাজে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, মোট ব্যয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই হয়েছে পরিচালন খাতে; যার একটি বড় অংশ খরচ হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি ও ঋণের সুদ পরিশোধে।

অর্থ বিভাগের বাজেট বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রান্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রথম নয় মাসে অর্জিত হয়েছে ৫২ শতাংশ। এতে অর্থবছরের শেষ তিন মাসে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকারের ওপর ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ের বিশাল চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম তিন প্রান্তিকে মোট ৪ লাখ ৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে পরিচালন খাতেই খরচ হয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ। আবার পরিচালন ব্যয়ের ৯২ শতাংশ বা ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ছিল চলতি ব্যয়। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় করতে হয়েছে ৯৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা মোট পরিচালন ব্যয়ের ২৯ শতাংশ। পরিচালন ব্যয়ের অধীনে রাস্তা, সেতু, অবকাঠামো নির্মাণের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগমূলক খাতে যেসব ব্যয় করা হয়, সেটিকে মূলধনি ব্যয় হিসেবে অভিহিত করা হয়। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে এ খাতে ২৮ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সরকার।

পর্যাপ্ত রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় সরকারকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাপকভাবে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে রাজস্ব ও অনুদান মিলিয়ে সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা। আর অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (এপ্রিল পর্যন্ত) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকার রাজস্ব আয় এসেছে, যা সংস্থাটির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা কম।

ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ১ লাখ ২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে। তবে এ সময়ে ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে নেয়া নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ২০ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। এতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের নেয়া নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২১৮ কোটি টাকায়। বিদেশী উৎস থেকেও এ সময়ে সরকারের নেয়া নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ৯ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। নিট ঋণের পরিমাণ ঋণাত্মকের মানে হচ্ছে এ সময়ে যে পরিমাণ ঋণ নেয়া হয়েছে পরিশোধ করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি। ফলে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে চলতি অর্থবছরের নয় মাসে সরকারের নেয়া নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২৫৩ কোটি টাকায়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ২০২৫ সালের জুনে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছিল। অর্থবছরের প্রথম আট মাস তাদের অধীনে থাকলেও পরবর্তী চার মাসের দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান বিএনপি সরকার। তবে এ সরকার দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ১১ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ে। এ পরিস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে চলতি অর্থবছরেই অতিরিক্ত ৪০-৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। উদ্ভূত সংকট মোকাবেলায় সরকার এরই মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত অর্থসহায়তা চেয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নের মন্থর গতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের একটি পরিচিত প্রবণতা উল্লেখ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ নয় মাসের মধ্যে বর্তমান সরকারের সময় মাত্র ছয় সপ্তাহের মতো। পুরো সিস্টেমের এ ধীরগতির দায় কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের ওপর চাপানো যায় না। বরং এটি আমাদের প্রশাসনিক কাঠামোরই একটি নিয়মিত চিত্র। অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতার পাশাপাশি সেই অর্থ কতটা মানসম্মতভাবে ও সঠিক উদ্দেশ্যে ব্যয় হচ্ছে, সেটিই আসল চ্যালেঞ্জ। গত অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে উন্নয়ন বাজেট বা এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল সর্বনিম্ন। এ নয় মাসের পরিসংখ্যান থেকে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আগামী বাজেটে এ নয় মাসের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সতর্ক হতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে নতুন বাজেটের প্রধান লক্ষ্য। অর্থবছরের শেষ দিকে এসে কেবল লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য তাড়াহুড়ো করে ব্যয় না করে ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে এখন থেকেই নজর দিতে হবে।’

বাজেটে চলতি অর্থবছরে ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে শেষ প্রান্তিকে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে তড়িঘড়ি করে ব্যয়ের ফলে এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এতে সরকারি ব্যয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন ব্যাহত হয়। প্রতি বছরই অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে সরকারি ব্যয়ের গতি বেড়ে যায় এবং শেষ মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়।

সাবেক অর্থ সচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বরাবরের মতোই সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ ছিল পরিচালন ব্যয়। তবে মার্চ পর্যন্ত এ খাতে ৮০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র ৬৩ শতাংশ। এডিপি বা উন্নয়ন বাজেটের চিত্র আরো ধীর। চলতি অর্থবছরটি স্বাভাবিক বছর ছিল না। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অন্তর্বর্তী সরকার—সব মিলিয়ে একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড চলায় বাজেটের নিয়মিত বা কনসিস্ট্যান্ট প্যাটার্ন বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।’

সাবেক এ সিএজি আরো বলেন, ‘আগামীতে বাজেট প্রাক্কলন যেন বাস্তবসম্মত হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। বরাদ্দ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যৌক্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে কাজ এগিয়ে নিতে হবে। প্রকল্প পরিচালক ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসনিকভাবে আরো সক্রিয় ও মোটিভেট করতে হবে।’

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘কী চমক দেখাবেন অর্থমন্ত্রী’। খবরে বলা হয়, দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সরকার। এর মধ্যে বিগত সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে ভেঙেপড়া অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ সব থেকে বড়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বিগত সময়ে শুধু ব্যাংকিং খাত থেকে চুরি হয়েছে পাঁচ লাখ কোটি টাকা। অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্নীতির ফলে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত পুঁজিবাজার। অর্থসংকটে বন্ধ হয়েছে শত শত কল-কারখানা। আবার বন্ধের উপক্রম উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী অনেক শিল্প। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার ফলে জ¦ালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রয়েছে উদ্বেগজনক অবস্থায়। এ থেকে উত্তরণে নির্বাচনী ইশতেহারকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পরিকল্পনা করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যা আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবেন তিনি। যেখানে থাকবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল। নতুন কিছু চমকও দেখাতে হবে অর্থমন্ত্রী হিসাবে তার প্রথম এই বাজেটে। তবে বিশাল এ বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। কারণ অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সার্বিকভাবে অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।

