নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরসহ উপজেলার শতাধিক দোকানে ভেজাল ও নিম্নমানের জৈব সারের রমরমা বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ মিলেছে। সেইসঙ্গে ইউরিয়াসহ অন্যান্য সারও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকের। ক’জন অসাধু ব্যবসায়ী নিজ গোডাউনে কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল জৈব সার উৎপাদন করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের লোকজনের সঙ্গে ওইসব জৈব সার উৎপাদকের চুক্তি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ থাকলে সৈয়দপুরে আর উৎপাদন হবে না ভেজাল জৈব সার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বেঁচে যাবেন শত শত কৃষক।
জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা বাংলাদেশ সচিবালয় এর এক আদেশে বলা হয়, নকল সার, কীটনাশক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সকল জেলা ও উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়া হলেও তারা কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছেন না। বরং উক্ত আদেশকে পুঁজি করে ভেজাল জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাসোহারা নেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, সৈয়দপুর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে যেসব কীটনাশক বিক্রি করা হচ্ছে, সেগুলোর প্যাকেটে নেই কোনো উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ। এমন ধরনের ওষুধ যেমন দস্তা, ম্যাগনোসিয়াম, বোরাঙ্ক, বোরন, জিপসাম, সালফার, সহ ম্যাটালিঙ্ক, দানাদার কীটনাশক কার্বোফুরান, ডায়াজিননসহ বিভিন্ন ধরনের কোম্পানীগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের লোকজন। ওইসব ভেজাল ও চটকদার মোড়ক দেখে বোঝার উপায় নাই কোনটা আসল কোনটা নকল। এছাড়া ওষুধের প্যাকেটের গায়ে কোম্পানি পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাও লেখা নেই। আছে শুধু মেইড বাই ঢাকা, চীন বা ইন্ডিয়া। প্যাকেটের গায়ে লেবেলে ব্যাচ নং, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর, উৎপাদন তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ, এমনকি কোম্পানির সুনির্দিষ্ট ঠিকানাও নেই। কৃষকদের অভিযোগে জানা গেছে, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় সৈয়দপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব সার তৈরির পর বিক্রি করে সর্বস্বান্ত করছে সহজ সরল কৃষকদের। এরপরেও কৃষি বিভাগ দেখছেন না লাইসেন্স এবং দেখছেন না কোন উপায়ে জৈব সার উৎপাদন করছে। সৈয়দপুর শহরের কৃষিবিদ আখতার হোসেন বলেন, জৈব সার তৈরি করতে প্রয়োজন, গোবর, হাড়ের গুঁড়া, ছাই, ডিমের খোসা, চা-পাতা, কচুরিপানা ও মুরগির লিটার। এরপর সেগুলো একবছর রেখে দিতে হবে। যখন দুর্গন্ধ থাকবে না, তখন প্যাকেট করে বাজারজাত করতে হবে। কিš‘ সৈয়দপুরের জৈব সার উৎপাদনকারীরা রং মিশ্রিত বালু, লাল মাটি, সামান্য ছাই ও কেমিক্যাল মিশ্রণ করছেন। উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কেমিক্যাল মিশ্রিত জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের চটকদার মোড়ক দেখে আকৃষ্ট হচ্ছেন কৃষকরা। আর ওই সার ব্যবহারের পর অনেক কৃষকের চাষাবাদ নষ্ট হয়েছে ও হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিধুভূষণ রায় বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব কাজ কেউ করতে না পারেন সেজন্য আমাদের তদারকি রয়েছে বলে জানান তিনি।
