জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধার সাঘাটার মথরপাড়া (বটতলাবাজার) এলাকার ‘আব্দুস সালাম মাস্টার-মনোয়ারা বেগম পাঠাগার’-এর উদ্যোগে এক বিশেষ পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়। পাঠাগার হলরুমে এই সাহিত্যিক আলোচনা ও পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নজরুলের জীবন, সাহিত্য এবং বাঙালি জাতিসত্তা গঠনে তার অবদানের ওপর আলোকপাত করা হয়। পাঠাগারের সভাপতি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে পাঠচক্রটি স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমী ও তরুণদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
পাঠচক্রে বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম এই জাতির মুক্তির জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন। বৃটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে যেকোনো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক তুমুল প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে তার কলম কখনো থেমে থাকেনি। বাংলা সাহিত্যের সব শাখাতেই তিনি অনন্য মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। গান, কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প কিংবা উপন্যাস সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে কবি নজরুলের স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এমন কালজয়ী ও প্রতিভাবান কবি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে এক মর্যাদাপূর্ণ ও উঁচু স্থান দিয়েছেন। পাঠচক্রে সভাপতির বক্তব্যে ওমর ফারুক অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন সহ-সভাপতি সামছুল কবির সেলিম ও মোন্তাছির রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুর রহমান, অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোকছেদুর রহমান, রাজু আহম্মেদ, জিহাদ মণ্ডল, সোহাগ খন্দকার, আরাফাত ইসলাম রিফাত এবং হেলাল উদ্দিনসহ পাঠাগারের নিয়মিত সদস্যবৃন্দ। প্রাণবন্ত এই পাঠচক্রে উপস্থিত সকলে নজরুলের সাহিত্যকর্ম থেকে কবিতা আবৃত্তি ও পাঠ করেন। সবশেষে, নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের বই ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এই উৎসবমুখর ও জ্ঞানগর্ভ পাঠচক্রের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