প্রায় ২০ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তবে ৩০ বছর আগে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সময়ে দলটি এককভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এখন তার ছেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দীর্ঘ দিন সরকারের বাইরে থাকায় নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এ সময়ে সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

তারা বলছেন, সরকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যেসব সমস্যা মোকাবিলা করছে, এসব ঝুঁকি বা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের টেকসই পরিকল্পনা না থাকলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এটা সমাধানে আগামী বাজেটে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। শুধু বাজেট প্রণয়ন করলেই হবে না, বরং ব্যয়ের দক্ষতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং রাজস্ব আহরণের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ তাদের।

সরকার আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পরিকল্পনা তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর ঘাটতি হতে পারে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প, সৃজনশীল অর্থনীতি, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, খাল কাটা কর্মসূচি এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। সম্প্রতি বাজেট বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাজেটের আয়-ব্যয়, কর কাঠামো, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি, ঘাটতি বাজেট, মূল্যস্ফীতি, নবম পে-স্কেল, বিনিয়োগ, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি ঋণের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচির ভাতা ও উপকারভোগী বৃদ্ধির বিষয়ে ঘোষণা থাকবে আগামী বাজেটে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘ভূমি অফিসে দুর্নীতির দৌরাত্ম্য’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কিছুতেই ভূমি অফিস থেকে দুর্নীতির ভূত তাড়ানো যাচ্ছে না। ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি নানা উদ্যোগের মধ্যেই দেশের ভূমি অফিসগুলোয় প্রকাশ্যে চলছে দুর্নীতি-অনিয়মের রামরাজত্ব। দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ভূমিসেবা। নামজারি, খাজনা, জরিপ, মাঠ পর্চা ও রেকর্ড সংশোধনের মতো সাধারণ সেবা পেতে ঘুরতে হচ্ছে মাসের পর মাস। অথচ নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলেই মিলছে দ্রুত সমাধান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিস ঘুরে নাগরিক হয়রানির ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। সেই তথ্য পাঠিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালাল চক্র মিলে এমন এক অঘোষিত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে, যেখানে নিয়মের চেয়ে ‘লেনদেন’ই বড় হয়ে উঠেছে। ফলে জমির বৈধ মালিকরাও নিজেদের জমির রেকর্ড, নামজারি কিংবা খাজনা-সংক্রান্ত কাজে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ছেন। রংপুরে একই জমি দুই পক্ষের নামে নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মহানগরীর পার্বতীপুর মৌজায় জোরপূর্বক জমি দখলের ঘটনায় সাতগড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া ওয়ারিশ তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত হলেও দীর্ঘদিনে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

এ ছাড়া সদর উপজেলার আলমনগর মৌজায় একই জমি দুই পক্ষকে নামজারি করে মালিকানা দেওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখনো মেলেনি সমাধান। রংপুর জজ কোর্টের আইনজীবী ও মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ডলাশ কান্তি নাগ বলেন, ভূমি অফিসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি করছেন। ভূমি অফিসের দুর্নীতি এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মেহেরপুরে চলমান ভূমি জরিপ কার্যক্রমেও উঠেছে ভয়াবহ হয়রানির অভিযোগ। জমির মালিকদের অভিযোগ, সামান্য অসঙ্গতির অজুহাতে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে। কিন্তু দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে দ্রুত কাজ হয়ে যাচ্ছে। সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। গাংনী উপজেলার বামুন্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহিরাগত ব্যক্তিকে দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ আদায়ের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, নামজারি, খাজনা ও দলিলসংশ্লিষ্ট কাজের জন্য আবেদনকারীদের সরাসরি কর্মকর্তার কাছে না পাঠিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

যদিও মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেছেন, জেলার প্রতিটি ভূমি অফিসে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো বহিরাগত দালাল প্রবেশ করতে পারবে না। দালাল নির্মূলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। বগুড়ায়ও ডিজিটাল সার্ভে বা জরিপ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জমির বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারীদের বারবার নতুন কাগজ জমা দিতে বলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা, রেকর্ডে ভুল দেখানো কিংবা শুনানির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

আমজনতা

১ মাস আগে

আমার বাসা বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি, আদাবরে। এই এলাকায় মশার যা দাপট তা দেখে আমরা ভুলেই গিয়েছি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বলে আদৌ কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আছে! দিনের বেলাতেও মশারী বাদে টিকে থাকা দায়-ঝাঁকে ঝাঁকে মশা জেঁকে ধরে। রাত্রী বেলায় মশারী টানানোর পর বাইরে যে পরিমান মশার উপস্থিতি দেখা যায় তাতে মনে হয় না আমরা কোনো ফ্ল্যাটে বসবাস করছি, মনে হয় কোনো জংগলে শুয়ে আছি। ২/৪ মাস আগেও ফগার মেশিনের শব্দ শোনা যেত-যদিও ঐ মেশিন দিয়ে যা ছেটানো হতো তাতে জন-দূর্ভোগ ছাড়া মশার কোনো ক্ষতি হতো বলে মনে হয়নি। শুনতে পাই, সিটি কর্পোরেশনের নাকি মশা নিধনে ফি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ থাকে। সেই টাকা মশা নিধনে বদলে প্রজননে সহায়তা হয় কিনা আল্লাহ মালুম! সদ্য নিযুক্ত মহামান্য প্রশাসকগনের শুধুমাত্র বিতর্ধিত মন্তব্য করে ভাইরাল হওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ আছে বলে মনে হয় না!

মন্তব্য করুন