চলন্ত ট্রলার থেকে নদীতে নিক্ষেপ

লাখাইয়ের সেই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় চলন্ত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেয়ার পর নিখোঁজ হওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক মো. ফখরুদ্দিনের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ হওয়া স্থানেই রোববার তার মৃতদেহ ভেসে ওঠে। এর আগে গত শনিবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে লাখাই থানাধীন ৬নং বুল্লা ইউনিয়নের ভরপূর্ণী গ্রামস্থ বাজারের পশ্চিম-দক্ষিণে ভলাকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন ‘মরা গাং’ নদীতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ফখরুদ্দিন ভরপূর্ণী নোয়াহাটি (৬নং ওয়ার্ড, বুল্লা ইউপি) গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক ও মৃত মোস্তফা খাতুনের ছেলে। এলাকায় তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুর অনুমান ১টা ১৫ মিনিটে বুল্লা বাজার থেকে সুজাতপুরগামী একটি যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নৌকা ছেড়ে আসে। ওই নৌকায় ফখরুদ্দিনসহ অন্য যাত্রীরা ছিলেন। নৌকাটি ভরপূর্ণী গ্রামের নিকট পৌঁছালে মানসিক ভারসাম্যহীন ফখরুদ্দিন হঠাৎ নৌকার যাত্রী ঝর্ণা চৌধুরী (২২) নামের এক নারীকে অতর্কিতভাবে টাকা চেয়ে জড়িয়ে ধরেন। মানসিক ভারসাম্যহীন ফখরুদ্দিনের এটা ছিল অভ্যাস। সে সহজ সরল নারী পুরুষ যে কাউকে টাকার জন্য জড়িয়ে ধরতো। কিন্তু সেটা জানতেন না ঝর্ণা চৌধুরী। তাই তিনি এ সময় চিৎকার করে। চিৎকার শুনে নৌকার ছাদে থাকা তার স্বামী মো. রাসেল মিয়া (২২) এবং অপর যাত্রী মো. বোরহান মিয়া (২৬) দ্রুত নৌকার ভেতরে আসেন। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ফখরুদ্দিনকে নৌকা থেকে টেনে বের করেন এবং একপর্যায়ে চলন্ত নৌকা থেকেই ভলাকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন মরা গাং নদীতে ফেলে দেন।

ফখরুদ্দিন নদীতে পড়ে যাওয়ার পর নৌকায় থাকা তার পরিচিত অন্য যাত্রীরা তাৎক্ষণিক নৌকা থামিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উৎসুক ও ক্ষুব্ধ জনতা ভরপূর্ণী বাজারে অভিযুক্ত রাসেল ও বোরহানকে আটকে রাখে। সংবাদ পেয়ে লাখাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং দিবাকালীন টহল পার্টির দায়িত্বে থাকা এসআই মুন্না মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে তারা জনরোষ থেকে অভিযুক্ত দু’জনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যান। আটককৃতরা হলেন- মোড়াকরি গ্রামের মো. ফারুক মিয়ার ছেলে ও ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মো. রাসেল মিয়া (২২) এবং লাখাইয়ের বুল্লা বাজারের মৃত আমানুল্লাহর ছেলে মো. বোরহান মিয়া (২৬)।

রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঘটনাস্থলেই ফখরুদ্দিনের মৃতদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয়রা বিষয়টি লাখাই থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এই বিষয়ে লাখাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন