পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসে সংকট কাটতে চাইছে না। একাধিক নেতা দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন। এরই মধ্যে বিধানসভায় সই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত বিধায়করা। পুলিশের সিআইডি তদন্তও শুরু করেছে জাল সই নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিধায়ক সই জালের বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তার ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। শুভেন্দু জানান, পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তার কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডি-কে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বলে জানা গেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কার করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে ই- মেইল এবং হোয়াট্সঅ্যাপ মারফত জানিয়ে দেয়া হয়েছে। দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও।
বহিষ্কারের পর সন্দীপন বলেন, যারা অনৈতিক কাজ করে, দল তাদের সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করে। আমরা তো জানতামই না, একটা হাজিরা খাতার সইকে প্রস্তাবের সই বলে চালানো হবে। পরিষদীয় ক্ষেত্রে এই দু’জনের ভূমিকা কী হবে? নিয়ম অনুযায়ী, এই দুই বিধায়ক ‘দলহীন’ হিসেবে থাকবেন। রাজ্যসভা নির্বাচন বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে দলের হুইপ বা নির্দেশ মানতে তারা বাধ্য থাকবেন না। পৃথক কোনো ঘটনায় তৃণমূল তাদের সদস্যপদ বাতিলেরও আবেদন জানাতে পারবে না।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই সই জালকাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের ৪ জন বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার মধ্যে তিনজন স্বীকার করেছেন, তারা সই করেন নি। এরপরই বিধানসভায় বিধায়কদের নামের তালিকা সই সহ পেশ করার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সিআইডি তলব করেছে। অবশ্য অভিষেক শারীরিক অবস্থার অজুহাতে ১০ দিন সময় চেয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসে সংকট
দুই নির্বাচিত বিধায়ককে বহিষ্কার
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
২ জুন (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
