রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলেদের ছোট একটি গ্রাম সেদাঙ্কা। কঠিন আবহাওয়া ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে জীবনযাপন করা এই গ্রাম এখন নতুন সংকটের মুখোমুখি। ইউক্রেনের সঙ্গে টানা কয়েক বছরের যুদ্ধের কারণে গ্রামটির অধিকাংশ কর্মক্ষম পুরুষই এখন আর গ্রামে নেই।
বিবিসির রিপোর্ট বলছে, সেদাঙ্কা কামচাটকা উপদ্বীপের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে, ওখোটস্ক সাগরের কাছে অবস্থিত। ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার। চারদিকে বন ও জলাভূমি থাকায় মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নদীপথ বা বিশেষ ট্র্যাকযুক্ত যান ছাড়া যাতায়াত সম্ভব নয়। শীতকালে সেখানে পৌঁছানো যায় শুধু স্নোমোবাইল বা হেলিকপ্টারে।
গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িতে চলমান পানি, ঘরের ভেতর শৌচাগার বা কেন্দ্রীয় হিটিং ব্যবস্থা নেই। শীতকালে তাপমাত্রা প্রায়ই মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগও খুব কম। অধিকাংশ মানুষ মাছ ধরা ও নিজেরা খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী প্রায় সব পুরুষই ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। ২৫৮ জনের এই গ্রাম থেকে ৩৯ জন রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত এবং সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন।
নাম গোপন করার শর্তে একজন বাসিন্দা বলেন, প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকেই কেউ না কেউ যুদ্ধে গেছে। তিনি জানান, তার বোনের স্বামী ও কয়েকজন আত্মীয় বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন।
২০২৪ সালের মার্চে আঞ্চলিক গভর্নর গ্রামটি পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় নারীরা জানান, তাদের প্রায় সব পুরুষ ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’ গেছেন। তারা বলেন, শীতের জন্য চুলা জ্বালাতে কাঠ কাটার মানুষও এখন নেই।
বিবিসি ও রুশ সংবাদমাধ্যমের যৌথ যাচাইয়ে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি রুশ সেনার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মোট নিহতের সংখ্যা ৮০ হাজারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৪ সালে নিশ্চিত নিহতের সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৩৬২। এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ১০২ জন রুশ সেনার নাম শনাক্ত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের পক্ষেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক হিসাবে ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রের অনুমান অনুযায়ী এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহতদের বড় অংশই গ্রাম ও ছোট শহরের বাসিন্দা। বিশেষ করে সাইবেরিয়া ও দূরপ্রাচ্যের দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে মৃত্যুর হার বেশি। সেদাঙ্কা গ্রামে মূলত কোরিয়াক ও ইতেলমেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস।
২০২৪ সালের শরতে গ্রামে বিশেষ সামরিক অভিযানের অংশগ্রহণকারীদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করা হয়। আঞ্চলিক সরকার গ্রামটিকে সামরিক গৌরবের গ্রাম উপাধি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সেনাদের পরিবারের জন্য সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণাও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
যুদ্ধের কারণে সেদাঙ্কার মতো প্রত্যন্ত একটি গ্রাম এখন কর্মক্ষম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে গ্রামটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

Md shamsuzzoha
৩ মাস আগেআমরা সবাই সজাগ দৃষ্টিতে দেখি যুদ্ধ করে কোন দেশ এগোতে পারেনি আমদের উচিৎ এগুলো পরিহার করা