বাংলাদেশি নিহত ৬ শান্তিরক্ষী পাচ্ছেন জাতিসংঘের সম্মানজনক পদক

বাংলাদেশি নিহত ৬ শান্তিরক্ষী পাচ্ছেন জাতিসংঘের সম্মানজনক পদক

ফন্ট সাইজ:

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বীরত্বের সঙ্গে নিহত হন ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। এবার তাদেরকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ। নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী হলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং শান্ত মন্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেই এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হন। আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ পদক প্রদান অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস পদকগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবেন। এটি হবে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠান।

খবরে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে ইউনিফর্মধারী জনবল সরবরাহে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ। দেশটি ৪ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে ২৭৭ জন নারী সদস্য। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব শান্তিরক্ষীদের সম্মানে সদর দপ্তরে প্রায় ৪,৫০০ নিহত শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত এরা দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন। এ বছর মোট ৬৮ জন শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হবে। তারা বিভিন্ন দেশ থেকে গিয়েছিলেন এবং দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৯ জন গত বছর নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৫০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছেন। মোট ১১৮টি দেশ ১১টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল পাঠিয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ঘোষণা করে।

২৯ মে তারিখটি বেছে নেয়া হয়। কারণ ১৯৪৮ সালে এই দিনেই প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনাইটেড নেশনস ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনভেস্ট ইন পিস’। এটি বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং সীমিত সম্পদের প্রেক্ষাপটে শান্তিরক্ষার জন্য টেকসই রাজনৈতিক ও আর্থিক সমর্থনের গুরুত্বকে তুলে ধরে। জাতিসংঘ মহাসচিব তার বার্তায় শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শান্তিরক্ষী বাহিনী অতীত ও বর্তমান উভয় সময়ের সাহসী সদস্যদের অবদানকে সম্মান জানানো প্রয়োজন।

তিনি তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বলেন, শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দিচ্ছেন, সহিংসতা প্রতিরোধ করছেন এবং শান্তির আশা জিইয়ে রাখছেন। অনুষ্ঠানে আরও প্রদান করা হবে ক্যাপ্টেন এমবায়ে দিয়াগনে মেডেল ফর এক্সেপশনাল কারেজ, মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড এবং ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন