ইথিওপিয়ার আঞ্চলিক এবং সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ সোমবার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশজুড়ে চরম অস্থিতিশীলতার পরও এই নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয় লাভ করবেন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী আবেই আহমেদের দল। দেশটিতে প্রায় ৫ কোটি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। তবে এই নির্বাচনে দেশটির উত্তরের টাইগ্রে অঞ্চলে ভোট অনুষ্ঠিত হবে না। কারণ হিসেবে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ সেখানের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। অঞ্চলটিতে ২০২০-২২ সাল অব্দি গৃহযুদ্ধ চলেছে। এরপর থেকে সেখানে রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে।
৪৯ বছর বয়সী আবেই জাতীয় রাজনীতিতে তার হাত শক্তিশালী করতে চাইছেন। সে ২০১৮ সালে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা ইপিআরডিএফ এর বিরুদ্ধে একটি আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এবং ইথিওপিয়ার ক্ষমতায় বসেন। ২০২১ সালে তার গঠিত প্রসপারিটি পার্টি সংসদ নির্বাচনে ৪৮৪ আসনের মধ্যে ৪১০ টি আসনে জয়লাভ করে। প্রতিবেশি দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে বিবাদ মিমাংসা করার কারণে ২০১৯ সালে তিনি নোবেল পুরুষ্কার লাভ করেন। ইরিত্রিয়া ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়ার নিকট থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। তবে এরপরও উভয়দেশের মধে চলমান সংঘাত অঞ্চলটির জন্য মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবেই’য়ের প্রসপারিটি পার্টির প্রার্থীরা ইথিওপিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাফল্য দেখিয়ে নির্বাচনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দেশটি ১০ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বলা হচ্ছে যা আফ্রিকা অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আফ্রিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশটিতে ১৩ কোটি ৫০ লাখের অর্ধেক অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সী। তরুণ এই জনসংখ্যা দেশটির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হাজির করেছে। আবেই তাদের মানবসম্পদে পরিণত করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রতিপক্ষ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুর্বল হওয়ায় নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষায় পরতে হচ্ছে না আবেই’য়ের দলকে। তবে প্রতিপক্ষ অভিযোগ জানিয়েছে তাদের নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং নির্বাচনে অংশ নিতে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও মানবাধিকার সংস্থা এবং সাংবাদিকরা ইথিওপিয়ার ক্ষমতাসীনদের নিপীড়নের সমালোচনা করেছেন। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ থামলেও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলমান। এতে হাজারের অধিক নিহত হয়েছেন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে।
